advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বরিশালের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে

আল মামুন বরিশাল
৭ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২০ ২৩:১৮
advertisement

বরিশালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে ডুবে গেছে বহু এলাকা। অনেক এলাকার বেড়িবাঁধও ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার বিকাল থেকে শুরু হওয়া জোয়ারের পানি বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

জেলার অধিকাংশ নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার ওপর দিয়ে। এতে নদীর পানি উপচে বরিশাল নগরীসহ অধিকাংশ উপজেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চল পানির নিচে রয়েছে।

এদিকে বরিশাল নগরীর খাল ও ড্রেনগুলোতে বর্জ্য আটকে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। ঘনীভূত লঘুচাপে সৃষ্ট বৃষ্টিতে জোয়ারের পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কীর্তনখোলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় সবকটি নদ-নদীর পানি বুধবার বিকালে বিপদসীমা অতিক্রম করে। মেঘনা তীরবর্তী উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, মুলাদী উপজেলার দুই-তৃতীয়াংশ জনপদ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া বিভাগের ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠি জেলার নদীগুলোতেও পানি বৃদ্ধি পায়। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলার চরাঞ্চলের হাজার হাজার পরিবার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বুধবার বিকাল থেকে কীর্তনখোলাসহ বিভাগের নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। জোয়ারের কারণে যেসব এলাকায় পানি উঠেছে সেগুলো নামতে সময় লাগছে ভিন্ন কারণে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বরিশালে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিকে জোয়ারের পানিতে ডুবেছে বিভিন্ন এলাকা আবার অপরদিকে টানা বৃষ্টিপাতে এ পানি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নগরীর একাধিক বাসিন্দা জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল না থাকার কারণে পানি নামতেও পারছে না। ফলে নগরবাসী পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক

মাসুদ রানা রুবেল বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বরিশাল ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া বাতাসের গতিবেগ ছিল ১০ থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল।

তিনি জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার রয়েছে এবং দক্ষিণ-পূবাল বাতাস নদ নদীতে পানি বৃদ্ধির একটি কারণ। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান আবহাওয়া অফিসের এ কর্মকর্তা। পানি উন্নয়ন বোর্ড বরিশালের সহকারী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, বুধবার বিকাল থেকে বরিশাল বিভাগের নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে চলছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান জানান, বরিশাল নগরীসহ অধিকাংশ উপজেলার নদী তীরবর্তী অঞ্চল পানির নিচে রয়েছে। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। পানিবন্দি লোকজনের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার বিতরণের জন্য স্ব স্ব উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

advertisement
Evaly
advertisement