advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

*রাতারাতি অস্থির বাজার *একদিনে বেড়েছে ৫০ টাকা
পেঁয়াজের প্যাঁচে দেশ

গত বছরের মতো পরিস্থিতি এড়ানোর তাগিদ

আবু আলী,গোলাম রাব্বানী ও রেজাউল রেজা
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১১:১৮
বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় গতকাল রাজধানীর শ্যামনগরে অনেক আড়তদারকে জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর
advertisement

সেপ্টেম্বর এলেই অস্তিরতা দেখা দেয় দেশের পেঁয়াজের বাজারে। গত বছরও প্রায় একই সময়ে ভারত রপ্তানি বন্ধ করার মাসখানেকের মাথায় দাম বেড়ে ৩০০ টাকা কেজিতে গিয়ে ঠেকে। এ বছরও সেই সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে এসে গত সোমবার নিত্যপণ্যটির রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারত। রাতারাতি পেঁয়াজের ঝাঁজে অস্থির হয়ে পড়ে বাজার। একদিনের ব্যবধানে দাম বেড়ে হয় দ্বিগুণ। সোমবার খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও গতকাল কিনতে হয় ১৩০ টাকায়। এ ছাড়া ৬০ টাকার আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১০০ টাকা কেজি।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে আমদানি চাহিদার ৯০ শতাংশের বেশি পেঁয়াজ আসে ভারত থেকে। ফলে প্রতিবেশী দেশটি রপ্তানি বন্ধ করায় বাজারে কিছুটা প্রভাব পড়বেই। কিন্তু ব্যবসায়ীরা যেভাবে অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়াচ্ছেন সেটি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। গত বছরের মতো পরিস্থিতি যেন এবার তৈরি না হয়, তার জন্য যা যা করা দরকার সরকারকে এখনই করা উচিত। এদিকে ভারতের রপ্তানি বন্ধকে ইস্যু করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী এ সুযোগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় আমাদের সময়কে বলেন, ‘হঠাৎ ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। তবে বাজার যাতে না বাড়ে সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভারতের বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া যারা পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩০ টাকা কেজি দরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পেঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রম চালু রয়েছে।’

নিজেদের চাহিদা মেটানোর কথা বলে ভারত গত বছরও পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। তারপরই পেঁয়াজের প্যাঁচে পড়ে দেশের মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই হু হু করে বেড়েছিল দাম। এর পরই নানামুখী প্রচেষ্টা চালায় সরকার। স্থল, নৌ ও আকাশপথে আমদানি করা হয় মিয়ানমার, মিসর, পাকিস্তান থেকে। বাহারি সেই পেঁয়াজে কিছুটা দাম কমলেও ঝাঁজ ছিল মধ্য কিংবা নিম্নবিত্তের বাইরেই। কোনোভাবেই একশ টাকার নিচে পেঁয়াজের দাম নামানো যাচ্ছিল না। তবে নিম্ন আয়ের মানুষকে কম দামে দিতে ট্রাকে বিক্রি শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠান টিসিবি। সেই পেঁয়াজ কিনতে লাইনে দাঁড়ান মধ্যবিত্তও। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় ঘটে হাতাহাতির মতোও ঘটনা। কিন্তু ওই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগাম প্রস্তুতি না নেওয়ায় এবারও সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। আবারও পেঁয়াজের প্যাঁচে দেশ।

কারওয়ানবাজার, হাতিরপুলসহ বিভিন্ন খুচরাবাজারে গত সোমবার সকালে দেশি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও রাতেই সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ১০০ টাকায়। আর গতকাল মঙ্গলবার বিক্রি হয় ১৩০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া আমদানিকৃত পেঁয়াজ সোমবার ৫০ টাকায় মিললেও গতকাল তা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। অন্যদিকে সোমবার সকালে রাজধানীতে মসলাজাতীয় পণ্যের বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারের আড়তেও প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য ছিল ৫০ টাকা। গতকাল গিয়ে দেখা যায়, ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আমদানিকৃত ভারতীয় কিং জাতীয় পেঁয়াজ আগের দিন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও গতকাল ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

শ্যামবাজার পেঁয়াজ-রসুন আড়তদার সমিতির প্রচার সম্পাদক ও মেসার্স আলহাজ ভা-ারের মালিক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রপ্তানি বন্ধ করায় খুচরা ও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। কাঁচামালের বাজার মূলত কোন দামে কেনা হয় তার চেয়ে আগামীতে কেমন জোগান হবে তার ওপর নির্ভর করে। সরকার পেঁয়াজ আমদানির বিকল্প উদ্যোগ না নিলে বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন।’

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেবে- গত সোমবার দিনভর গুঞ্জন ছিল। আর এই সুযোগে ওইদিন সকাল থেকে কৌশল নেন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর অনেক দোকানদারই পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দেন। সন্ধ্যায় ঘোষণা শুনে পরদিন মঙ্গলবার থেকে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেন তারা। এ সময় হুমড়ি খেয়ে পেঁয়াজ কিনতে শুরু করেন আতঙ্কিত ক্রেতারা। কোনো কোনো দোকান আরও বেশি দাম বাড়ার আশায় লুকিয়ে রেখেছেন পেঁয়াজের বস্তা। গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, কারওয়ানবাজার, হাতিরপুল খুচরা কাঁচা বাজারে এ চিত্র পাওয়া গেছে। রাজধানীর মানিকনগরের বাসিন্দা আজিজুর রহমান আমাদের সময় বলেন, ‘ভারত রপ্তানি বন্ধ করছে, এমন খবর পেয়ে আমি মহল্লার দোকান থেকে পেঁয়াজ কিনতে যাই। কিন্তু দোকানদার সরিয়ে রেখে বলেন- পেঁয়াজ নেই। ৬০ থেকে ৭০ টাকার পেঁয়াজ সকালে কিনতে হয়েছে ১০০ টাকায়। বিকালে ওই পেঁয়াজ দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৩০ টাকায়।’ একই অভিযোগ জিগাতলার বাসিন্দা শাহরিয়ার হাসানেরও। তিনি জানান, তার মহল্লার দোকানদার পেঁয়াজ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি করেননি। পরে বেশি দামে বিক্রি করেছেন।

এ পরিস্থিতি নিয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি মো. গোলাম রহমান বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের স্বভাবই হচ্ছে সুযোগ খোঁজা, কীভাবে মুনাফা হবে। এর আগেও কারসাজিবাজদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। এতে অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও সাহসী হয়ে উঠছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের এখন উচিত মিয়ানমার, মিসর ও চীনের মতো বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজের আমদানি বাড়িয়ে দেওয়া। এতে করে দাম কমে আসবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে উচিত হবে আমদানিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো। তখন চাহিদার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকলে বাজার আপনা থেকেই স্থিতিশীল থাকবে।’

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন অবশ্য বলছেন, ‘ভারতের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা আসার পরপরই আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইনে কোনো রকম সংকট তৈরি না হয়। আশা করি পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারলে মূল্যও যৌক্তিক পর্যায়ে থাকবে। রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ভারত যেন তুলে নেয় সেজন্যও অনুরোধ জানানো হবে। একইসঙ্গে বিকল্প বাজার থেকে আমদানি করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ মজুদ আছে, তাতে এই মুহূর্তে বাজারে কোনো সংকট তৈরি হবে না। মূল্যটাও যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে সরকার সব ধরনের কৌশল নিচ্ছে।’

এদিকে গতকাল দুপুরে শ্যামবাজারের আড়তগুলোতে মজুদকৃত পেঁয়াজ বের করেছে। যার মধ্যে অধিকাংশ পেঁয়াজই পচা ও অর্ধপচা ছিল। সেই পেঁয়াজও ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। পচা ও অর্ধপচা পেঁয়াজ বেশ কয়েকটি আড়তের সামনেই রাস্তায় থাকতে দেখা যায়। যা তারা বিক্রি করছে। পেঁয়াজ পচার কারণ হিসেবে বিক্রমপুর ট্রেডার্সের কর্ণধার মহিদুল ইসলাম বলেন, কিছু পেঁয়াজে পানি পড়েছিল বিধায় পচে গেছে।

তবে সেখানের কর্মচারী বলেন, ভেতরে গোডাউনে আরও পেঁয়াজ আছে। সপ্তাহখানেক ধরে ওখানে ছিল। প্রতিবছরই এই সময়ে দাম বাড়ে বিধায় সব গোডাউনেই পেঁয়াজ আছে।

অন্যদিকে হঠাৎ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরের বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙ্গায় ১৬৫টি পেঁয়াজভর্তি ট্রাক আটকা পড়ে আছে। এ ছাড়া ভারতের নাসিক থেকে পেঁয়াজ নিয়ে ৩৫০টির মতো ট্রাক পথে রয়েছে। কারণ নাসিক থেকে ভোমরা বন্দরের দূরত্ব ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ পথের মধ্যে অনেক পেঁয়াজবাহী ট্রাক ঘোজাডাঙ্গা বন্দরের দিকে আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সোমবার ও মঙ্গলবার পেঁয়াজ আমদানি না হওয়ায় দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতে আটকা পড়েছে ২৫০-৩০০ পেঁয়াজ বোঝাই ভারতীয় ট্রাক। এ ছাড়া আমদানির জন্য এলসি করা প্রায় ১০ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে আসা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা। এদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে বন্দরে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। গত রবিবার এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়। অন্যদিকে হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পেঁয়াজের দর হু হু করে বেড়ে চলে। গতকাল সকালে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বিকালে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

কারওয়ানবাজারের পাইকার মো. ফয়েজ বলেন, দেশে পেঁয়াজের সংকট নেই। ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের গুঞ্জনে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম রাতারাতি বেড়েছে। আর সেই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু মজুদদার বাজারে দেশি পেঁয়াজও কম ছাড়ছেন। এতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়ে যাচ্ছে। ফয়েজ আরও জানান, পেঁয়াজ এখন মজুদকারীদের কাছে। সেখানে বৃষ্টি-বন্যায় পেঁয়াজের ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। যতটুকু ক্ষতি হয়, সেটুকু ক্ষতি বিবেচনা করেই দাম নির্ধারণ করা থাকে। নতুন করে দাম বাড়ার কথা নয়।

পাইকারি বাজার ও আড়তে বিশেষ অভিযান : পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর পাইকারি বাজার ও আড়তে বিশেষ অভিযানে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মোবাইল টিম। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, পুরান ঢাকার শ্যামবাজারসহ পেঁয়াজের আড়ত ও পাইকারি বাজারে অভিযান চালানো হয়।

অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার মন্ডল বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও অধিদফতরের মহাপরিচালকের পরিকল্পনায় আজ রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে অভিযান করা হচ্ছে। অধিদফতরের চারটি টিমসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি মনিটরিং টিম এই অভিযান পরিচালনা করছে।

তিনি জানান, কিছু অসৎ ব্যবসায়ী আছে, তারা সবসময় সুযোগ পেলেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলে। এই সুযোগ আর দেয়া যাবে না। পেঁয়াজের বড় পাইকারি আড়ত শ্যামবাজারে অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো ব্যবসায়ী যদি অনৈতিকভাবে দাম বাড়িয়ে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ন কবীর আমাদের সময়কে বলেন, পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে টিসিবি ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। আগের বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে টিসিবি।

অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণলয় সূত্র জানিয়েছে, পেঁয়াজ আমদানির ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআরকে) চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এ বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি এনবিআর। বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ইকনোমিক কাউন্সিলরের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সেখানকার প্রকৃত চিত্র জানাতে বলা হয়েছে।

বিকল্প দেশ থেকে আমদানির প্রক্রিয়া শুরু:

ভারত রপ্তানি বন্ধের আগেই বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রাম থেকে এ পর্যন্ত ১২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন তারা। বিশ্বের পাঁচটি দেশ থেকে এসব পেঁয়াজ আমদানি হবে। গত বছর ভারত রপ্তানি বন্ধের সপ্তাহ দু-এক পর ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানিতে সক্রিয় হয়েছিলেন। এবার অবশ্য রপ্তানি বন্ধের ১১ দিন আগে থেকেই আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রপ্তানি বন্ধের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আগেভাগেই ব্যবসায়ীরা আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বের পাঁচটি দেশ থেকে ১০ হাজার ৯১ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে ২৪টি প্রতিষ্ঠান। এই পাঁচটি দেশ হলো চীন, মিয়ানমার, পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্ক। এর বাইরে চট্টগ্রামের ট্রেড ইমপ্যাক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান ঢাকার উদ্ভিদ সংঘনিরোধ কেন্দ্র থেকে ২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে। সব মিলিয়ে এ মাসের শেষ থেকে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে আসতে শুরু করবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৫ লাখ মেট্রিক টন। এ বছর দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের পরিমাণ ২৫ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন। যেহেতু পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য, তাই প্রতিবছরই উৎপাদিত পেঁয়াজের ৩০ শতাংশ পচে গিয়ে ভালো থাকে ১৯ লাখ ১১ হাজার মেট্রিক টন। এবারও তাই হয়েছে। এখানেই মূলত ঘাটতি তৈরি হয়। আর এই ঘাটতির পরিমাণ ৫ থেকে ৭ লাখ টন। চাহিদার বিপরীতে এই ৭ লাখ টন পেঁয়াজের ঘাটতি মেটাতে আমদানির ওপরে নির্ভর করতে হয়। প্রতিবছর আমদানিও হয় ৮ থেকে১০ লাখ টন, যা চাহিদা বা প্রয়োজের অতিরিক্ত। আমদানিনির্ভর এই ৭ লাখ টন পেঁয়াজ দেশে উৎপাদিত ১৯ লাখ টন পেঁয়াজকে প্রভাবিত করে। আমদানিতে সামান্য কোনও ত্রুটি দেখা দিলেই ব্যসায়ীরা সুযোগ নিয়ে থাকে। আর তখনই অস্থির হয়ে ওঠে দেশের পেঁয়াজের বাজার।

advertisement
Evaly
advertisement