advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণে জনগণ নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে না : গয়েশ্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
৯ আগস্ট ২০২০ ২২:৪৩ | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২০ ০০:৩৪
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পুরোনো ছবি।
advertisement

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের ফলে জনগণ আজকে নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

এ সময় গয়েশ্বর কক্সবাজার-টেকনাফ-উখিয়াতে সংঘটিত বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডসমূহেরও বিচার দাবি করেন।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্মরণে এই আলোচনা সভা হয়। মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব  সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল প্রমুখ। 

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘মেজর (অব.) সিনহার হত্যাকাণ্ডেফ বিষয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যায়নি তিনি উদ্যোত হয়েছেন, অস্ত্র হাতে নিয়ে আসছেন। তাও তো না। তাহলে তাকে গুলি করার প্রয়োজন দেখা দিল কেন? আর পুলিশের নিয়ম আছে গুলি করার প্রাথমিকভাবে- আত্মরক্ষার্থে, হাঁটুর নিচে যাতে সে আগাতে না পারে। বুকে গুলি করার অর্ডার  তো পুলিশের থাকে না, নিয়মও নেই।’

বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রত্যেকটা স্তম্ভ দলীয়করণের মাধ্যমে এমন অবস্থায় নিয়ে  গেছে  যে, মানুষের নিঃশ্বাস  ফেলার অবশিষ্ট নেই। আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, আইয়ুবের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। আজকে আইয়ুব খান  বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের এই অবস্থা  দেখে লজ্জা পেত। সেই কারণে নীতি-নৈতিকতা,  যে গণতন্ত্র মূল্যবোধ-গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দেখার জন্য একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল, যুদ্ধ আমরা করেছিলাম, সেই গণতন্ত্র আমরা এখনো পাই নাই। একাত্তরের সেই যুদ্ধ এখনো  শেষ হয়ে যায়নি।’

মেজর (অব.) সিনহা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে গয়েশ্বর বলেন, ‘ওসি প্রদীপসহ তার সাথে আরও সাতজনকে কেন ধরলেন? প্রাথমিকভাবে সন্দেহ পোষণ হয়েছে- এটা হত্যাকাণ্ড, ইট ওয়াজ নট এক্সিডেন্টাল। না হতে পারে পূর্ব-পরিকল্পিত। তারা আত্মসমপর্ণে গেল কেন? তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আদালত অভিযোগ গ্রহণ করেছে  সেজন্য তারা আত্মসমর্পণ করেছে। তারা (পুলিশ) হত্যা মামলার আসামি যদি হয়, আদালত যদি বিশ্বাস করে তারা দায়ী। তাহলে তাদের (পুলিশ) দায়ের করা আসামি কেন জেলখানায় থাকবে? সেই মামলা কেন প্রত্যাহার হবে না। এটা সোজা হিসাব, এটা কঠিন হিসাব না।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘সিনহা হত্যাকান্ড বিচ্ছিন্ন ঘটনা যদি হয়, তাহলে আমার দেশের সরকার প্রধানের কাছে জানতে চাই, দুইটি বাহিনী প্রধান বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য সময় নষ্ট করলেন  কেন? আমরা এইটুকু বিশ্বাস করি তাদের সর্বোচ্চ যোগ্যতা আছে বলেই তারা সেখানে আছেন। একজন প্রধানের  তো ওখানে যাওয়ার দরকার হয় না, পুলিশ প্রধান ঢাকায় বইসা অর্ডার দিলেই দ্যাটস এনাফ।’

সিনহা হত্যার আগে কক্সবাজার-টেকনাফ-উখিয়াতে সংঘটিত বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডসমূহেরও বিচার দাবি করেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, ‘বিনা বিচারবিচারে উখিয়া-টেকনাফে ২৬৪ জন মানুষ হত্যা হয়েছে। বিনা বিচারে মানুষ হত্যা যেটা স্বাধীন  দেশে হয় না। সন্দেহ করে আপনি মানুষ মেরে ফেলবেন? এটা  মেনে নেয়া যায় না।’

advertisement
Evaly
advertisement