advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement

সব জানতেন স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আজাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ আগস্ট ২০২০ ১১:৫৩
স্বাস্থ্যের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদ। পুরোনো ছবি
advertisement

চিকিৎসাসেবার বিষয়ে কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা নেই জেনেও জেকেজি হেলথ কেয়ারকে করোনা পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংস্থাটির তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল কালাম আজাদ নিজেই জেকেজির কাজ পাওয়ার বিষয়ে সব ধরনের সহায়তা করেছেন। এমনকি অনুমোদন দেওয়ার সময় সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্সও ছিল না জেকেজির। অনৈতিক সুবিধা পেতেই সাবেক ডিজি এহেন কা- করেছিলেন। করোনা পরীক্ষা নিয়ে জেকেজির চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তকালে এসব তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বুধবার আদালতে জমা দেওয়া ডিবির চার্জশিটেও এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে জেকেজিকে অবৈধভাবে সহায়তা করার ক্ষেত্রে আবুল কালাম আজাদের নাম উঠে এলেও চার্জশিটে তাকে আসামি করা হয়নি। জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরী ও চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীসহ আট জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছে জেকেজি হেলথ কেয়ার। জেকেজির জালিয়াতির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি জেনেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। চার্জশিটে ডিবি আরও উল্লেখ করেছে, জেকেজির জালিয়াতি ও প্রতারণার বিষয়টি সরেজমিন তদন্তকালে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি-প্রশাসন) ডা. নাসিমা সুলতানাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তিনি জানিয়েছেন, তৎকালীন ডিজি আবুল কালাম আজাদের নির্দেশেই তিনি জেকেজির অনুমোদনসংক্রান্ত সব কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি গোলাম মোস্তফা রাসেল আমাদের সময়কে বলেন, করোনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির ঘটনায় করা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই জেকেজি হেলথ কেয়ারের ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে জেকেজি তাদের সংগ্রহ করা নমুনাগুলোর মধ্যে কোনোটি ল্যাবে পাঠিয়েছে, কোনোটি পাঠায়নি। এমনও হয়েছে, পরীক্ষা করাতে আসা ব্যক্তিদের শুধু করোনার উপসর্গ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেও রিপোর্ট দিয়েছে জেকেজি। আইডিসি নামক ভুয়া ইমেইল সার্ভারের মাধ্যমে এসব মনগড়া রিপোর্ট তারা নমুনা জমা দেওয়া রোগীদের কাছে পাঠিয়েছে। জেকেজি কোনো তালিকাভুক্ত গ্রুপ অব কোম্পানি না। তাই সংশ্লিষ্টরা তাদের মন মতো পদবি ব্যবহার করেছেন। ডা. সাবরিনা কখনো নিজেকে জেকেজির চেয়ারম্যান, কখনো কনভেইনার দাবি করতেন।

নথি থেকে জানা যায়, এ মামলায় গত ২২ জুন জেকেজির সাবেক গ্রাফিক্স ডিজাইনার হুমায়ুন কবীর হিরু ও তার স্ত্রী তানজীন পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হিরু স্বীকারোক্তিতে জানান, তিনি ভুয়া করোনা সার্টিফিকেটের ডিজাইন তৈরি করতেন। এর সঙ্গে জেকেজি গ্রুপের লোকজন জড়িত। ওই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জেকেজির সিইও আরিফুলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। সিইও জানান, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরীর জ্ঞাতসারেই সব কিছু হয়েছে। এর পর গত ১২ জুলাই ডা. সাবরিনা চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৩ জুলাই তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর পর ১৭ জুলাই তার ফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আর মামলায় গত ২৩ জুন আরিফ চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে যান। পরবর্তী সময় গত ১৫ জুলাই তাকে ফের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে সব আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

advertisement
Evaly
advertisement