advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সাংসদ মহীউদ্দীনের গাজীপুরে অনুমোদনহীন হাসপাতাল

গাজীপুর প্রতিনিধি
১১ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২০ ০০:৪৭
advertisement

গাজীপুরে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মালিকানাধীন সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটি চলছে অবৈধভাবে। চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত ৫০০ শয্যার এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রায় ছয় বছর হয়েছে। তবে সেখানে এখনো নেই চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগ। এসব নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ এনে গতকাল হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত টাস্কফোর্স। একই দিন সেবা হাসপাতাল নামের আরও একটি প্রতিষ্ঠানেও অভিযান চালানো হয়। দুপুরে র‌্যাবের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুটি হাসপাতালকে জরিমানা করা হয় ১১ লাখ টাকা। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে সালমা তানজিয়া, র‌্যাব ১-এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্প কমান্ডার আবদুল্লাহ আল মামুনসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটির যে ল্যাব রয়েছে, তার অনুমোদন নেই। এ ছাড়া নানা অব্যবস্থাপনাসহ অপারেশন থিয়েটারে ব্যবহৃত মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ল্যাব টেস্টের ক্ষেত্রে মেডিক্যাল শর্ত মানা হয়নি।

এ সময় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা নয়, সিলগালা করা। আমরা চাচ্ছিÑ আমাদের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো সুষ্ঠু নিয়মে চলুক। আইনের মধ্যে থেকে সেবা নিশ্চিত করুক। আরও একটি বিষয় বলতে চাইÑ কিছু দিন আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা একটি চিঠি দেয়, যেটিতে মিডিয়ায় দেখেছি ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে আমি এটি ক্লিয়ার করে বলতে চাইÑ কোনো অভিযান বন্ধ করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। মিডিয়া বলেছে বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু আপনারা দেখেছেন অভিযান বন্ধ হয়নি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঠিক রেখে এটি হচ্ছে সমন্বিতভাবে আরও জোরদার করা। সাধারণ মানুষ সেবা পেতে এসে যেন হ্যাম্পারের মধ্যে না পড়েন। তিনি সাংবাদিকদের কাছে তথ্য চেয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে ঢেলে সাজাতে সহযোগিতা কামনা করেন।

তানজিয়া আরও বলেন, এই হাসপাতালে কিছু সমস্যা পাওয়া গেছে। সে জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আসতে বলেছি। তারা এলে যে অব্যবস্থাপনা পেয়েছি, সেগুলো বলব। অভিযান শেষে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটিতে যে অনিয়ম পেয়েছি, তা অনাকাক্সিক্ষত। বিশেষ করে অপারেশন থিয়েটারে যে সার্জিক্যাল আইটেম ও ওষুধ পাওয়া গেছে, সেগুলো ৫-৬ বছর আগের মেয়াদোত্তীর্ণ। এগুলো ব্যবহার করা হলে রোগীর নানা রকম সমস্যা হতে পারে। এখানকার ডাক্তার এবং আমাদের সঙ্গের ডাক্তাররাও মত দিয়েছেনÑ এটি কাক্সিক্ষত নয়। এ ছাড়া এখানে যে প্যাথলজিক্যাল ল্যাব রয়েছে, সেখানে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়া ব্লাড ট্রান্সমিশন করা হচ্ছে। রক্ত পরিসঞ্চালন করতে গেলে রক্ত পরিসঞ্চালন আইন অনুযায়ী লাইসেন্স নিতে হয়। কিন্তু তাদের কোনো লাইসেন্স নেই, লাইসেন্স ছাড়াই রক্ত পরিসঞ্চালন করা হচ্ছিল। এখানে যে ব্লাড কালচার করা হচ্ছে, তা মানুষের কাছ থেকে নেওয়া, যদিও এগুলো শিপ থেকে নেওয়ার কথা। এতে ভুল রিপোর্ট আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালটির কোনো লাইসেন্স নেই। যেহেতু মন্ত্রণালয় ২৩ আগস্ট পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ দিয়েছে, সে কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন সিলগালা করছি না। এই সময়ে লাইসেন্স নিতে ব্যর্থ হলে আমরা অবশ্যই এটি বন্ধ করে দেব। আমরা চাই আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো চলুক। যারা ভালো চালাবেন তাদের আমরা ধন্যবাদ দেব। আমরা চাই, রোগীরা যেন প্রতারণা ও ভুল রিপোর্ট ছাড়া ভালো চিকিৎসা পান। আমরা মনে করি, সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে আমরা হয়তো এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব।

পরে অব্যবস্থাপনা ও মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী ব্যবহার করায় হাসপাতালটিকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর হাসপাতালটির চেয়ারম্যান। এ বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম আরও বলেন, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিয়ে না, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আইন সবার জন্য সমান। সুতরাং আমি যদি কোনো অন্যায় বা অপরাধ করি, আমি সরকারের কোন দায়িত্বে আছি বা ম্যাজিস্ট্রেট আছি বলে আলাদা কোনো বিধান নেই। এ ক্ষেত্রে সবাই সমান। তবে আমরা সম্মান করিÑ যারা দায়িত্বশীল, তারা দায়িত্বশীল আচরণ করবেন। দায়িত্বশীলরা খারাপ আচরণ করলে সাধারণ মানুষ কষ্ট পাবে। নিয়ম সবার জন্য সমান। দায়িত্বশীলরা যদি দায়িত্বশীল আচরণ না করেন, সাধারণ মানুষ শিখবে কোত্থেকে। কে মালিক, কে পরিচালক এটি আমাদের দেখার বিষয় নয়; আমরা চাই প্রতিষ্ঠান ভালো চলুক।

তিনি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ২৩ আগস্টের মধ্যে অনুমোদনহীন হাসপাতালগুলো লাইসেন্স নিতে ব্যর্থ হলে সেই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব। কারণ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রতারণা বা ছিনিমিনি করা হোক তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

গতকাল দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও প্যাথলজিক্যাল ল্যাব পরিদর্শন করে এবং কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে।

অভিযানের বিষয়ে সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. ইউনুছ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি লাইসেন্সের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের উল্লেখ করে, এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ মালামাল ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে সেবা হাসপাতালকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

advertisement
Evaly
advertisement