advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন সাংবাদিক শরিফ
এখনো ১০ পরিবার বাড়িছাড়া, অভিযুক্তরা গ্রামে দিচ্ছেন মহড়া

মো. হাবিবুর রহমান,মুরাদনগর
১৬ জুলাই ২০২০ ২০:০৯ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ ২২:৪১
মুরাদনগরে হামলার শিকার সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরী ও তার বাবা-মা। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

হামলার শিকার হয়ে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম চৌধুরী বর্তমানে রাজধানী ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে এ ঘটনার অভিযুক্তরা জামিন নিয়ে এলাকায় এসে গ্রুপে গ্রুপে মহড়া দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ওই গ্রামের ১০ পরিবার এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আতঙ্কে আছেন এলাকার নিরীহ মানুষ।

গত ৪ জুলাই দিনে দুপুরে হামলার শিকার হন সাংবাদিক শরিফ। উপজেলার দারোরা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া ও তার লোকজন তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেন বলে মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়।

এদিকে সাংবাদিক শরিফের ওপর হামলার আগে গত ৩০ জুন উপজেলার দারোরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি কুদ্দুস মিয়া এবং ২ জুন সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবককে পিটিয়ে আহত করেন শাহজাহান চেয়ারম্যানের লোকজন। হামলার ঘটনায় থানায় কুদ্দুস মিয়া মামলা করেন। আর সাইফুল থানায় অভিযোগ করলেও এখনো মামলা নেয়নি পুলিশ।

এরপর গত ৪ জুলাই দিনে দুপুরে শাহজাহান মিয়া ও তার বাহিনীর সদস্যরা কাজিয়াতল গ্রামে সাংবাদিক শরিফের ঘরে ঢুকে তাকে টেনে হিঁচড়ে উঠানে বের করে এনে কুপিয়ে, পিটিয়ে তার হাত-পা ভেঙে দেন। তার কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শাজাহান চেয়ারম্যানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন শরিফের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন চৌধুরী।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পুলিশ শাহজাহান চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করলেও পরদিন রোববার কুমিল্লার ভার্চ্যুয়াল কোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। এরপর গত মঙ্গলবার একই আদালতে আরও চারজন আসামি জামিন পান। মামলার অপর দুই আসামি এখন কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে অভিযুক্তরা গ্রেপ্তারের পর আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে এসে অভিযোগকারী পরিবারগুলোকে একের পর এক হুমকি-ধমকি দিয়েই যাচ্ছেন। ভয়ে আতঙ্কে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি কুদ্দুস মিয়া, ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান ও একই গ্রামের আরেক সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন মাসুদসহ গ্রামছাড়া কাজিয়াতল গ্রামের ১০ পরিবার।

শরিফের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন চৌধুরী বলেন, ‘আমার ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তারা আমার ডান হাতে কোপ দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। তার মায়ের বাম হাত হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে ফেলে। শরিফের মাথায় কোপ দেওয়া হয় এবং হাত-পা সব ভেঙে ফেলে। এখন আমার ছেলে পঙ্গু হওয়ার দশা। আর মামলার আসামিরা একে একে প্রায় সবাই জামিনে বেরিয়ে এলাকায় উল্লাস প্রকাশ করছে।’

দারোরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘গত ৩০ জুন শাহজাহান চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। হাসপাতলে চিকিৎসা নিয়ে থানায় মামলা করি। পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাদেরকে গ্রেপ্তার করেনি। সাংবাদিক শরিফের ওপর হামলার ঘটনায় তার বাবার করা মামলায় চেয়ারম্যান শাহজাহান ও তার লোকজন গত মঙ্গলবার জামিন নিয়ে আসে কুমিল্লার আদালত থেকে।’

আরেক ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এখন আমরা দশ পরিবারের লোকজন গ্রামছাড়া। আমাদের অপরাধ শাহজাহান চেয়ারম্যানের নানা অনিয়ম দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া। আর শরিফের অপরাধ তিনি দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেছেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান এবং একই গ্রামের সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন মাসুদও গ্রাম ছাড়া।’

উক্ত ঘটনাগুলোতে অভিযুক্ত দারোরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান বলেন, ‘পক্ষে-বিপক্ষে যেহেতু লোকজন আছে, আমার বিরুদ্ধে তো অভিযোগ থাকবেই।’

এ বিষয়ে মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সাংবাদিক শরিফের ওপর হামলার ঘটনায় চেয়ারম্যান শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে সোপর্দ করার পর বিজ্ঞ বিচারক জামিন দিলে আমাদের কিছু করার থাকে না। আসামিদের হুমকিতে ১০ পরিবার গ্রামছাড়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

advertisement