advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তিস্তার স্রোতে ল-ভ-দহগ্রাম আঙ্গরপোতা

মিজানুর রহমান মিজু, লালমনিরহাট
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ ০০:২৫
advertisement

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বহুল আলোচিত এক ভূখ- দহগ্রাম আঙ্গরপোতা। তিন দিকে ভারত আর এক দিকে তিস্তা নদী বেষ্টিত ভারতের অভ্যন্তরে ২১.৮০ বর্গমাইলের দহগ্রাম ইউনিয়ন। পূর্বদিকে বাংলাদেশিদের মূল ভূখ-ে আসার একমাত্র পথ বিএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন তিনবিঘা করিডোর। দহগ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ইউনিয়নটির আয়তন ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। কপাল পুড়ছে শত শত পরিবারের। মাথা গোঁজার ঠাঁই, বসতভিটা, আবাদি জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে দিনযাপন করছেন তারা।

দহগ্রামের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে বয়ে যাওয়া সীমান্তের ওপারের মেখলিগঞ্জ দিয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় প্রবেশ করেছে ভারতের সিকিমে উৎপত্তি হওয়া নদী তিস্তা। আর এই নদীটি লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার ওপর দিয়ে চলে গেছে কুড়িগ্রাম জেলায়। যার কারণে বন্যা হলেই দহগ্রামে প্রথম ধাক্কা সহ্য করতে হয়।

গত রবিবার (১২ জুলাই) রাতে হঠাৎ ভারত গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেয়। এতে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতি পরিবর্তন ঘটে। তীব্র স্রােতে দহগ্রামের তিনটি ওয়ার্ডে তীরবর্তী এলাকা ল-ভ- করে ফেলে। তিস্তা নদী ভারতীয় অংশে ভাঙছে না, অনবরত ভাঙছে বাংলাদেশি অংশে। ফলে বিলীন হচ্ছে দহগ্রাম আঙ্গরপোতার বিস্তীর্ণ এলাকা। এখানকার সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলো দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, সীমান্তের ওপারের মেখলিগঞ্জ দিয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রামে প্রবেশ করেছে তিস্তা। এর পর কিছুটা পথ বেয়ে দহগ্রাম ইউনিয়নের সর্দারপাড়া নামক এলাকা। ওই দিন রাতেই তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে পানির গতি পরিবর্তন হয়ে দহগ্রামের সর্দারপাড়ায় ঢুকে পড়ে তিস্তার পানি। এতেই দহগ্রামের তিনটি ওয়ার্ড ল-ভ- হয়ে যায়।

এদিকে তিস্তা ফুলে-ফেঁপে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ গত রবিবার রাতে বিশেষ সতর্কতা জারি করে। লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিংও করা হয়। হাতীবান্ধা-বড়খাতা বাইপাস সড়কে পানির চাপ ঠেকাতে

এলাকার লোকজন বালির বস্তা ফেলে। এ সময় নদীর পানি উপচে তীরবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হয়। ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষের বাড়িঘর-বতসভিটা। আবার বানের পানি নামতে না নামতে শুরু হয় আগ্রাসী ভাঙন। নিঃস্ব হচ্ছেন নদীপারের অনেক মানুষ।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, প্রতিবছর তিস্তার ভাঙনে দহগ্রাম এলাকা ছোট হয়ে যাচ্ছে। তিস্তা নদীর ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নিলে দহগ্রাম ইউনিয়নটি বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। তাই বাংলাদেশের এ ভূখ-টির অস্তিত্ব রক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসার আবেদন জানান তিনি।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাঁধ ভেঙে পানি পথ পরিবর্তন করে ঘূর্ণি পাকিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় প্রবল স্রােতে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি, বিদ্যুতের খঁটি, পাকা রাস্তাসহ ফসলি জমি বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের শিকার মানুষগুলো বসতিটা, আবাদি জমিসহ সবকিছু হারিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে বাঁধ, রাস্তা বা অন্যের জমিতে।

ওই এলাকার আফরোজা বেগম বলেন, তিস্তা এভাবে বাড়িঘরসহ সব কিছু ভেঙে নিয়ে যাবে- এটা কোনোদিন ভাবতে পারিনি। ৩০ বছরেও এমন বন্যা আমার চোখে দেখিনি। মনে হলো যেন একটি ঘূর্ণিঝড়। যে দিক দিয়ে পানি চলে গেছে, সব ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের বেশি কিছু চাওয়ার নেই। শুধু একটি বাঁধ নির্মাণ হলেই দহগ্রামের মানুষ সব কিছু থেকে রক্ষা পাবে।

advertisement