advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডিজিটাল আইনের ভয়ে জাতির কণ্ঠ রুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২০ ২১:৪৪
advertisement

ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে অভিযোগ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শুক্রবার সকালে উত্তরার বাসা থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানান। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের

মামলার ভয়ে আজ জাতির কণ্ঠ রুদ্ধ। বিএনপি শুরু থেকেই বলে এসেছে এই আইন সংবিধানবিরোধী এবং এ আইন জনগণের কণ্ঠরোধ করতে সরকারের হাতিয়ার। তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এই আইন করেছে। অবিলম্বে আইনটি বাতিল করা উচিত এবং জনগণের চিন্তাভাবনা, তার স্বাধীনতার প্রকাশকে নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, এসব মামলার অভিযোগ বিশ্লেষণে দেখা যায় সরকারি দলের লুটেরাদের বিরুদ্ধে কথা বললে, রাজনৈতিক মত প্রকাশ করলে, সরকারের সমালোচনা করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হচ্ছে। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এই সরকারের মন্ত্রী-এমপি-আমলা-পুলিশের লুটপাট কীভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণœ করছে। এ সরকারের নেতাকর্মীদের করোনা সার্টিফিকেট বিক্রির কারণে ইতালিতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কোনো ব্যক্তিকে এখন প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, নিউইয়র্ক টাইমসে নেতিবাচক প্রবন্ধ হয় বাংলাদেশকে নিয়ে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের শীর্ষ দেশগুলোতে বাংলাদেশ উঠে আসে শীর্ষে। এভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণেœর জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী কর্মকা- বা সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে কি তা হলে এই সরকারের কর্তাব্যক্তিরা দ-িত হবেন না বা তাদের দায়ী করা সম্ভব হবে না? সরকার কি কোনোভাবে দায় এড়াতে পারে?

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ১২ জন সাংবাদিককে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ও প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানসহ সবার বিরুদ্ধে দায়ের মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে সমস্ত আইন মানুষের অধিকারকে খর্ব করে, বাকস্বাধীনতা হরণ করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সেগুলোকে অবশ্যই বাতিল করব।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা সংক্রান্ত মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, চলতি বছরের ২২ জুন পর্যন্ত মামলা হয়েছে ১০৮টি, আসামি ২০৪ জন। তাদের মধ্যে সাংবাদিক ৪৪ জন আর অন্যান্য পেশায় কর্মরত ও সাধারণ মানুষ ১৬০ জন। প্রায় ২৫ ভাগ আসামিই সাংবাদিক। গত বছর মামলা হয়েছে ৬৩টি আর ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও আইসিটি অ্যাক্ট মিলিয়ে মামলা হয়েছে ৭১টি। সেখানে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই মামলা হয়েছে ১০৮টি। বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ।

ঢাকায় একমাত্র ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল থেকে মামলার হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই বছরের মার্চ পর্যন্ত ডিজিটাল আইনে মামলা হয়েছে ৩২৭টি। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮৬টি, ফেব্রুয়ারিতে ১১৯টি, মার্চে ১২২টি। ২০১৯ সালে এক হাজার ১৮৯টি মামলা হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫৫০টির মতো মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বিচারাধীন মামলা আছে এ পর্যন্ত এক হাজার ৯৫৫টি।

advertisement
Evaly
advertisement