advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নির্বাচন পরিচালনায় একটিই আইন হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২০ ০০:৪৭
advertisement

স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনের জন্য নতুন আইন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ডের নামে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের মেয়র, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নামের পরিবর্তন করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, স্থানীয় সরকার আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এটি আজকে কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। আগামী ২৩ ও ২৪ তারিখে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কমিশনের মতামতের ভিত্তিতে এটি তৈরি করে কমিশনের ওয়েবসাইটসহ বিভিন্ন মহলে মতামতের জন্য পাঠানো হবে।

অভিন্ন নির্বাচন আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, বর্তমানে একেক প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে একেক ধরনের বিধান আছে। আমরা স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনায় একই ছাতার মধ্যে আনতে যাচ্ছি। এতে বিদ্যমান আইন ও বিধির সমন্বয় ঘটানো হচ্ছে।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার সহকারী সচিব রওশন আরা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলায় রূপান্তর করার পাশাপাশি ছোট ছোট কিছু সংশোধন আনা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলের মতামত নেওয়ার পর ইসি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। তিনি আরও বলেন, অনেক ইংরেজি নামের বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে। এ কারণে নামে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এসব নাম ও পদবি সংসদেই চূড়ান্ত হবে।

জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে, সেই বিষয়টি ইসির নয়। এ রকম কোনো আলোচনাও হয়নি ইসিতে।

ইসি সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সব নির্বাচনে একই বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে কমিশন বৈঠকে। বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা সমন্বয়ে এ নতুন আইনের খসড়া করা হয়েছে। এতে সব প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোটগ্রহণের বিধান থাকছে। নির্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্বাচন না হলে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন না হলে করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান নেই।

ইসি কর্মকর্তারা আরও জানান, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের নামও পরিবর্তন করে বাংলায় রূপান্তর করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার আইনে সিটি করপোরেশনকে করা হচ্ছে মহানগর, মেয়রকে মহানগর আধিকারিক; পৌরসভাকে নগর ও নগরসভা, মেয়রকে পুরাধ্যক্ষ বা নগরপিতা; কাউন্সিলরকে পরিষদ সদস্য; ওয়ার্ডকে মহল্লা; জেলা, উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যান হবেন ‘প্রধান’। ভাইস চেয়ারম্যান হবেন ‘উপপ্রধান’। সিটি ও পৌর কাউন্সিলর হবেন ‘সদস্য’ বা ‘পারিষদ’। ইউনিয়ন পরিষদ হবে ‘পল্লী পরিষদ’। ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড হবে ‘এলাকা’।

ইসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এ আইন পাস হলে স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের আইনের সংশোধন আনতে হবে। ওই সংশোধনগুলো করবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, সিটি করপোরেশন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা এসবের নাম পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সংসদ করবে, এটা ইসির কাজ নয়। এটা তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে বলে আমি মনে করি না। তারা কেন খসড়া করবে। কমিশন সভায় অনুমোদনের কী বিষয় আছে আমি বুঝি না।

জানা গেছে, ১৮৮৫ সাল থেকে ১৯১৯ সাল পর্যন্ত বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের নাম ছিল ইউনিয়ন কমিটি। এর পর ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে নতুন কমিটির নামকরণ করা হয় ইউনিয়ন বোর্ড। এর পর ইউনিয়ন বোর্ডের নাম পরিবর্তন করে ইউনিয়ন কাউন্সিল করা হয়। ১৯৭১ সালে ইউনিয়ন কাউন্সিলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ত্রাণ কমিটি। ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি ইউনিয়ন কাউন্সিল ও ত্রাণ কমিটি ভেঙে ইউনিয়ন পঞ্চায়েত নামকরণ করা হয়। পরে ১৯৭৩ সালের দিকে ইউনিয়ন পঞ্চায়েতের নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় ইউনিয়ন পরিষদ।

প্রসঙ্গত ইসির প্রস্তাবিত নাম পদবি অনুযায়ী আইনটি পাস হলে তার সামঞ্জস্য বিধানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইনে সংশোধনী আনতে হবে। বর্তমানে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেগুলো হলোÑ ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন।

advertisement
Evaly
advertisement