advertisement
advertisement

শিমুলিয়া ঘাটে এ যেন ‘বেদনার’ ঈদ

মো. রুবেল ইসলাম তাহমিদ,শিমুলিয়া ফেরি ঘাট থেকে
১ আগস্ট ২০২০ ২৩:১২ | আপডেট: ২ আগস্ট ২০২০ ০৮:৪৩
শিমুলিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আটকে পড়া যানবাহন ও যাত্রীরা। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

ঈদের ছুটিতে বাড়ির পথে পা বাড়িয়েও প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়নি অনেকের। ঈদের দিনও মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে ফেরি পল্টুনে পারের অপেক্ষায় আটকে থাকা পাচঁ শতাধিক ঘরমুখো মানুষের ঈদের আনন্দ তাই বেদনায় রুপ নিয়েছে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার এই ঘরমুখো মানুষদের অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে না। আজ শনিবার রাত ৮টার সময়ও ঘাটে আটকা ছিল সাড়ে তিন শতাধিক গাড়ি ও পাচঁ শতাধিক যাত্রী। ফলে ঘাটের ফেরি পল্টুনে তাদের পালন করতে হয়েছে ঈদের সকাল থেকে সন্ধ্যা, এমনকি রাতও এখানেই কেটে যেতে পারে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘাটে  প্রায় আট শতাধিক ছোট-বড় গাড়ি আটকে থাকার পর  অধিকাংশ যাত্রী বাড়িতে পৌঁছতে পারলেও শুক্রবার বিকেলে  তার দ্বিগুন গাড়ি ও যাত্রীর সংখ্যা ছিল। এসময় পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে দুপুরে পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের কিছু অংশ ও সেতুর  বেশ কিছু  মালামাল নদীতে ডুবে যায়। এ কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট এলাকায় মাইকিং করে ফেরি সার্ভিস কখন স্বাভাবিক হবে তা পরে জানিয়ে দেওয়ার কথা জানায়। তা ছাড়া যাত্রীদের বিকল্প নৌরুট ব্যবহারেরও অনুরোধ করা হয়। তখন দক্ষিণবঙ্গের ঈদে ঘরমুখো প্রায় ১২ শতাধিক যাত্রী হুমড়ি খেয়ে পড়েন। রাত যত বাড়ছিল মানুষের সংখ্যাও বাড়তেই দেখা গেছে ফেরিঘাটে।

এদিকে আজ শনিবার ঈদের দিন সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্তও পারাপরের জন্য সড়কে প্রচুর ঘরমুখো মানুষকে অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় রাত নয়টার পর ঘাটের পল্টুনে কথা হয় জাকির হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৪টার দিকে তারা পাচঁ বন্ধু তিনটি মোটর বাইক নিয়ে ঢাকার মিরপুর থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে ঘাট এলাকায় আসেন। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের বাইক ঘাটের পল্টুনে আসতে পেরেছে। আর এর মধ্যে বাড়ি থেকে বারবার তাকে ফোন করা হচ্ছে। তিনি না পৌঁছালে কোরবানি করা হবে না বলে জানানো হচ্ছিল। অবশেষে সেই কোরবানি তাকে ছাড়াই করতে হয়েছে। তাই তার এবারের ঈদের আনন্দ যেন বেদনায় রুপ নিয়েছে বলেও জানান এই যাত্রী।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কাবিরুল ইসলাম খান আশা করছেন, রাত ১২টার মধ্যে আটকে পড়া যাত্রী ও যানবাহন ফেরি পার হয়ে যেতে পারবে। তিনি বলেন, ‘শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথ বন্ধ থাকায় এই পথের যাত্রী ও যানবাহন ঘাটে গাড়ির লাইন দুদিন ধরে দীর্ঘ হয়। তবে, বিআইডব্লিউটিসি ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে র‌্যাব-পুলিশ- ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করায় গত রাতেই হাজার হাজার যানবাহন ঘাট এলাকা ত্যাগ করে বিকল্প নৌরুট ব্যবহার করে পার হয়ে যেতে পেরেছে।’

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের মেরিন অফিসার আহম্মেদ আলির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ১৫ দিন আগে থেকে ঘাটে ছোট, বড় ও মাঝরি মোট ১৭টি ফেরির মধ্যে ১০টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল। তবে পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে বৃহস্পতিবার  দুপুরে মাওয়ায় পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে বেশ কিছু যায়গা নদীতে ডুবে যায়। এ কারণে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে সব ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হলে ঠিক তখন থেকেই গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। ফলে ফেরি পারের অপেক্ষায় থাকা গাড়ির লাইন দীর্ঘ হয়। এতে যাত্রী ও যানবাহনের চালক-সহযোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

advertisement