advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লকডাউনে পাঠদানের অনন্য সমাধান
কাশ্মীরের পাহাড়ে খোলা আকাশের নিচেই স্কুল

আমাদের সময় ডেস্ক
৬ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২০ ০২:০৩
advertisement

করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে গোটা ভারতে স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে অনলাইনে। তবে অনলাইনের এই একঘেয়ে রুটিন আর লকডাউনের কারণে ঘরবন্দি অবস্থায় এরই মধ্যে হাঁপিয়ে উঠেছে শিশুরা। তবে এ সমস্যার দারুণ এক সমাধান বের করেছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পাহাড় ঘেরা বুদগাম জেলার দুধপাত্রি গ্রামের বাসিন্দারা। সুউচ্চ পাহাড়ের ওপর মনোরম পরিবেশে খোলা আকাশের নিচেই এখন চলছে এখানকার শিশুদের পাঠদান। এতে একদিকে যেমন বিশাল জায়গায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে, অপরদিকে পাঠের পাশাপাশি নির্মল ও সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে শিশুরাও প্রাণ খুলে শ^াস নিতে পারছে।

গত ২ আগস্ট দুধপাত্রির গ্রামের এই বিশেষ স্কুল নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিবিসি। যার অসাধারণ সব ছবি দেখে যে কোনো শিক্ষার্থীরই হয়তো দুধপাত্রির শিশুদের প্রতি হিংসা হবে। মনে মনে হয়তো বলবে, আহারে এমন একটা স্কুলে যদি আমিও পড়তে পারতাম!

আবিদ

ভাটের লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি সকালে দুধপাত্রির শিক্ষার্থীরা জলস্রোত আর সেতু পেরিয়ে পাহাড়ের ওপর তাদের নতুন শ্রেণিকক্ষে হাজির হয়। ছবির মতো সুন্দর তাদের এই শ্রেণিকক্ষের পেছনে থাকে বরফঢাকা হিমালয় পর্বতমালা। এরই মধ্যে কাশ্মীরে অন্তত ১৯ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে, মারা গেছে ৩৬৫ জন। তবে খোলা আকাশের নিচে এ পাঠ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে কয়েক মাস ধরে ঘরের ভেতর আটকে থাকা অভিভাবকদেরও প্রাণভরে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

স্কুলটির এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘বাসায় থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে যাওয়া এবং নিজেদের হতাশায় ডুবিয়ে রাখার চেয়ে এ ধরনের স্কুল আমাদের বাচ্চাদের জন্য অনেক ভালো। কর্মকর্তাদের উচিত স্থানীয়দের সহযোগিতায় এ ধরনের আরও আরও স্কুল বানানো।’

পাহাড়ি এলাকা হিসেবে কাশ্মীরের দুধপাত্রি এমনিতেই পর্যটকদের পছন্দের জায়গা। তবে করোনা মহামারীর কারণে গত গ্রীষ্মে সেখানে ছিল না পর্যটকদের আনাগোনা। স্থানীয়রা তাই পর্যটনকেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানগুলোকে আপাতত স্কুলের মতো অন্য কাজে ব্যবহারে কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারাও বলছেন, খোলা আকাশের নিচে এই স্কুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরাসহ কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধের সব নির্দেশনা মেনে চলা হচ্ছে। কাশ্মীরের আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রমজান ওয়ানি বলেন, সুরক্ষা বিষয়টি মাথায় রেখেই দুধপাত্রিতে পাঠদান করা হচ্ছে। তবে অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে আমরা তাঁবু টাঙ্গানোর চেষ্টা করছি, যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্লাস নেওয়া যায়।

দুধপাত্রির কমিউনিটি স্কুলে স্বেচ্ছায় কাজ করা এক শিক্ষক বলেন, এখানকার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই কাশ্মীরের গুজ্জার-বাকারওয়াল সম্প্রদায়ের। তাদের স্কুলে আসার তাড়নাই খোলা আকাশের নিচে পাঠদানে আমাদের পরিকল্পনাকে সফলতায় রূপ দিয়েছে। অন্য এলাকাগুলোতেও এ ধরনের স্কুলের চাহিদা তৈরি করছে।

advertisement
Evaly
advertisement