advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দৃষ্টির সীমানা ছাড়ালেন সুর সম্রাট

বিনোদন সময় প্রতিবেদক
১০ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ আগস্ট ২০২০ ২২:৩৫
advertisement

বরেণ্য সংগীত পরিচালক ও গীতিকার আলাউদ্দিন আলী আর নেই। গতকাল রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শিল্পীর ছেলে শওকত আলী রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে গেলে গত শনিবার ভোর পৌনে ৫টায় তাকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। অবস্থা বিবেচনা করে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন সুর সম্রাট।

আলাউদ্দিন আলী দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণের সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রথমে ২০১৫ সালের ৩ জুলাই তাকে ব্যাংকক নেওয়া হয়েছিল। সেখানে পরীক্ষার পর জানা যায়, তার ফুসফুসে একটি টিউমার রয়েছে। এর পর তার অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ক্যানসারের চিকিৎসাও চলছিল। তার আগে বেশ কয়েক দফায় মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানার

বাঁশবাড়ী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত সাংস্কৃতিক পরিবারে ১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর আলাউদ্দিন আলীর জন্ম। তার বাবা ওস্তাদ জাবেদ আলী ও মা জোহরা খাতুন। দেড় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকার মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে চলে আসেন আলাউদ্দিন আলী। তিন ভাই ও দুই বোনের সঙ্গে সেই কলোনিতেই বড় হন। বাবা জাবেদ আলী ও চাচা সাদেক আলীর কাছেই প্রথম সঙ্গীতে শিক্ষা নেন এই গুণী শিল্পী। ১৯৬৮ সালে তিনি যন্ত্রশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে আসেন এবং আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে যোগ দেন। এর পর প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজসহ বিভিন্ন সুরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। একাধারে তিনি ছিলেন সুরকার, সংগীত পরিচালক, বেহালাবাদক ও গীতিকার।

আলাউদ্দিন ১৯৭৫ সালে সংহীত পরিচালনা করে বেশ প্রশংসিত হন। তিনি ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৯), ‘সুন্দরী’ (১৯৮০), ‘কসাই’ ও ‘যোগাযোগ’ চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৮৮ সালে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ১৯৮৫ সালে। পাশাপাশি তিনি খ্যাতিমান পরিচালক গৌতম ঘোষ পরিচালিত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেন। তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘যে ছিল দৃষ্টির সীমানায়’, ‘প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ’, ‘ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়’, ‘দুঃখ ভালোবেসে প্রেমের খেলা খেলতে হয়’, ‘হয় যদি বদনাম হোক আরও’, ‘আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার ব্যারিস্টার’ প্রভৃতি।

advertisement
Evaly
advertisement