advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বর্ষীয়ান রাজনীতিক শাজাহান সিরাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ ১১:৫৫
advertisement

আমাদের মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা প্রবীণ রাজনীতিক শাজাহান সিরাজ রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। তিন দফা জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গতকাল বুধবার তাকে দাফন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের অমোচনীয় অনেক ইতিহাসের সাক্ষী ৭৭ বছর বয়সী সাবেক এ মন্ত্রী গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মৃত্যুবরণ করেন। তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায়; দ্বিতীয় জানাজা বাদ জোহর কালিহাতীতে এবং তৃতীয় জানাজা বাদএশা গুলশান সোসাইটি মসজিদে।

বর্ষীয়ান এ রাজনীতিকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শোকবার্তায় সদ্যপ্রয়াতের বিদেহী আত্মার

মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত

পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গতকাল জানানো হয়- শাজাহান সিরাজের স্ত্রী রাবেয়া সিরাজ ও তার মেয়ে সারওয়াত সিরাজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং শোকাহত পরিবারকে সান্ত¦না দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে শাজাহান সিরাজের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

১৯৪৩ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জন্মগ্রহণ করেন মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজ। অনেক দিন ধরেই তিনি ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা ও উচ্চরক্তচাপসহ নানা ব্যাধিতে ভুগছিলেন। ২০১২ সালে তার ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে। কয়েক বছর পর তার মস্তিষ্কেও ক্যানসার ধরা পড়ে। তখন থেকেই রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন শাজাহান সিরাজ।

বাদএশা গুলশান সোসাইটি মসজিদে শাজাহান সিরাজের জানাজায় অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপি নেতা তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, ঢাকা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মীয়া প্রমুখ। জানাজার পর ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, শাজাহান সিরাজের মৃত্যুতে ইতিহাসের আরেকটি পাতা ঝরে পড়ল। জাতির দুর্ভাগ্য নতুন প্রজন্মকে এ ইতিহাস জানানো হয় না। আমি এ জন্যই তাকে সালাম জানাতে এসেছি। তিনি আরও বলেন, একাত্তরের দুই তরুণের একজন আ স ম আবদুর রব, আরেকজন শাজাহান সিরাজ। তারাই তখন দেশের স্বাধীনতার ঝা-া তুলে ধরেছিলেন।

গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজ মাঠে শাজাহান সিরাজের প্রথম এবং ২টা ৩০ মিনিটে কালিহাতী সদরে শাজাহান সিরাজ কলেজ মাঠে দ্বিতীয়বার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে শাজাহান সিরাজের মরদেহ ঢাকা থেকে এলেঙ্গায় পৌঁছায়। এ সময় স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাকে শেষবার এক নজর দেখতে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ সেখানে জমায়েত হন। পরে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম আরা নিপার উপস্থিতিতে এ মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। শাজাহান সিরাজের জানাজায় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। করোনা ভাইরাসের কারণে সামাজিক দূরত্ব মেনে জানাজা হওয়ায় মাঠে লোক সংকুলান হয়নি। পরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অনেকে জানাজায় অংশ নেন। জানাজার দুই স্থানেই প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন শাজাহান সিরাজের মেয়ে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা। জানাজায় অংশগ্রহণ করেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারী, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনছার আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, জেলা সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, কালিহাতী উপজেলা আহ্বায়ক শুকুর মাহমুদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালিহাতী পৌরসভার মেয়র আলী আকবর জব্বার, এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নূর এ আলম সিদ্দিকী ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো প্রমুখ।

advertisement