advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

খেলাপি ঋণ বাড়ল করোনা ছাড়েও

হারুন-অর-রশিদ
২৪ আগস্ট ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২০ ০৮:৪৪
advertisement

করোনা সংক্রমণের কারণে গ্রাহকদের সুবিধা দিতে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো ঋণখেলাপি না করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও গত তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। আগে সুবিধা নিয়েও ন্যূনতম অর্থ পরিশোধ না করায় নতুন করে কিছু ঋণ খেলাপি হয়েছে বলে জানান ব্যাংকাররা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৩০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে গেছে। মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। তিন মাস আগে মার্চে ছিল ৯২ হাজার ৫১০ কোটি; যা ওই সময়ের মোট ঋণের ৯ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। ছয় মাস আগে ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৯৪ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। ছয় মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। তবে আগের বছরের জুনের তুলনায় খেলাপি ঋণ কমেছে ১৪ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। আগের বছরের জুনে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ কমে যায়। কারণ খেলাপিদের দেওয়া হয় গণছাড়। মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিলের সুুযোগ দেওয়া হয়। এ সুযোগে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত করা হয়।

এদিকে ব্যাংকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ হওয়ার পর থেকেই ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় অনেক কমে গেছে। এ সময়ে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পারায় আয় কমে যায়। ফলে তারা ঋণের টাকা ফেরত দিতে পারেনি। অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরেদের আয় কমে যাওয়ায় ব্যক্তিপর্যায়ের ঋণের টাকাও ফেরত আসেনি। স্বাভাবিকভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ার কথা। তবে এপ্রিলে সার্কুলার দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ঋণের টাকা ফেরত না দিলেও জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের নতুন করে খেলাপি হিসেবে দেখানো যাবে না। তাদের ঋণের মান ডিসেম্বরে যা ছিল তাই দেখাতে হবে। অর্থাৎ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রাহক কোনো অর্থ ফেরত না দিলেও খাতা-কলমে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বাড়বে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মার্চের তুলনায় জুনে খেলাপি ঋণ সামান্য বেড়েছে। যদিও এই সময়ে কোনো গ্রাহককে নতুন করে খেলাপি না করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে আগে খেলাপি ছিল এমন ঋণ হয়তো কোনো কারণে খেলাপি দেখানো হয়নি সেই ঋণ নতুন করে খেলাপি দেখানো হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, আগে খেলাপি ছিল কিন্তু রিট আবেদনের কারণে খেলাপি না দেখানোর আদেশ দেন আদালত। সেই আদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেটিকে খেলাপি দেখানো হয়েছে। এমন কিছু বাস্তবিক কারণে খেলাপি ঋণ সামান্য বেড়েছে।

ছাড় দেওয়ার পর খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির বিষয়ে বেসরকারি একটি ব্যাংকের এমডি বলেন, নিয়মিত গ্রাহকরা যারা কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের ঋণ খেলাপি করা হয়নি। তবে অনেক গ্রাহক আছেন তারা ইচ্ছাকৃত খেলাপি। তাদের ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়। কিন্তু পুনঃতফসিল করার শর্ত হিসেবে যে অর্থ দেওয়ার কথা করোনার কারণে তা আর দেননি। এ জন্য এ ধরনের ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ঋণ খেলাপি দেখানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে অর্থনীতির অধিকাংশ খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অনেক শিল্প, সেবা ও ব্যবসা খাত তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। তাই ঋণ/বিনিয়োগ গ্রহীতার ব্যবসায়ের ওপর কোভিড ১৯-এর নেতিবাচক প্রভাব সহনীয় মাত্রায় রাখার লক্ষ্যে ঋণ পরিশোধ ও শ্রেণিকরণের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবসা সচল রাখার জন্য নতুন ঋণ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি হবে না। আবার মন্দার কারণে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ বাড়বে না। কোনো ঋণ খেলাপি হয়ে গেলে সেই ঋণের বিপরীতে সুদ আয় দেখানো যায় না, উল্টো প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। এতে ব্যাংকগুলোর আয় কমে গিয়ে মুনাফা কমে যায়। এর ফলে শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত ব্যাংকগুলো দেশের বাজারে যেমন ঝুঁকিতে পড়ে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারের লেনদেনে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

বেসরকারি খাতের এক ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাউকে খেলাপি করা হচ্ছে না। এতে কাগজে-কলমে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কম থাকবে। কিন্তু ব্যাংকের নগদ আদায় অনেক কমে গেছে। ব্যক্তিগত ঋণ (ভোক্তা ঋণ), বাণিজ্যিক ও শিল্প ঋণ থেকে কিস্তি আদায় প্রায় বন্ধ। অনেকের চাকরি চলে যাওয়া বা বেতন কমে যাওয়ার কারণে কিস্তি দিতে পারছেন না। আবার প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় কমে যাওয়ায় তারাও টাকা ফেরত দিচ্ছে না। এতে ব্যাংকগুলো বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement