advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সিনেমা হল অন্ধকার
এফডিসির আলো জ্বলল কোরবানি দিয়ে

ফয়সাল আহমেদ
৫ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২০ ২২:৪৮
advertisement

ঢাকাই চলচ্চিত্র অনেক বছর ধরেই উৎসবনির্ভর। আর দুই ঈদ হচ্ছে উৎসবের মধ্যমণি। কিন্তু দুই ঈদে ছবি মুক্তি না পাওয়ায় কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে চলচ্চিত্রশিল্প। রোজার ঈদের পর সংশ্লিষ্টরা আশা করেছিলেন, কোরবানির ঈদে সিনেমা হল খুলে দেওয়া হবে, মুক্তি পাবে নতুন ছবি। কিন্তু সিনেমা হলে জ্বলেনি আলো। অথচ ঈদের জন্য বড় বাজেটের অনেক ছবিই প্রস্তুত ছিল। সিনেমা হলে আলো না জ্বললেও ঈদের দিন আলো জ্বলেছিল চলচ্চিত্রের আঁতুড়ঘর এফডিসিতে। সেখানে অসহায় শিল্পীদের জন্য দেওয়া হয়েছিল কোরবানি। ২০১৬ সালে এফডিসিতে কোরবানি দেওয়ার রীতি শুরু করেন হালের ক্রেজ চিত্রনায়িকা পরীমনি। প্রথমবার একটি দিয়ে কোরবানি শুরু হলেও পরের বছরগুলোতে যথাক্রমে দুটি, তিনটি ও চারটি করে গরু কোরবানি দেন তিনি। এবারের ঈদে সেই সংখ্যাটি ছিল পাঁচ। এফডিসির ৯ নম্বর ফ্লোরের সামনে এই কোরবানি হয়। চিত্রনায়িকা নিপুণও এবার অসচ্ছল শিল্পীদের জন্য এফডিসিতে কোরবানি দিয়েছেন। আবার কোনো ঘোষণা ছাড়াই অনেকটা চমকে দিয়ে গরু নিয়ে হাজির হয়েছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। তিনি ও তার স্ত্রী চিত্রনায়িকা মৌসুমীর পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়া হয়।

ওমর সানী বলেন, ‘অসচ্ছল শিল্পী ও কলাকুশলীদের জন্য এ কোরবানি দেওয়া হয়েছে। এফডিসির বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিম্ন আয়ের শিল্পী ও কলাকুশলীদের মধ্যে মাংস বিতরণ করেছেন।’ নিপুণ ও পরীমনি ঈদের দিন বিকালে উপস্থিত হয়ে তাদের কোরবানির মাংস অসচ্ছল শিল্পীদের হাতে তুলে দেন। নিপুণ বলেন, ‘এফডিসি আমার আরেক পরিবার। বর্তমানে চলচ্চিত্রে কাজ কমে যাওয়া ও করোনায় বিপদে পড়েছেন বেশিরভাগ সহশিল্পী, যাদের কোরবানি দেওয়ার মতো সামর্থ্য নেই বললেই চলে। তাই আমি এগিয়ে এসেছি।’ পরী বলেন, ‘আমি এফডিসির সন্তান। এটা আমার পরিবার। ঈদের খুশির দিনে সবার সঙ্গে সুখ ভাগাভাগি করে নিতে চাই আজীবন।’

কোরবানির মাধ্যমে এফডিসির আলো জ্বালানো হলেও সিনেমা হলের আলো জ্বালানোর জন্য যে ছবিগুলো ছিল সেগুলো নিয়ে হতাশ সবাই। এবার ঈদে সম্ভাব্য মুক্তির তালিকায় ছিল ‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘শান’, ‘বিদ্রোহী’, ‘মন দেব মন নেব’, ‘বিশ্বসুন্দরী’, ‘নীল মুকুট’, ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ-২’, ‘চল যাই’, ‘নারীর শক্তি’, ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’, ‘বান্ধব’, ‘নীল ফড়িং’, ‘জিন’, ‘আমার মা’ ও ‘পরান’। সিনেমা মুক্তি না পাওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে হল মালিক-কর্মচারী, প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলীদের মাঝে। গত ২৬ জুলাই বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এই মুহূর্তেই সিনেমা হল না খোলার সিদ্ধান্ত নেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এর আগেও প্রদর্শক সমিতি সিনেমা হল খোলার বিষয়ে আমার সঙ্গে বৈঠক করেছিল। তখন বন্যার তীব্রতা না থাকায় খোলার ব্যাপারে চিন্তা করেছিলাম। কিন্তু বন্যার ভয়াবহতা সেই চিন্তা বাধাগ্রস্ত করেছে। বন্যা ও করোনার প্রকোপ কমলে হলগুলো পুনরায় চালুর বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভেবে দেখা হবে।’ এ সময় তথ্যমন্ত্রী প্রতিবেশী দেশের সিনেমা হল বন্ধ থাকার কথাও উল্লেখ করেন। ভারতে প্রদর্শক সমিতি নেতাদের সঙ্গে দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়। সেখানে আগস্টে হল খোলার ব্যাপারে আগ্রহ বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেবিলে। সেখান থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেলে প্রস্তাবনা অনুপাতে করোনাকালে ২৫ শতাংশ আসনের টিকিট বিক্রির কথাও বলা হয়। একই ভাবনা নিয়ে গত ২৯ জুন বাংলাদেশের প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠক করেন। সেখানে করোনকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আসন বণ্টনের একটি নকশাও জমা দেন তিনি। ওই বৈঠকে ঈদে সিনেমা হল খোলার বিষয়ে মন্ত্রী ইতিবাচক ছিলেন, কিন্তু হঠাৎ বন্যায় সব ভেস্তে যাওয়ায় হতাশ এই সেক্টরের সবাই।

চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, ‘সিনেমার অবস্থা এমনিতেই খুব খারাপ। বছরে ভালো সময় যায় দুই ঈদে। দুটি ঈদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে চলে গেল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, আমরা চাই ছোট পরিসরে হলেও হলগুলো খুলে দেওয়া হোক। আমরা সিনেমা হল খুলে দেওয়ার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানিয়েছি। আভাস পেয়েছি, সরকার হল খোলার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। তবে এ ব্যাপারে হল মালিকদের ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি না।’ মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ও চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সাবেক সভাপতি ইফতেখার উদ্দীন নওশাদ বলেন, ‘সরকারি অনুমতি পেলেও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে হল সংস্কারের ব্যাপার রয়েছে। আবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঝুঁকি নিয়ে সিনেমা হল খোলার কোনো অর্থ হয় না। এটিও ভেবে দেখতে হবে, হল চালু করলে সিনেমা পাওয়া যাবে কিনা? সেগুলো চালিয়ে হল মালিকরা মুনাফা পাবেন কিনা?’ উল্লেখ্য, চলতি বছর ঢাকাই সিনেমায় সুদিন ফিরবেÑ এমন আশা করেছিলেন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা। কারণ এ বছর মুক্তির তালিকায় ছিল বড় বাজেটের, তারকার ছবি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি, প্রদর্শক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সব সমিতি মিলে সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা দেয়। প্রথমে ২ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু করোনো মহামারী আকার ধারণ করায় এখন পর্যন্ত সব হল বন্ধ রয়েছে। ফলে রোজা বা কোরবানির ঈদে কোনো ছবি মুক্তি পায়নি।

advertisement
Evaly
advertisement