advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সরকারি ২৫ পাটকল আবার চালু হচ্ছে

আবু আলী
৭ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২০ ২২:৩৪
advertisement

বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) বন্ধ ঘোষিত মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়েছে। বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন বন্ধ ঘোষিত ২৫ মিলের শ্রমিকদের অবসান-পরবর্তী সময়ে মিল ও বিজেএমসির অন্য সম্পত্তির যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে কর্মপন্থা ও কর্মকৌশল নিয়ে নীতিনির্ধারণী কমিটি তাদের প্রথম বৈঠক করেছে। বৈঠকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক জানিয়েছেন, বন্ধ পাটকলের যন্ত্রপাতি যেন নষ্ট না হয় এবং মিলগুলো দ্রুত পুনরায় চালুর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাগিদ দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রচলিত পিপিপি বা যৌথ উদ্যোগ বা জিটুজি পদ্ধতি পুনরায় চালু করা সময়সাপেক্ষ হবে। এ জন্য দ্রুত চালু করতে ভাড়াভিত্তিক লিজ পদ্ধতি অবলম্বনেও প্রধানমন্ত্রী সায় দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, বন্ধ মিলের কর্মপন্থা ও কর্মকৌশলসম্পর্কিত নীতিনির্ধারণী কমিটির প্রথম সভায় তিনটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২৩ জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্য কোনো কাজে পাটকলের জমি বিক্রয় করা যাবে না। ঈদের পর পরই পাটপণ্য উৎপাদনে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং বর্তমানে এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে স্টেকহোল্ডার সভা করা হবে। স্টেকহোল্ডার সভা অনুষ্ঠানের সুবিধার্থে ইপিবি, বিজেএমএ, বিজেএসএ থেকে পাটপণ্য উৎপাদনে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং বর্তমানে এ শিল্পসংশ্লিষ্টদের তালিকা সংগ্রহ করতে হবে।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, অবসায়নের পরে দেশের পাটকলগুলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) যৌথ উদ্যোগ জি টু জি বা লিজ মডেলে পরিচালনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা হবে। বন্ধ মিলগুলো চালুর পাশাপাশি মিলগুলোকে উপযুক্ত ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন এবং বিজেএমসির জনবল কাঠামো পরিবর্তিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে যৌক্তিকীকরণের বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের

দুটি কমিটি এরই মধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। উদ্যোগের উদ্দেশ্য বহুমুখী পাটপণ্যের বর্তমান বাজার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে পাটপণ্যের উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পুনর্বিন্যাস করা হবে।

পাটমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কৃষকের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছে। এ জন্য বর্তমান সরকার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, পাট ক্রয়-বিক্রয় সহজীকরণের জন্য এসএমএসভিত্তিক পাট ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থাকরণ, কাঁচা পাট ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রণোদনা ও অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধির কাজ করছে। এ ছাড়াও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বিবেচনায় পাট চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি পাটশিল্পের সম্প্রসারণে সব ধরনের সহায়তা করবে সরকার।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পিপিপি অথবা জয়েন্ট ভেঞ্চার পদ্ধতিতে মিলগুলো পুনরায় চালু করা যেতে পারে। বিডা অথবা বেজাকে কয়েকটি মিল হস্তান্তর করা যেতে পারে।

অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, কোনো অবস্থায়ই মিলের জমি বিক্রি করা যাবে না। ভাড়াভিত্তিক ইজারার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ আকর্ষণের সুবিধার্থে মেয়াদ বাড়ানো, মিলে থাকা কাঁচামাল, তৈরি পণ্য, যন্ত্রপাতি ও অন্য সম্পত্তির দ্রুত ইনভেন্টর, বিজেএমসি কর্তৃক নিয়মিত মিলগুলো পর্যবেক্ষণ, মিল চালুর ক্ষেত্রে তরুণ ও কর্মক্ষম শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, মিলগুলোর যন্ত্রপাতি, উৎপাদিত পণ্য, কাঁচামালসহ সব সম্পত্তির ইনভেন্টরি সম্পন্ন করতে হবে।

advertisement
Evaly
advertisement