advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কোচিং স্টাফদের সামনে চ্যালেঞ্জ

এম.এম. মাসুক
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০৯
advertisement

করোনা ভাইরাসের কারণে থমকে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। একের পর এক সিরিজ স্থগিত হয়ে গেছে। এশিয়া কাপকে ঘিরে বড় আশা ছিল। সেটিও পিছিয়ে গেছে। চলতি বছর বাংলাদেশের সামনে সেভাবে আর কোনো খেলা নেই। আগামী অক্টোবরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড সফরে যেতে পারে টাইগাররা। আগামী সেপ্টেম্বরে শ্রীলংকা সফরে যেতে পারে বাংলাদেশ এইচপি দল। এর পর অক্টোবরে শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ড রাজি হলে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার জন্য সফরে যেতে পারে বাংলাদেশ দলও। এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটের মাধ্যমে মাঠে ফেরার সুযোগ মিলতে পারে দেশের ক্রিকেটারদের। কেননা ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ স্থগিত কিংবা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়নি। যা-ই হোক, এখনো মাঠের অনুশীলনে ফেরেননি ক্রিকেটাররা। যদিও ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, আগামী আগস্টে ক্রিকেটারদের একটি কন্ডিশনিং ক্যাম্প করা হবে। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি তারা। অলস সময় কাটছে। সর্বশেষ গত মার্চে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছিল টাইগাররা। চার মাসের মতো খেলায় নেই তারা। এ দীর্ঘ বিরতির পর তাদের আগের অবস্থায় ফেরানো যাবে? সেটি চিন্তার বিষয়। তবে ক্রিকেটারদের আগের রিদমে ফেরাতে হলে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে কোচিং স্টাফদের। খেলোয়াড়দের ফিটনেস, স্কিল ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো জানিয়েছেন, আবার খেলা শুরু করা সহজ হবে না। একটি দল হিসেবে সময় নিয়ে কাজ করতে হবে তাদের। টেকনিক্যালি, মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্রিকেটারদের পুরোপুরি ফিট হতে সময় লাগবে। তিন-চার দিনে সব ঠিক হয়ে যাবেÑ বিষয়টি এমন নয়। মাঠে ফিরতে মুখিয়ে আছেন ক্রিকেটাররা। ফিটনেস ধরে রাখার জন্য নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। অনলাইনের মাধ্যমে কোচিং স্টাফরাও নির্দেশনা দিচ্ছেন; চিকিৎসকদের নির্দেশনাও রয়েছে। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, সবার মতো ক্রিকেটাররাও মাঠে ফিরতে চায়। ঘরে কীভাবে ফিটনেস ধরে রাখা যায় কোচিং স্টাফরা, মেডিক্যাল টিম তাদেরকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। নিজেদের খেলার পুরনো ভিডিও দেখা ও বিশ্লেষণ করছেন তারা। কঠিন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়ের উৎসাহ দিয়ে যেতে হবে সবাইকে। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান মনে করেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ বিরতি বাংলাদেশ ক্রিকেটে বড় প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়া টিম কিংবা ইংল্যান্ড টিমের মতো না। যারা অল্প প্র্যাকটিস করে অল্পতেই মানসিক ও শারীরিকভাবে এবং তাদের যে ফ্যাসিলিটিজ আছে, তারা প্রস্তুত হয়ে যাবে।’ ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করতে বাড়তি দায়িত্ব নিতেই হবে কোচিং স্টাফদের। করোনা-পরবর্তী সময়ে মাঠে ফেরার ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জও থাকবে। সে ক্ষেত্রে কিছু খেলোয়াড় নিজেদের দ্রুত মানিয়ে নিলেও বেশির ভাগ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এ ক্ষেত্রে কোচিং স্টাফদের একটা বড় ভূমিকা থাকবে। কীভাবে তাড়াতাড়ি খেলোয়াড়রা আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে তা নিয়ে কাজ করবেন কোচিং স্টাফরা। কোনো ক্রিকেটারের সময় কম লাগবে, আবার কারও সময় বেশি লাগবে। এই মানিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে কোচিং স্টাফদের ওপর অনেক দায়িত্ব থাকবে। ফিটনেসের ব্যাপারে সবাই কম-বেশি কাজ করছে। তবে ব্যাটে-বলে কীভাবে হবেÑ সে ক্ষেত্রে কোচিং স্টাফরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন করে শুরু করার ক্ষেত্রে কোচিং স্টাফদের দায়িত্ব বেশি থাকবে। অবশ্য খেলোয়াড়রাও কত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারে সেটাও বড় ব্যাপার। ক্রিকেট কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে কিছু খেলোয়াড় খুব তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারবে। তাদের সময় লাগবে না। কিছু খেলোয়াড়ের হয়তো একটু সময় লাগতে পারে। কারণ এটা নির্ভর করে, অনেকের হয়তো অনেক বেশি প্র্যাকটিস করার অভ্যাস ছিল। এখন তো কিছুই নেই। অনেকে বেশি প্র্যাকটিস করে তার রিদমটা নিয়ে আসতে পারে। আবার অনেকে কম প্র্যাকটিস করেও তার রিদমটা নিয়ে আসতে পারে। এটা নির্ভর করে অনেক কিছুর ওপরই।’ খেলোয়াড়দের ক্যাম্প শুরু হলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচিং স্টাফরা সবাই উপস্থিত থাকবেন। বিসিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাজে যোগ দিতে প্রস্তুত আছেন ডমিঙ্গোরা। আগের মতো ব্যাটে-বলের লড়াইয়ে ক্রিকেটারদের ফেরাতে হলে কঠোর পরিশ্রম করেই যেতে হবে কোচিং স্টাফদের। তাদের সামনে যে বড় চ্যালেঞ্জ থাকছেÑ সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

advertisement
Evaly
advertisement