advertisement
advertisement

করোনাকালেও ঈদ আনন্দে মাতোয়ারা ভ্রমণপিপাসুরা

এমএ লতিফ চাঁদপুর ও ডাবলু কুমার ঘোষ চাঁপাইনবাবগঞ্জ
৫ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ আগস্ট ২০২০ ০০:৩৭
advertisement

করোনার প্রাদুর্ভাবে থমকে গেছে জনজীবন। ফলে এবারের ঈদের আনন্দ অনেকটাই ভাটা পড়েছিল। তার পরও ভ্রমণপিপাসুরা করোনাঝুঁকি উপেক্ষা করে একটু ভিন্ন স্বাদ নিতে বেরিয়ে পড়েছিলেন। চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেডের ত্রিনদীর মোহনায় ঈদের আনন্দে মেতে ওঠেন দর্শনার্থীরা। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই সেতু ঘিরে করোনার মাঝেও ভিড় ছিল ভ্রমণপিপাসুদের। এই উৎসব উদযাপনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘুরতে আসেন তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সীমিত পরিসরে দর্শনার্থীদের আসার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। মোলহেডে আগত দর্শনার্থীদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে দেখা যায়নি।

‘ঈদের দিনটা অন্যদিনের থেকে বিশেষ, তাই পরিবার-পরিজন নিয়ে মোলহেডে ঘুরতে এসেছি’ বললেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফাহিমা আক্তার। তিনি বলেন, বছরের অন্য সময়গুলোতে আমরা ব্যস্ত থাকি পেশাগত ও সংসার জীবন নিয়ে। কিন্তু ঈদ এলে স্বামী, ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘুরতে বের হতে হয়। যদিও এ বছর করোনার প্রভাব রয়েছে। এর পরও ঈদ বলে কথা।

প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্যের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। রয়েছে হাজারও প্রাকৃতিক নিদর্শন। যার মাঝে অন্যতম চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনার মনোরম দৃশ্য। মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নদীর মধ্যে অন্যতম। এর পাশ দিয়েই বয়ে গেছে ডাকাতিয়া, পাশে রয়েছে পদ্মা। আর চাঁদপুরের মেঘনা, ডাকাতিয়া আর পদ্মাকে

ঘিরে রয়েছে শহরের বড় স্টেশন মোলহেড এলাকাটি।

স্থানীয় কাউন্সিলর ফরিদা ইলিয়াস জানান, বড় স্টেশন মোলহেডে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের স্বাভাবিক চলাফেরায় আমরা উদ্বিগ্ন। জানিনা কী হয়। এর পরও বলি আল্লাহ যেন সবাইকে হেফাজত করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদের দিন থেকে চাঁদপুরের পর্যটনকেন্দ্র তিন নদীর মিলনস্থল মোলহেডে হাজার হাজার মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে ফিরে সময় কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন মানুষের উপস্থিতিতে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে এক মহামিলন মেলা। কেউ কেউ নিজস্ব ক্যামেরা কিংবা মুঠোফোনে বিভিন্ন রঙে-ঢঙে সেলফি তুলে আনন্দ উপভোগ করছেন।

হাজীগঞ্জের রামপুর থেকে আসা দম্পতি টুকু মজুমদার ও আমেনা বেগম বলেন, চাঁদপুরের এ জায়গাটি খুব সুন্দর। আসলেই নদীর হাওয়ায় মনটা জুড়িয়ে যায়। তাই এবারও করোনাকে উপেক্ষা করে ছেলেমেয়ে ও পরিবারের অন্যদের নিয়ে ঘুরতে চলে আসি।

চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মো. নাসিম উদ্দিন বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। তবে করোনার কারণে আমরা এ বছর জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলেছি। কিন্তু ঈদ কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ সেই নিষেধাজ্ঞা মানছে না।

অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখন পর্যন্ত বিনোদনকেন্দ্র গড়ে না উঠলেও ভ্রমণপিপাসুরা ঠিকই খুঁজে পান ভ্রমণের স্থানগুলো। করোনায় মানুষ বাড়িতে থেকে একেবারে হাঁপিয়ে উঠেছেন, তারা ঈদের সুযোগে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাহিরে বেরিয়ে পড়েন। হাঁপিয়ে ওঠা ভ্রমণপিপাসুরা তাই বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন মহানন্দা নদীর ওপর নির্মিত শেখ হাসিনা ও ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর সেতুকে। শিশু, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের মানুষের ভিড়ে করোনার ভয়কেও মøান করে দিয়েছে।

দূরদূরান্ত থেকে গরম, রোদ ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছুটে এসেছিলেন এখানে। এ ছাড়া অনেককে আবার বারঘরিয়া দৃষ্টিনন্দন পার্ক ও পদ্মা পাড়েও ঘুরতে দেখা গেছে। বারঘরিয়া পার্কে শিশু-কিশোররা নাগরদোলায় চড়ে তারা আনন্দ মেতে উঠেছিল। এদিকে ভ্রমণকারীদের অবসরে স্বাদ মেটাতে মুখরোচক খাবার হিসেবে ফুচকা, চটপটির দোকানসহ অন্যান্য খাবার সামগ্রীর পসরার পাশাপাশি পুতুল, হরেকরকমের বাঁশি, বেলুনসহ গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈষজপত্রের সমারোহ দেখা গেছে। এ ছাড়া নদীতে নৌ-তরী ও ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় চড়ে আনন্দে মেতেছিলেন তরুণ-তরুণীরা। এক কথায় জেলা শহরে দীর্ঘদিনের অনুপস্থিত বিনোদন কিছুটা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবার-পরিজনদের দিয়েছে ভিন্ন স্বাদের আনন্দ ও তৃপ্তি।

তবে একাধিক ভ্রমণপিপাসু জানান, করোনার প্রাদুর্ভাবে দীর্ঘদিন ধরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি। ঈদকে কেন্দ্র করে একটু ঘুরতে আসা। করোনাঝুঁকি থাকলেও অনেকেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে এসেছেন।

advertisement