advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গহীন বনে শিশুকে ৪ দিন আটকে রেখে বন কর্মকর্তার নির্যাতন!

মিজানুর রাকিব,শরণখোলা
১৫ আগস্ট ২০২০ ২০:৩৬ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২০ ২৩:৩৮
সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার ইমাম
advertisement

বড় ভাইয়ের সঙ্গে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়েছিল মো. ইমাম হোসেন (১১)। কিন্তু আটকা পড়ে যায় বনরক্ষীদের হাতে। তাকে ৪ দিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পুর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন কটকা অভায়রণ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শুক্রবার রাতে আহত অবস্থায় শিশু ইমামকে শরনখোলা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। সে উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. খলিল খান।

খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ইমামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে প্রথমে বারণ করেন তার মা আমিরুননেছা। অবশ্য পরে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ছেলের সঙ্গে কথা বলতে দিতে রাজি হন তিনি। প্রথমে কথা বলার সময় আমিরুননেছা অভিযোগ করে জানান, গত সোমবার ইমাম ও তার বড় ভাই মিলন বকুলতলা এলাকার ভাইস চেয়ারম্যান মো. হাসানুজ্জামান পারভেজের মালিকানাধীন একটি ট্রলারে মাছ ধরতে সাগরে যায়। একদিন পর তিনি জানতে পারেন, মিলনসহ অন্যান্যদের সুন্দরবনের কটকা অফিসের বনরক্ষীরা আটক করে বাগেরহাট আদালতে চালান করে দিয়েছে। ইমামকে ফেরত পেতে পরে তিনি কটকা অফিসের কর্মকর্তা আবুল কালামের সঙ্গে যোগযোগ করেন। মেয়ের জামাই রবিউলকে বাগেরহাট (ডিএফও) অফিসে পাঠান ইমামকে ফেরত নিয়ে আসতে। কিন্তু তা না করে বন কর্মকর্তারা রবিউলকে ফেরত পাঠিয়ে দেন। অনেক অনুনয়-বিনয় করার পর গতকাল রাত ৯টার দিকে শরণখোলা রেঞ্জ কার্যালয় থেকে ইমামকে অসুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দেন সেখানকার কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন। এ সময় তিনি গালমন্দ করেন বলেও অভিযোগ করেন আমিরুননেছা।

ইমাম জানায়, নদীতে যাওয়ার পরের দিন ট্রলারের সবাইকে ধরে বাগেরহাট নিয়ে যান কর্মকর্তা আবুল কালাম ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। সেখানে নিয়ে তাকে একটি বিল্ডিংয়ে তালা দিয়ে রাখে। পরে আবার সুন্দবনের কটকায় নিয়ে যায়। ধরা পড়ার পর তাকে নির্যাতন করেন আবুল কালাম ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। এ কয়েকদিন সে ঠিক মতো খেতে পারেনি।

ইমাম বলেছে, ‘কটকা অফিসের বড় কর্মকর্তা (আবুল কালাম) ও শরনখোলা রেঞ্জ কার্যালয়ের (এসিএফ) দালাল মো. আলম হাওলাদারসহ অনেকে আমাকে মারধর করেছে।’ তাকে বলা হয়েছে, “সুন্দরবনে আর আসবি? এখন যদি তোকে মেরে ফেলি?”। তাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতিও দেখানো হয়।

বকুলতলা এলাকার ভাইস চেয়ারম্যান মো. হাসানুজ্জামান পারভেজ জানান, কটকার বন কর্মকর্তা আবুল কালামের অনৈতিক দাবি পূরণ না করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সাগরে ইলিশ আহরণের কাজে নিয়োজিত তার জেলেদের পাস পারমিট দেখার কৌশলে ডেকে নিয়ে সবাইকে আটকে ফেলেন। পরে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ এলাকায় মাছ ধরার কাল্পনিক অভিযোগ সাজিয়ে নয়জন জেলের সঙ্গে শিশু ইমামকেও বাগেরহাটে চালান করে দেন। ইমাম প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় তাকে মামলার আসামি করা হয়নি। তাকে আদালতে না তুলে ডিএফও কার্যালয় এলাকায় একটি ভবনে আটকে রাখেন আবুল কালাম ও তার লোকজন।

চেয়ারম্যান মো. হাসানুজ্জামান পারভেজ বলেন, ‘ফেরত দেওয়ার আগে তারা (আবুল কালাম ও তার লোকজন) ইমামকে গহীন সুন্দরবনে নিয়ে নির্যাতন করেছে। নানা তাল-বাহানা শেষে গতকাল রাতে তাকে অসুস্থ অবস্থায় ফেরত দেন তারা।’ এ ঘটনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান।

এ ব্যাপারে জানতে পুর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আওতাধীন কটকা অভায়রণ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের মোবাইলে কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

জানতে চাইলে শরনখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ওই শিশুর সাথে কেউ কোনো খারাপ আচারণ করেছেন কিনা আমার জানা নেই। কটকা থেকে বনরক্ষীরা শিশুটিকে আমার কার্যালয়ে নিয়ে আসলে গতকাল রাতে তাকে তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’ ইমাম সে সময় অসুস্থ ছিল না বলেও দাবি করেন জয়নাল আবেদীন।

advertisement
Evaly
advertisement