advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বরকত-রুবেলের আরেক সহযোগী যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ আগস্ট ২০২০ ১৯:১০ | আপডেট: ২ আগস্ট ২০২০ ২০:৩৯
সাজ্জাদ হোসেন বরকত (বামে) ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

ফরিদপুরে আসিবুর রহমান ওরফে ফারহান (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত ৩টার দিকে জেলা শহরের পূর্ব খাবাসপুর লঞ্চঘাট এলাকার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কোতয়ালি থানার পুলিশ। গ্রেপ্তার আসিবুর শহর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।

ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, ‘আসিবুরকে ঢাকার কাফরুল থানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আজ জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পরে তাকে ফরিদপুর জেলখানা থেকে নিজেদের জিম্মায় নেবে সিআইডি ঢাকা।’

এই মামলায় আরও দুজন গত শুক্রবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তারা হলেন- ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী (৬১) ও জেলা শ্রমিক লীগের কোষাধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন (৫৪)। গত শুক্রবার দুপুরে নাজমুলকে শহরের চরকমলাপুরের তার বাড়ির সামনের কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

একই দিন বিকেলে শহরের হাড়োকান্দি এলাকা থেকে বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়। গতকাল শনিবার দুপুরে বিল্লালকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ফরিদপুরের জেল সুপার আবদুর রহিম আজ রোববার দুপুরে গণমাধ্যমকে জানান, নাজমুল ইসলাম ও বিল্লাল হোসেন বর্তমানে জেলা কারাগারেই রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করে সিআইডি। সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বাদী হয়ে গত ২৬ জুন ঢাকার কাফরুল থানায় মামলাটি করেন। এই মামলায় ওই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবৈধভাবে উপার্জন ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

এই দুই ভাইকে গ্রেপ্তারের পর সিআইডি ১০ দিন করে রিমান্ড চান। গত ১৩ জুলাই ভার্চুয়াল কোর্টের মাধ্যমে রিমান্ড শুনানি হয়। ওই সময় ফরিদপুর কারাগার থেকে শুনানিতে অংশ নেন বরকত ও রুবেল। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম তাদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ১৯ জুলাই এই দুই ভাইকে ফরিদপুর জেলখানা থেকে ঢাকার সিআইডির কার্যালয়ে নেওয়া হয়। দুই দিন রিমান্ড শেষে সিআইডি গত ২১ জুলাই আবার তাদের ১০ দিন করে রিমান্ড চাইলে আদালত তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ২৪ জুলাই মোট পাঁচ দিন রিমান্ড শেষ হওয়ার পর রুবেল ও বরকত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মামলাটি তদন্ত করছেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘এই দুই ভাই যাদের আশ্রয়–প্রশ্রয়ে থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের সবার নাম উল্লেখ করেছেন।’

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘নাজমুল হাসান, বিল্লাল হোসেন ও আসিবুর রহমানকে মানি লন্ডারিং মামলায় সিআইডির চাহিদা অনুযায়ী গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

advertisement