advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন ফাহিমের খুনি হাসপিল

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি
১৮ জুলাই ২০২০ ২৩:৫০ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২০ ০১:০০
গ্রেপ্তারের পর জেলে নিয়ে যাওয়া হয় ফাহিমের খুনি হাসপিলকে
advertisement

রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহর হত্যার অভিযোগে তার ব্যক্তিগত সহকারী হ্যাসপিলকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে তুলেছিল নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। আজ শনিবার আদালতে তোলা হলে তাকে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বিনা জামিনে আটক রাখার আদেশ দিয়েছেন ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক জোনাথন সভেটকি।

এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোকে হাসপিলকে কীভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানান এনওয়াইপিডি’র গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান রডনি হ্যারিসন। তিনি বলেন, ‘এক কথায়, অন্য কেউ এ ঘটনায় জড়িত কি না তার কোনো তথ্য প্রমাণ নেই। আর যেহেতু সিসিটিভি ফুটেজে টেরেস ডেভোন হাসপিলকে দেখা গেছে, আমরা তাকে প্রাথমিকভাবে খুনি হিসেবে ধরে নিয়েছি।’

রডনি জানান, ফাহিমের ১ লাখ ডলার চুরি করেন ২১ বছর বয়সী হাসপিল। সেটি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ফাহিম তাকে কিস্তির সুযোগ করে দেয়। যদিও তিনি পুলিশে কোনো অভিযোগ জানাননি। এ ঘটনার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

নিউ ইয়র্ক পোস্টকে তিনি জানান, বাড়ি ভাড়া নেয়ার অ্যাপ এয়ারবিএনবি'র মাধ্যমে বুধবার নিউ ইয়র্কের ক্রসবি স্ট্রিটের একটি বাসায় ওঠেন হাসপিল। ওই লেনদেনও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। যার সূত্র ধরে তদন্তকারীরা তার খোঁজ পান। ফাহিম সালেহর ওপর ব্যবহৃত টেজারটিও হ্যাসপিল নিজের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনেন। নিজের বসকে খুন করার পর গাড়ি ভাড়া করে ম্যানহাটনের একটি দোকানে যান ওই কৃষ্ণাঙ্গ। সেখান থেকে অ্যাপার্টমেন্ট পরিষ্কার করার জিনিসপত্র কেনেন। সেগুলো যে গাড়ি দিয়ে তিনি নিয়ে আসেন, তার ভাড়া ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে দেন। মূলত, এসব কিছু যাচাই বাছাইয়ের পর তাকে গ্রেপ্তার সম্ভব হয়।

এনবিসি নিউ ইয়র্ক জানিয়েছে, হাসপিলকে গ্রেপ্তারের পর তার ব্রুকলিনের অ্যাপার্টমেন্ট এবং তাকে যেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; সেই অ্যাপার্টমেন্টে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমস পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মঙ্গলবার ফাহিমের লাশ পাওয়া যাওয়ার পর অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তা ক্যামেরায় দেখা যায়, কালো স্যুট এবং কালো মাস্ক পরা একজন ব্যক্তির সঙ্গে একই লিফটে প্রবেশ করেন তিনি। লিফট ফাহিমের ফ্ল্যাটের সামনে দাঁড়ালে দুজনেই সেখান থেকে বের হয়ে যান।

আদালতে কী হয়েছে

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় ১৭ জুলাই মধ্যরাতের কিছু পরে টেরেস ডেভোন হাসপিলকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়। ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে তাকে আদালতে উপস্থাপন করেন ম্যানহাটনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি লিন্ডা ফোর্ড। আদালতকে তিনি বলেন, হোমডিপো নামে একটি দোকান থেকে ফাহিমকে হত্যায় একটি ইলেকট্রিক করাত কেনেন হাসপিল। এ ছাড়া ফাহিম সালেহর অ্যাপার্টমেন্টে ধোয়ামোছার সরঞ্জামাদি পাওয়া গেছে। সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যাওয়া সন্দেহভাজন খুনির পোশাক টাইরেস হ্যাসপিলের ব্রুকলিনের বাড়িতে পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক পুলিশের তদন্ত দল হ্যাসপিলকে প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করতে পেরেছে। ফাহিম সালেহর হত্যার সঙ্গে হাসপিলের জড়িত থাকার জোরাল প্রমাণ আছে। অন্তত দুজন শনাক্তকারী অপরাধ সংঘটনের আগে ও পরের সার্ভিল্যান্স ভিডিও থেকে তাকে শনাক্ত করেছেন।

লিন্ডা ফোর্ড আদালতকে আরও বলেন, টাইরেস হাসপিল তরুণ প্রযুক্তিবিদ ফাহিম সালেহর অন্তত ১ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে পুলিশ বা আইনি আশ্রয়ে না গিয়ে ফাহিম তাকে কিস্তিতে অর্থ ফেরত দেওয়ার সুবিধা করে দিয়েছেন। আমরা নিশ্চিত নই, তবে ধারণা করা হচ্ছে, অর্থের লেনদেন এবং ব্যক্তিগত বিষয়ই এই হত্যাকাণ্ডের কারণ। হ্যাসপিল কোনো অর্থ ফেরত দিয়েছেন কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থ ফেরত না দিতে চেয়ে পুলিশে রিপোর্ট হওয়ার ভয়ে হাসপিল খুন করেছেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আদালতের বিচারক জোনাথন সভেটকি জামিনের সুবিধা ছাড়াই হাসপিলকে আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার খুনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তাতে করে হাসপিল ১৫ থেকে পঁচির বছরের কারাদণ্ডের সাজা পেতে পারেন। আগামী ১৭ আগস্ট তাকে আবার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

advertisement