advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জামিনে মুক্ত শিপ্রা, আজ সিফাতের আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক কক্সবাজার
১০ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৯ আগস্ট ২০২০ ২২:৩৫
advertisement

পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের সঙ্গে তথ্যচিত্র নির্মাণে যুক্ত থাকা স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিপ্রা দেবনাথ কক্সবাজার কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আদালতের জামিন আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর গতকাল রবিবার বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেন।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজারের রামু জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেলোয়ার হোসেন শিপ্রা দেবনাথের জামিন মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে একই সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া রিফাতুল ইসলাম সিফাতের জামিন শুনানি হলেও আদেশের জন্য সোমবার (আজ) সময় নির্ধারণ করেছেন আদালত।

শিপ্রা দেবনাথের আইনজীবী অরূপ বড়ুয়া তপু জানান, শিপ্রার বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা মামলায় জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত শিপ্রার জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক। আদেশের লিখিত কপি কারাগারে পৌঁছার পর মুক্তি পান শিপ্রা।

অপরদিকে নিহত মেজর (অব) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের আরেক সহকর্মী রিফাতুল ইসলাম সিফাতের জামিন আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে সোমবার (আজ)।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (টেকনাফ-৩) বিচারক তামান্না ফারাহ এই আদেশ দেন।

সিফাতের আইনজীবী মাহবুবুল আলম টিপু জানান, পুলিশের দায়ের করা হত্যা ও মাদকের দুটি মামলায় সিফাতের জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে জামিনের জন্য আবার সোমবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

গত ৩১ জুলাই (শুক্রবার) রাতে টেকনাফ বাহারছড়া চেকপোস্টে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এর পর গত ৩ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ঘটনার তদন্তে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত দল গঠন করে। বুধবার (৫ আগস্ট) নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান ও ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনকে আসামি করে হত্যামামলা দায়ের করেন। ওইদিন রাতেই টেকনাফ থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়।

পরদিন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকতসহ মামলার সাত আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এতে র‌্যাব আদালতে প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক পরিদর্শক লিয়াকত, ওসি প্রদীপ এবং এসআই দুলাল রক্ষিতকে সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর এবং চার আসামিকে ২ দিন করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দেশ দেন। এ ছাড়া অনুপস্থিত থাকা বাকি ২ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

তবে জেলা পুলিশের দাবি, মামলায় পলাতক থাকা এএসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোস্তফা নামের কোনো পুলিশ সদস্য বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্র ও টেকনাফ থানায় কর্মরত ছিলেন না। এর মধ্যে শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ২টার পর থেকে কক্সবাজার জেলা কারাগারের ফটকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। রবিবার দ্বিতীয় দিনের মতো তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এ ছাড়া সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিন আসামি টেকনাফ বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের বরখাস্ত হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী এবং টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও এসআই নন্দলাল রক্ষিতকে ৯ আগস্ট থেকে র‌্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement