advertisement
advertisement

দেশে করোনা উপসর্গে ১৭৭৬ জনের মৃত্যু : বিপিও

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জুলাই ২০২০ ১৬:৪৭ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ ১৭:২২
দেশে করোনা উপসর্গে ১৭৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুরোনো ছবি
advertisement

দেশে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৭৬ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।করোনা উপসর্গে টানা পাঁচ সপ্তাহ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পর গত দুই সপ্তাহ ধরে তা কমেছে। গত সপ্তাহে করোনা উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। এর আগের সপ্তাহে এটি ছিল ১৭২ জন। তার আগের সপ্তাহে ছিল ২২২ জন।

আজ বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরি (বিপিও)। এটি প্রকল্প।জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনডিপির আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) একটি প্রকল্প। বিপিও দেশের ২৫টি সংবাদমাধ্যম বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

বিপিও’র গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা উপসর্গে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে চট্টগ্রামে ৫৫২ জন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে ৩৭১ জন, খুলনা বিভাগে ২২৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৮৩, বরিশাল ২১০, সিলেট ৯৫, রংপুর ৮১ ও ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৭ জন করোনা উপসর্গে মারা গেছেন।

এতে বলা হয়, গত ৮ মার্চ থেকে করোনা বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রতি সপ্তাহে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এতে দেখা যায়, ২২ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত এক সপ্তাহে করোনার উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পরের সপ্তাহে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ৬৩ জনে। এরপর এটি আরও বাড়তে থাকে। ২১ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২২২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিপিও বলছে, করোনা রোগীর মতো উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও তারা করোনায় সংক্রমিত নাও হতে পারেন। একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনা উপসর্গে মারা যাওয়াদের পরীক্ষা করে ৮৫ শতাংশের করোনা পাওয়া যায়নি।

করোনা উপসর্গে মৃত্যু ছাড়াও আরও কয়েকটি বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেছে বিপিও। তাদের প্রতিবেদন বলছে, করোনা নিয়ে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ১১ জুলাই পর্যন্ত ৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।এ ছাড়া ত্রাণ আত্মসাৎ, খাদ্যে ভেজাল মেশানো ও করোনার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম ও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৮৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জরিমানা করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৭৫ জনকে।

প্রতিবেদন বলছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে ২২৩টি নির্যাতন ও সামাজিক কলঙ্ক দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন জেলায় ২১২টি বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ শতাংশ ত্রাণসামগ্রী ও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহায়তার দাবিতে, বেতন ও বোনাস পরিশোধের দাবিতে ৩৩ শতাংশ এবং ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের বিরুদ্ধে ৫ শতাংশ।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে অব্যবস্থাপনা ও যথাযথ চিকিৎসা সামগ্রীর দাবিতে হয়েছে ১০ শতাংশ বিক্ষোভ। করোনা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে সারা দেশে ১৩৫টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৮ জন মারা গেছেন, ৫৫৩ জন আহত হয়েছেন।

advertisement