advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মেডিক্যাল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা
প্রশ্নফাঁস চক্রের হোতা শোভনের খোঁজ নেই

আহমদুল হাসান আসিক
১৫ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২০ ১০:৪৭
advertisement

মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের অন্যতম হোতা ডা. জেডএমএ সালেহীন শোভন। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে ২০০৬ সালে এমবিবিএস পাস করেন। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিলের নারায়ণপুরে। বাবার নাম জিহাদুল ইসলাম। প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতা জসীম উদ্দিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের পর সালেহীন শোভনের বিষয়ে তথ্য পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। চক্রের মূল হোতা জসীমসহ প্রশ্নফাঁস চক্রের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় করা মামলার অন্যতম আসামি সালেহীন শোভন।

পাঁচ বছর আগে প্রশ্নফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে র‌্যাবের করা মামলারও অন্যতম আসামি তিনি। চিকিৎসক পেশার পাশাপাশি মেডিক্যালে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত। এর আড়ালে তিনি ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করেন। প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িয়ে হোতা জসীমের মতো তিনি এরই মধ্যে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু জসীম ও সালেহীন নন, এ চক্রের সদস্যরা কয়েক বছরের ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। অথচ তাদের দৃশ্যমান কোনো পেশা নেই। তাদের অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হবে। এদিকে বিভিন্ন সময় ফাঁস হওয়া প্রশ্ন সংগ্রহ করে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হওয়া দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর বিষয়ে তদন্ত চলছে। মামলায় তাদের অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল আহসান আমাদের সময়কে বলেন, চিকিৎসক সালেহীন শোভনের বিষয়ে আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। তাকে এখনো আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। পুরো চক্রের বিষয়ে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। অবৈধভাবে উপার্জিত সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষে মানি লন্ডারিং আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

সিআইডি সূত্র জানায়, গত ১৯ ও ২০ জুলাই রাজধানীর মিরপুর থেকে চক্রের মূল হোতা জসীমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। গ্রেপ্তার অপর চারজন হলেন সানোয়ার হোসেন, মোহাইমিনুল ওরফে বাঁধন এবং জসীমের ছোট বোনের স্বামী জাকির হোসেন দিপু ও ভাতিজা পারভেজ খান। জসীমের কাছ থেকে ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক এবং পারভেজের কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনসহ পলাতক নয়জনের বিরুদ্ধে ২০ জুলাই মিরপুর থানায় মামলা করেছে সিআইডি। চক্রের অন্যতম হোতা ডা. সালেহীন শোভন, প্রেসম্যান আবদুস সালাম ও জসীমের স্ত্রী শিল্পীসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সিআইডির অভিযান অব্যাহত আছে।

ডা. সালেহীন শোভন সম্পর্কে সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, তার সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই মামলায় তাকে আসামি করা হয়। তবে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

একটি গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সালেহীন শোভন। এ চক্রের মূল হোতা জসীমকেও র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। জানা গিয়েছিল, চক্রের মূল হোতা জসীম উদ্দিন ও ডা. সালেহীন শোভন।

এদিকে এ চক্র সম্পর্কে সিআইডি বলছে, জসীমের নেতৃত্বে ভয়ঙ্কর পারিবারিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজের প্রশ্নফাঁস হচ্ছে। ডা. সালেহীন শোভনসহ জসীমের ঘনিষ্ঠজনরা সারাদেশে অর্ধশতাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দিত।

জসীমের খালাতো ভাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেশিনম্যান আবদুস সালাম প্রশ্ন ছাপানোর সময় তা ফাঁস করতেন। প্রশ্ন ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ যারা করতেন তাদের মধ্যে জসীমের ভাতিজা পারভেজ খান, বোনজামাই জাকির হোসেন দীপু, ভায়রাভাই সামিউল জাফর, দুলাভাই আলমগীর হোসেন, স্ত্রী শারমিন আরা জেসমিন শিল্পী এবং ভাগ্নে রবিন রয়েছেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস করার বিনিময়ে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তারা হাতিয়ে নিতেন ১০-১২ লাখ টাকা।

 

 

advertisement
Evaly
advertisement