advertisement
advertisement

এডিসের লার্ভা মিলল ৮৭ স্থাপনায় : ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ আগস্ট ২০২০ ০০:১২
advertisement

নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বছরব্যাপী মশকনিধন কার্যক্রমের পরিকল্পনা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এর অংশ হিসেবে কয়েকটি পর্যায়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের (চিরুনি অভিযান) সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে গত ৬ থেকে ১৫ জুন প্রথম ও ৪ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের সফল চিরুনি অভিযান শেষ করেছে সংস্থাটি। গতকাল ৮ আগস্ট শনিবার থেকে শুরু হয়েছে তৃতীয় পর্যায়ের ১০ দিনব্যপী চিরুনি অভিযান। প্রথম দিনে গতকাল সকাল ১০টা থেকে ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১২ হাজার ৭৩৬টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে ৮৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ ছাড়া এডিস মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায় ৭ হাজার ৩০১টি বাড়ি/স্থাপনায়। এ সময় ২০টি মামলায় ১ লাখ ২৮ হাজার ৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং অন্যান্য বাড়ি ও স্থাপনার মালিককে সতর্ক করা হয়েছে।

ডিএনসিসি জানায়, গতকাল অভিযানের প্রথম দিনে উত্তরা অঞ্চল ১-এর অধীনে ৭৯৮টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১২টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ সময় ৬টি মামলায় ১৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ৬৮৭টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেছে। মিরপুর অঞ্চল ২-এর অধীনে ২ হাজার ৪১৭টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। ২৩৫টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিসের প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাস্ক ব্যবহার না করার জন্য ৫টি মামলায় ৬০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মহাখালী অঞ্চল ৩-এর অধীনে ১ হাজার ৬১৪টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ৩৮টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ৯৭৫টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এ সময় ৪টি মামলায় ৯০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

মিরপুর ১০, অঞ্চল ৪-এর অধীনে ১ হাজার ৫২৬টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ৮টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এ সময় ২টি মামলায় ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬২৫টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

কারওয়ান বাজার, অঞ্চল ৫-এর অধীনে ২ হাজার ১৬১টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ ছাড়া এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায় ১ হাজার ৬৪৪টি বাড়ি/স্থাপনায়। হরিরামপুর, অঞ্চল ৬-এর অধীনে ১ হাজার ৩৯০টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১০টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায় ১ হাজার ১৩৮টি বাড়ি/স্থাপনায়।

দক্ষিণখান অঞ্চল ৭-এর অধীনে ৮৮৬টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায় ৬৯৩টি বাড়ি/স্থাপনায়। উত্তরখান অঞ্চল ৮-এর অধীনে ৭৪৩টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ২টিতে মশার লার্ভা পাওয়া যায়। মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায় ৪৬৮টি বাড়ি/স্থাপনায়। ভাটারা অঞ্চল ৯-এর অধীনে ৪৯১টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে ৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায় ২৮৯টি বাড়ি/স্থাপনায়।

সাঁতারকুল অঞ্চল ১০-এর অধীনে মোট ৭১০টি বাড়ি/স্থাপনা পরিদর্শন করে কোনো এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়নি। তবে ৫০৭টি বাড়ি/স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেছে। উল্লিখিত সব সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজনন স্থলে কীটনাশক ছিটানো হয়েছে এবং জনসাধারণকে এ বিষয়ে পরবর্তী সময় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement