advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

করোনাকালীন সময়ে কোরবানির সতর্কতা

ডা. এস এম সহিদুল ইসলাম
২৮ জুলাই ২০২০ ১৮:৪৬ | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২০ ২০:০৩
advertisement

আগামী ১ আগস্ট শনিবার মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। এবারের ঈদের পরিস্থিতি অন্যান্য বারের মতো নয় আর তার কারণ আমরা সবাই জানি তা হলো নোভেল করোনাভাইরাস।

প্রতিদিন কোভিড ১৯ পজিটিভ রোগী শনাক্ত হচ্ছে তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। আজকে আমার লেখার একটা উদ্দেশ্য আছে, তা হলো ঈদুল আজহায় পশু কেনা থেকে শুরু করে কোরবানি, বিতরণ, বজ্র ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি গাইড লাইন দেওয়া। আশা করি সবাই পড়ে উপকৃত হবেন।

কোরবানি দেওয়ার জন্য আমাদের সর্বপ্রথম পশু কিনতে হবে আর তার জন্য আমাদের হাটে যেতে হবে। কোভিড ১৯ এ যেখানে বলা হচ্ছে জন সমাগম না করার জন্য সেখানে আমাদের হাটে যেতে হলে কিন্তু করোনাইয় আক্রান্তের বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার। আর সেজন্য আমার প্রথম পরামর্শ—যদি সম্ভব হয় আত্মীয়-স্বজন অথবা পরিচিত কারো মাধ্যমে বন্যার্ত অঞ্চল অথবা প্রান্তিক কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য, যৌক্তিক মূল্যে পশুটি কিনে নিন। তাতে করে আপনার অনেক বেশি মানুষের মাঝে যাওয়া লাগবে না আর তার সঙ্গে সঙ্গে আপনি একজন অসহায় বন্যার্ত মানুষ অথবা প্রান্তিক কৃষককে তার ন্যায্য মূল্য প্রদান করে তাকেও অনেক বেশি খুশি করতে পারেন। যেখানে মানুষের পক্ষেই বন্যার্ত অঞ্চলে বসবাস করা কঠিন হয়ে পরে সেখানে আপনি যদি ন্যায্য মূল্যে তার পশুটি কিনে নেন তাতে আপনি তার অর্থনৈতিকের পাশাপাশি মানসিকভাবেও খুশি করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির সন্ধান করতে হবে। সেটা এই ডিজিটাল যুগে আমার মনে হয় না খুব বেশি কষ্টকর হবে। তারপর ও যদি আপনাকে হাটে যেতে হয় সেক্ষেত্রে আমি আপনাকে পরামর্শ প্রদান করবো হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক, সম্ভব হলে ফেস শিল্ড, সঙ্গে ফুলহাতা জামা, জুতো পরিধান করবেন।

মোবাইল আপনি বাসায় রেখে আসবেন আর যদি সঙ্গে করে নিয়ে আসেন বের করা যাবে না পকেট থেকে। আর যদি বের করতেই হয় তাহলে নীরব জায়গায় গিয়ে গ্লাভস খুলে হাত স্যানিটাইজ করে আপনি মোবাইল হাতে নিবেন কথা বলা শেষ হয়ে গেলে নতুন করে গ্লাভস পরিধান করবেন। এক্ষেত্রে পরিধেয় গ্লাভস যত্রতত্র ফেলবেন না। এই সব কাছে বাড়াবাড়ি মনে হলেও নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

পশুকে বাসায় আনার পর অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখবেন এবং আপনি বাসায় প্রবেশের আগে পরিধেয় সব কিছু খুলে ভেতরে প্রবেশ করে সরাসরি গোসল করে ফেলবেন। আপনার পোশাক ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকোতে দিবেন। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা শ্রেয়। পশুর কাছে যেতে চাইলে মাস্ক পরিধান করে যাওয়াই উত্তম।

এবার আসি ঈদে কোরবানির সময় আপনার করণীয় বিষয় সম্পর্কে। আপনি চেষ্টা করবেন নিজেরা পরিবারের সবাই মিলে গরু কোরবানি থেকে শুরু করে সব কাজ করার। কিন্তু আপনার পক্ষে যদি এটি সম্ভব না হয় তাহলে যে সমস্ত লোকদের ঠিক করবেন অবশ্যই তাদেরকে ঈদের আগের দিন দেখে নিবেন যে তাদের কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কি না। কোরবানি করার সময় থেকে শুরু করে প্রক্রিয়া জাতকালীন সময়ে আপনি খেয়াল রাখবেন যেন প্রত্যেকে মাস্ক পরিধান করে এবং শারীরিক দূরত্ব যেন অবশ্যই মেনে চলে। এখানে অনেক সময় শারীরিক দূরত্ব মানা সম্ভব নাও হতে পারে সেক্ষেত্রে মাস্ক পরে থাকা আপনাকে অবশ্যই মনিটর করতে হবে।

গোস্ত বিলি করার সময় অবশ্যই আপনাকে একটি ভালো ও নিরাপদ পন্থা অবলম্বন করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি ছোট ছোট প্যাকেট করবেন। তারপর গেইটের ভেতরে থেকে অবশ্যই সব ধরনের প্রোটেকশন নিয়ে মাস্ক, গ্লাভস পরে প্যাকেটগুলো সারিবদ্ধ করে দাঁড়ানো লোকজনকে নির্দিষ্ট দূরে দাঁড়িয়ে থেকে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে নিয়ে চলে যাবে। তাতে করে আপনি নিজে এবং যারা গোস্ত নিতে আসবে সবাই শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কোভিড আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিং আছে, এতিমখানা আছে আপনি চাইলে তাদেরকে ফোন করে দিলে তারা আপনার কাছ থেকে মাংস সংগ্রহ করে নিয়ে যাবে। তাতে করে ওইসব প্রতিষ্ঠানের কিছু রিজিকের ব্যবস্থাও হয়ে যাবে। আত্মীয়-স্বজনের বাসায় যদি আপনাকে যেতেই হয় তাহলে সর্বোচ্চ প্রোটেকশন নিয়ে যাবেন। চেষ্টা করবেন যারা কোরবানি দেয়নি তাদের বাসায় যাওয়ার আর যারা কোরবানি দিতে পেরেছেন এ বছর তাদের বাসায় যাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন সামগ্রিক অবস্থার কথা চিন্তা করে।

কোরবানি করা পশুর মাংস বাসায় আনার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। অতঃপর মাংস ভালোভাবে ধুয়ে রান্না করুন এবং সঠিক উপায়ে সিদ্ধ করুন। এবার আপনি যদি মাংস সংরক্ষণ করতে চান সেক্ষেত্রে কিছুক্ষণ মাংস বাইরে রেখে ভালোভাবে পাত্রে সংরক্ষণ করুন। করোনাভাইরাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে বাঁচতে পারে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্টে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনের বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীকে প্রশ্ন করেছিলাম গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষের গোস্ত খাওয়ার ব্যাপারে উত্তরে তিনি জানান এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত গৃহপালিত পশু যেমন গরু, ছাগল, ভেড়ায় কোনো কোভিড ১৯-এর আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়নি। সুতরাং আমরা যদি ভালোভাবে মাংস সিদ্ধ করে খাই সেক্ষেত্রে করোনাভাইরাস ছড়াবে না। শুধু প্রয়োজন অন্যান্য দিকগুলো কঠোরভাবে মনিটর করা।

কোরবানি দেওয়া শেষে আপনার বাড়িটি সম্পূর্ণভাবে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে জীবানুনাশক নিশ্চিত করবেন। আমি মোটামোটিভাবে আপনাদেরকে কোরবানির আগ থেকে শুরু করে পরবর্তী সময় পর্যন্ত একটি ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছি যেন এরকম ক্রান্তিকালেও আমরা সুস্থ্য থেকে করোনা মুক্ত থেকে পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করতে পারি।

সবাই অনেক অনেক ভালো থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন, সর্বোচ্চ সাবধানতা নিজের এবং পরিবারের রক্ষা করে চলবেন। যত্রতত্র কুরবানির বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করবেন।

সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার অগ্রীম শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

লেখক : ডা. এস এম সহিদুল ইসলাম; জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

advertisement
Evaly
advertisement