advertisement
advertisement

মানব পাচারকারীর ভয়ে বাড়িছাড়া ইতালিতে যেতে চাওয়া যুবক

১৬ জুলাই ২০২০ ১৮:৩৫
আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ ২০:২৮
সংবাদ সম্মেলন করছেন ইসমাইল হোসেন। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ইতালি গমনেচ্ছু এক যুবক মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পড়ে পড়েছেন। মানব পাচারকারীদের নির্যাতনের শিকার হয়ে ওই যুবক বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের নাম মো. ইসমাইল হোসেন (২৫)। তিনি উপজেলার চিরিঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবক নোয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কবিরহাট থানা পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করছে।

ইসমাইল হোসেন আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘২০১৫ সালের ১ অক্টোবর ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নলুয়া গ্রামের মৃত মজিবুল হকের ছেলে মফিজ উদ্দিন (৫৫) ও মফিজের জামাই বাবলু মিয়ার (৩০) মাধ্যমে ৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালি যাওয়ার চুক্তি করি। টাকা দেওয়ার পর তারা আমাকে ঢাকা নিয়ে যান। সেখানে তারা আমাকে মানব পাচারকারী চক্রের অন্যতম প্রধান কামাল প্রকাশ হাজী কামালসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তাদের কাজ কর্মে আমি বুঝতে পারি, এরা বড় ধরনের মানব পাচারকারী চক্র। এরপর নোয়াখালী ফিরে এসে ইতালি না যাওয়ার কথা মফিজকে জানাই।’

তিনি বলেন, ‘এরপর থেকে মফিজ ও তার ভাগ্নে হাতিয়ার আকবর হোসেন আমার সঙ্গে ঝামেলা শুরু করে। একপর্যায়ে মানব পাচারকারী মফিজ আমাকে পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখার আট লাখ টাকার একটি চেক দিলেও সেই একাউন্টে কোনো টাকা ছিল না। এ ঘটনায় আমি চেক প্রত্যাখ্যান ও প্রতারণার অভিযোগ এনে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলী আদালত নোয়াখালীতে একটি মামলা দায়ের করি।’

ইসমাইল বলেন, ‘ওই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে গত ২০ মে দুপুরে নোয়াখালী আদালত এলাকা থেকে মফিজ উদ্দিন ও তার জামাতা বাবলু এবং বাবুল মিয়া মোটরসাইকেল যোগে আমাকে অপহরণ করে কবিরহাটের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের নবগ্রামে নিয়ে ২৪ ঘণ্টা একটি ঘরে আটক করে মারধর করে আমাকে দেওয়া ডিজঅনার হওয়া ৮ লাখ টাকার চেক ও ১৫ টি সাদা স্ট্যাম্পে (লেখা বিহীন স্ট্যাম্প) স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেন। ঘটনায় গত ৮জুন জেলা পুলিশ সুপার বরাবর মফিজ উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের খপ্পড়ে পড়ে এখন নিজের জীবন বাঁচাতে নিজ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’ ইসলাইল জানান, তিনি ও তার পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত মফিজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে ০১৮৭৯৭৫০৫.. নম্বরে কল করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

কবিরহাট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলুল কাদের বলেন, ‘মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে। তবে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে মাফিজ উদ্দিনের পূর্ব শত্রুতা রয়েছে। অভিযুক্ত মো. মফিজ উদ্দিন মোবাইল ফোন বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। অভিযোগকারীও এলাকায় নেই।’

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘অভিযুক্ত মো. মফিজ উদ্দিন কোনো মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য কিনা তা খতিয়ে দেখতে নোয়াখালী সিআইডি কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য কবিরহাট থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

advertisement