advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এ সময় শিশুর যত্ন

এমি জান্নাত
৫ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ আগস্ট ২০২০ ২২:৫৪
advertisement

করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে থাকতে হচ্ছে শিশুদের। বড়রা জরুরি কাজে বাইরে যেতে পারলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুদের ঘরবন্দি থেকে শরীর ও মনে প্রভাব পড়েছে। তাই এ সময় শিশুর প্রতি বাড়তি যত্ন নিতে হবে। তাদের পুষ্টি ও মানসিক বিকাশ নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টি গবেষক ডা. লিয়াকত আলীর পরামর্শ জানাচ্ছেন এমি জান্নাত

শিশুর সঠিক পুষ্টি

শিশুর মনের ওপর যে কোনো প্রভাব তার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ঘটায়। তাই এ একঘেয়ে সময়ে পুষ্টিগুণ বজায় রেখে তাকে সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে। তাদের স্বভাবতই খাদ্যের প্রতি অনীহা থাকে। আর করোনার এই সময় তারা ঘরে থেকে মাঝে মধ্যেই খিটখিটে থাকার কারণে খাবার নিয়ে বেশি ঝামেলা করতে পারে। এ কারণে এই সময় তাদের পছন্দের খাবারগুলো দেওয়ার চেষ্টা করুন। তবে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত হতে হবে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবারগুলো দিয়েই মজাদার রেসিপি তৈরি করে দিতে পারেন। যেমন- শিশুরা সাধারণত দুধ-ডিম খেতে চায় না। এ ক্ষেত্রে পুডিং বা তাদের পছন্দের ডেজার্ট তৈরি করে দিন। এ ছাড়া ঋতুকালীন প্রতিটি ফল রোগ প্রতিরোধে খুবই উপকারী। তবে হজমে ব্যাঘাত ঘটায় এমন ফল কাঁঠাল, লিচু- এগুলো অতিরিক্ত না খাওয়াই ভালো।

সুস্বাস্থ্যে সচেতনতা

যেসব শিশু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, তাদের অনেকেই লক্ষণবিহীন ছিল কিংবা মৃদু উপসর্গযুক্ত। কিন্তু তারা এ ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে বেশি ভূমিকা রাখে। তাই শিশু ঠা-াজনিত রোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্যান্য বয়স্ক সদস্য থেকে দূরে রাখতে হবে। এ ছাড়া টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে বাসায় চিকিৎসা নিতে হবে। খুব বেশি জরুরি না হলে হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিবারের কেউ বাইরে গেলে ভালো করে হাত ধুয়ে ও কাপড় পরিবর্তন করেই শিশুর কাছে যাবেন। তাকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে হলে ঘরের ভেতরে রাখুন। মানতে না চাইলে বুঝিয়ে বলুন। কিন্তু শাসন করবেন না। এতে মনের ওপর চাপ বাড়বে। স্কুল, কোচিং, মার্কেট বা দূরে কোথাও নিয়ে যাবেন না। এর পাশাপাশি করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাড়ির পরিচ্ছন্নতাও জরুরি। এ জন্য ঘরের মেঝে, আসবাবপত্র সবকিছু পরিষ্কার রাখুন।

পড়াশোনায় উৎসাহ

করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর এপ্রিল পর্যন্ত ঈদসহ নানা ছুটির কারণে মে মাস থেকেই অনলাইনে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর কাজ শুরু করেছে অনেক স্কুল। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চলছে অনলাইন ক্লাস। কিন্তু অনেক শিশুই এতে অভ্যস্ত হতে পারছে না। বিশেষ করে প্রাইমারি লেভেলের শিক্ষার্থীরা। তাই তাদের পড়াশোনার জন্য অভিভাবকদের প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ টেলিভিশন কিংবা অনলাইনে ক্লাসের অভিজ্ঞতা একদম নতুন। এ জন্য অভিভাবকরা নির্ধারিত সময়ে শিশুদের নিয়ে টেলিভিশনের সামনে বা অনলাইনে ক্লাসে অংশ নেবেন। এ ক্ষেত্রে সে যা বুঝতে পারছে না, এ বিষয়ে তাকে সাহায্য করবে। করোনা পরিস্থিতির জন্যই বিশ্বব্যাপী শিশুরা পরিচিত হচ্ছে অনলাইন স্কুলের সঙ্গে। এ ধারণাটি একেবারে নতুন না হলেও বাংলাদেশে ব্যাপারটি নতুন আর সাময়িকও। কারণ করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে শিক্ষার্থীরা আবার নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করতে পারবে।

মানসিক বিকাশ

শারীরিক পরিচর্যার পাশাপাশি শিশুর মানসিক যত্নও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশুর একঘেয়েমি দূর করতে বাড়িতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করুন। অরিগ্যামি, ছবি আঁকাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দিন। সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই যেন তারা আনন্দে থাকে, সেটি খেয়াল রাখতে হবে। এ সময় তাদের ইতিবাচক ইচ্ছার প্রতি গুরুত্ব বেশি দিতে হবে। এখন যেহেতু তারা ঘরে থাকছে- সেহেতু টিভি, মোবাইল ফোন বা যে কোনো মিডিয়ার সঙ্গে সময় বেশি কাটাচ্ছে। এগুলোয় প্রচারিত নানা রকম খবর বা গুজবে তারা মানসিকভাবে বিভ্রান্ত হতে পারে। এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব- এ বিষয়ে আশ্বস্ত করুন। এতে তারা আতঙ্ক থেকে দূরে থাকবে।

advertisement
Evaly
advertisement