advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চার কোটি টাকা দুর্নীতি মামলা
সিনহাসহ ১১ জনের বিচার শুরু

আদালত প্রতিবেদক
১৪ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৩ আগস্ট ২০২০ ২২:২৮
advertisement

ফারমার্স ব্যাংকের ৪ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ চার্জ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৮ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেন। এ চার্জগঠনের মাধ্যমে মামলাটিতে আসামিদের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো বলে জানিয়েছেন দুদক প্রসিকিউটর মোশারফ হোসেন কাজল। এদিকে বৃহস্পতিবার আসামি এসকে সিনহাসহ ৮ আসামি পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিইে এ মামলার বিচার শুরু করলেন আদালত। ওই আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

শুনানিকালে মামলাটিতে জামিনে থাকা ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম শামীম ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক ক্রেডিট প্রধান গাজী সালাহউদ্দিন হাজির হন। ফারমার্স ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। তারা সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেন।

মামলার অপর পলাতক আসামিরা হলেন ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, সান্ত্রী রায় ওরফে সিমি ও তার স্বামী রণজিৎ চন্দ্র সাহা।

গত বছর ১০ ডিসেম্বর মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এর আগে একই বছর ১০ জুলাই দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ফারমার্স ব্যাংকে শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহার নামে মঞ্জুর করা ঋণের ৪ কোটি টাকা সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সুপ্রিমকোর্ট সোনালী ব্যাংক শাখার হিসাবে জমা হয়। সঞ্চয়ী হিসাব নং : ৪৪৩৫৪৩৪০০৪৪৭৫-এ জমা হওয়ার পর ওই টাকা বিভিন্নভাবে স্থানান্তর করে উত্তোলন করা হয়। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যদের লাভবান করতে এ ধরনের অপরাধ করেন। তারা অবৈধভাবে ভুয়া ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে নগদে উত্তোলন ও বিভিন্ন পে-অর্ডারের মাধ্যমে নিজ আত্মীয়ের নামীয় হিসাবে হস্তান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। পরে সেই অর্থ নিজেদের ভোগদখলে রেখে তার অবৈধ প্রকৃতি, উৎস অবস্থান গোপন বা এর ছদ্মাবরণে পাচার করেছেন মর্মে তদন্তে প্রমাণিত হয়, যা দ-বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২)(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

প্রসঙ্গত, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র সিনহা। পরে বিদেশ থেকেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

advertisement
Evaly
advertisement