advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মনছুরকে নিচ্ছে না চসিকের কোনো বিভাগ

হামিদ উল্লাহ চট্টগ্রাম
৯ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ আগস্ট ২০২০ ১২:১৬
advertisement

চট্টগ্রাম শহরকে বিলবোর্ডে ঢেকে দেওয়ার অপবাদ ঘুচাতে না পেরে কোনো বিভাগেই কাজ করতে পারছেন না চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক প্রধান সাইনবোর্ড পরিদর্শক আবুল মনছুর। দুই দফা চেষ্টা করেও তিনি রাজস্ব বিভাগে যোগ দিতে পারেননি। এর পর স্বাস্থ্য বিভাগে যোগ দিলেও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, মনছুর সেখানে কাজ করতে পারবেন না।

আবুল মনছুরের চাকরিটা শুরু হয়েছিল চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণকর্মী হিসেবে। কিন্তু শুরু থেকেই নিজ বিভাগে কাজ না করে করেছেন রাজস্ব বিভাগে; ছিলেন কর আদায়কারী। নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী তাকে চাকরিচ্যুত করেন। পরে আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও মহিউদ্দিন চৌধুরীর ১৭ বছর তিনি চসিকে চাকরি করতে পারেননি। সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম তাকে সাইনবোর্ড পরিদর্শক পদে দায়িত্ব দেন। কিন্তু আ জ ম নাছির উদ্দীন মেয়র হওয়ার পর আবুল মনছুরকে নিজ পদ পরিবার কল্যাণকর্মী পদে পাঠিয়ে দেন। আ জ ম নাছিরের দায়িত্বপালনের শেষদিনে গত ৫ আগস্ট আবুল মনছুরের নামে একটি দাপ্তরিক আদেশ জারি হয়। তাকে চসিকের স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক করা হয়। কিন্তু চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, আবুল মনছুর এ পদে যোগ দিতে পারবেন না। আমাকে জানিয়ে এ পদোন্নতি দেওয়া হয়নি। এটি একটি টেকনিক্যাল পদ। এ পদে কাজ করতে ফুড অ্যান্ড স্যানিটেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সাত বছরের অভিজ্ঞতা লাগে। মনছুরের তা নেই। অনভিজ্ঞ কারও এখানে কাজ করার সুযোগ নেই। আবুল মনছুর পরিবার কল্যাণকর্মী হিসেবে চাকরি নিলেও এক দিনের জন্যও সে কাজ করেননি। এমন অনভিজ্ঞ লোককে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসালে নগরবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত মেয়র থাকাকালে চসিকে পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণকর্মী পদে যোগ দেন আবুল মনছুর। তবে তিনি কাজ শুরু করেন কর আদায়কারী হিসেবে। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আবুল মনছুরকে বহিষ্কার করেন। মনছুর উচ্চ আদালতের আদেশে চাকরি ফিরে পেলেও মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৭ বছর মেয়র থাকাকালে তিনি আর চাকরি করতে পারেননি। ২০১০ সালের চসিক নির্বাচনে মনজুর আলমের পক্ষে প্রচারপত্র বিলির অভিযোগে খুলশী থানাপুলিশ আবুল মনছুরকে আটক করে। পরে মনজুর আলম তাকে ছাড়িয়ে আনেন। ওই নির্বাচনে মহিউদ্দিন চৌধুরীকে পরাজিত করে মনজুর আলম মেয়র হলে আবুল মনছুরকে প্রধান সাইনবোর্ড পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব দেন। সে সময় চট্টগ্রাম শহরের অলিগলি বিলবোর্ডে ছেয়ে যায়।

অভিযোগ উঠে, মনছুর আলম ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে হাজার হাজার সাইনবোর্ড স্থাপনের অনুমতি দেন। ফলে চট্টগ্রামের পাহাড়-পর্বত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিলবোর্ডে ঢাকা পড়ে। মনজুর আলমকে হারিয়ে ২০১৫ সালে আ জ ম নাছির উদ্দীন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক ব্যবসায়ী নিজ দায়িত্বে বিলবোর্ড সরিয়ে নেন। এর পরও চসিক ৪ হাজার ৯৪৮টি বড় বিলবোর্ড অপসরণ করে। বিলবোর্ড অপসারণ করে ব্যাপক প্রশংসা পান আ জ ম নাছির।

আবুল মনছুর বলেন, বিলবোর্ড স্থাপনে আমার কোনো ক্ষমতা ছিল না। আমার কাজ ছিল বিলবোর্ড সংক্রান্ত কোনো আবেদন এলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া। মনছুর বলেন, আমি স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক হতে চাইনি। উপ-কর কর্মকর্তা হতে চেয়েছিলাম। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এ জন্য চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু সদ্য বিদায়ী মেয়র মহোদয় আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকায় আমাকে সে পদ দিতে রাজি হননি। এর পর সংস্থাপন শাখা থেকে আমাকে স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক করা হয়। আমি গত ৫ আগস্ট চিঠি পেয়েই ওই পদে যোগ দিয়েছি। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে এ পদে আছেন নজরুল ইসলাম, যিনি একজন দৈনিকভিত্তিক চাকরিজীবী।

 

advertisement