advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় বেশি কারা

অনলাইন ডেস্ক
৩ আগস্ট ২০২০ ১৩:৩৫ | আপডেট: ৩ আগস্ট ২০২০ ১৭:১৮
প্রতীকী ছবি
advertisement

মহামারি করোনাভাইরাসে দ্বিতীয়বার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। চীনে সুস্থ হওয়া রোগীদের মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশের শরীরে নতুন করে করোনার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই শতাধিক মানুষ নতুন করে আক্রান্ত। খবর এসেছে জাপান ও ইরান থেকেও। এমনকি ভারত থেকেও দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়া নিয়ে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের কপালে যেমন চিন্তার ভাঁজ ও অস্বস্তি; তেমনি আতঙ্কে সাধারণ মানুষও। একাধিকবার রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরও কেন আবার রোগে পড়া!

রোগ কেন ফিরছে?

সংক্রামক রোগের চিকিৎসক অমিতাভ নন্দী জানিয়েছেন, ‘মূলত দুটি কারণে এ রকম হতে পারে— হয় রোগটা আবার হয়েছে, অর্থাৎ, রোগের শিকড় শরীরেই ছিল। নয়তো ভাইরাস নিজেকে পাল্টে নতুনরূপে দেখা দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা চলাকালীন যখন ওষুধে জীবাণুতে লড়াই হয়, জীবাণুরা চেষ্টা করে নিজেদের মিউটেট করে ওষুধকে হারাতে। কিছু জীবাণু তা করেও ফেলে। ফলে রক্তে এরা বেঁচে থাকে। প্রথমবার রোগ সারার ২-৩ সপ্তাহ পর আবার ফিরে আসে একটু বাড়াবাড়ি রূপে। কোভিডের কোন ওষুধ নেই। ফলে ভাইরাস শরীরে ঢুকলে তার সঙ্গে লড়াই করে শরীরের অ্যান্টিবডি। প্রথম লড়াইয়ে ভাইরাস দমে গেলেও নিঃশেষ হয় না। তখন হয়তো ভাইরাস ও অ্যান্টিবডি থেকে যায় পাশাপাশি। যখন সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডি কমতে শুরু করে, ফের মাথাচাড়া দেয় ভাইরাস। রোগ ফিরে আসে।’

‘আর যদি অ্যান্টিবডির সঙ্গে লড়তে লড়তে ভাইরাস মিউটেট হয়ে যায়, তাহলে যারা নিজেদের পাল্টাতে পারল না তারা মরে গিয়ে রোগ তখনকার মতো সারলেও পরিবর্তিত ভাইরাসগুলো আবার সময়ের সঙ্গে বংশবৃদ্ধি করে এবং রোগ হিসেবে ফিরে আসে। তখন কী কারণে রোগ ফিরে এলো তা সঠিকভাবে জানতে হলে রোগীর শরীর থেকে ভাইরাস নিয়ে তার জেনেটিক ম্যাপিং করতে হবে‘ বলেন চিকিৎসক অমিতাভ নন্দী।

কাদের রোগ ফিরবে, কাদের নয় :

অমিতাভ নন্দীর মতে, নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না এখনো। তবে মনে হয়, যাদের সংক্রমণ হালকা হয় ও উপসর্গ দেখা দিতে কিছুটা সময় পার হয়ে যায়, তাদের দ্বিতীয়বার রোগে পড়ার আশঙ্কা কম। কারণ ততদিনে ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে লড়তে প্রচুর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। তারাই কাজ করে রক্ষাকবচ হিসেবে। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে এই সুবিধে পাওয়া যায় না সব সময়।

সুস্থ হওয়ার কত দিন পর স্বাভাবিক জীবন?

অমিতাভ নন্দী বলেন, রোগ ভালো হওয়ার দুটি রূপ, (১) উপসর্গ কমে রোগী সুস্থ হয়ে গেলেন, (২) ভাইরাস নির্মূল হলো। শরীর যতক্ষণ না ভাইরাসমুক্ত হচ্ছে, আশঙ্কা থেকেই যায় যে আবার রোগে পড়তে পারেন বা রোগ ছড়াতে পারেন। তবে আবার বলছি, নিশ্চিত করে বলার সময় এখনো আসেনি। আসলে এই রোগের কোন ওষুধ নেই বলেই সমস্যা হচ্ছে। অ্যান্টিবডির সঙ্গে লড়াইয়ে ভাইরাসের মাত্রা কমে, কিন্তু সবসময় নির্মূল হয় না।

কোন পরীক্ষায় জানা যাবে?

আরটিপিসিআর পরীক্ষা করলে জানা যায় শরীরে ভাইরাস আছে কি নেই। কিন্তু এই পরীক্ষা শেষ কথা বলবে সেটাও নয়। কাজেই রিপোর্ট নেগেটিভ আসা মাত্র মেলামেশা করা ঠিক নয়। অন্তত দু’তিন মাস কড়া নজরদারিতে থাকতে হবে। ঘন ঘন টেস্ট করাতে হবে। তবে বলা যাবে তিনি স্বাভাবিক জীবনে কবে নাগাদ ফিরতে পারবেন।

advertisement
Evaly
advertisement