advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে

চট্টগ্রাম ব্যুরো
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৩১
advertisement

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা সত্ত্বেও আগামী তিন দিন অনায়াসে খাতুনগঞ্জের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তারা। তবে ভারত থেকে রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় খুচরা বিক্রেতারা দিনভর ভিড় করেন খাতুনগঞ্জে। এ সুযোগে আড়তদাররা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেন। এর প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে।

এ অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, পেঁয়াজ আমদানির জন্য এক দিনেই ১০ হাজার ৭৪২ টনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনে পেঁয়াজের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখতে ভারতের বিকল্প হিসেবে মিয়ানমার, আফগানিস্তান, মিসর, তুরস্ক, চীন, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের

(আটটি) বাজার সন্ধান করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভোক্তাদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেছেন, দেশে পেঁয়াজের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। আগের আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। আতঙ্কিত ভোক্তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পেঁয়াজ কেনার জন্য খুচরা দোকানগুলোতে ভিড় করায় কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির লক্ষে কিছু পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী অযথা পেঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে। পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি টিসিবির মজুদ করা পেঁয়াজ আরও বেশি আউটলেটের মাধ্যমে বিক্রির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জানা যায়, দেশে বছরে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে এ চাহিদা পূরণ করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৫ লাখ ৫৭ হাজার টন। কিন্তু তা থেকে ২২-২৫ শতাংশ সংগ্রহকালীন এবং সংরক্ষণকালীন সময়ে ক্ষতি হয়। ফলে বাজারে আসে ১৯ লাখ ১৭ হাজার টন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার টন। ২০১৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৭৪ হাজার টন এবং ২০১৮ সালে ৬ লাখ ৯৬ হাজার টন। অর্থাৎ ২০১৯ ও ২০১৮ সালের তুলনায় ২০২০ সালে যথাক্রমে ৩৫ ও ৩৮ শতাংশ পেঁয়াজ কম আমদানি হয়েছে।

করোনা সংক্রমণের শুরুর পর এপ্রিলের দিকে বাংলাদেশে সব ধরনের আমদানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। স্বাভাবিক আমদানি না থাকায় দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ ব্যবহার হয়েছে বেশি। তবে বাংলাদেশে পেঁয়াজের মৌসুম আসতে এখনো ছয় মাস বাকি। এ সময়ে পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১১ লাখ টন। যা আমদানি করেই মেটাতে হবে। অর্থাৎ মার্চের আগ পর্যন্ত এ পেঁয়াজ আমদানির দরকার হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের আমদানির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভারত রপ্তানি বন্ধের দুই সপ্তাহ পর ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানিতে সক্রিয় হয়েছিলেন। এবার রপ্তানি বন্ধের ১১ দিন আগে থেকেই আমদানির উদ্যোগ নেন তারা। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা।

দেশের সমুদ্রবন্দর দিয়ে গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে পেঁয়াজ ছাড়পত্র হয়েছে ১ হাজার ৮২ টন। যা চীন ও পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চীন, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর ও মিয়ানমার থেকে আরও ১০ হাজার ২৯১ টন পেঁয়াজ আমদানি করার অনুমতিপত্র নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এসব পেঁয়াজ আসবে সমুদ্রবন্দর দিয়ে।

চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক (চট্টগ্রাম) ড. আসাদুজ্জামান বুলবুল আমাদের সময়কে বলেন, ভারতের বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওযা হয়েছে। সেগুলো দ্রুততম সময়ে দেশে আসবে।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সভাপতি সোলায়মান বাদশ বলেন, গত বছর ভারত একই সময়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল। তারা জায়গা বুঝে পল্টি নেয়। আমাদের উচিত, বিকল্প মাধ্যম থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা। এ মুহূর্তে পাকিস্তান কিংবা মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করলে তা বাজারে পৌঁছতে ২০ দিন লাগবে। পেঁয়াজের ব্যবহারে সমচেতন হলে দেশে বর্তমানে যা মজুদ আছে, তা দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একমাস আগেও প্রতিদিন খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গড়ে ৭০টি পেঁয়াজবাহী ট্রাক প্রবেশ করত। প্রতি ট্রাকে ১৪ টন হরে হলে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার কেজি পেঁয়াজ আড়তগুলো প্রবেশ করত। ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর পর গত এক সপ্তাহ ধরে খাতুনগঞ্জের আড়তগুলো পেঁয়াজবাহী ট্রাক আসছে দিনে ২০টি। এখন ৫০ ট্রাক কম আসছে। ২০ ট্রাকে পেঁয়াজ সরবরাহ হয় প্রায় ১৫ হাজার কেজি। এখন গড়ে প্রতিদিন ২৫ হাজার কেজি পেঁয়াজ সরবরাহ কমে গেছে। যেগুলো দেশের বাজারে ঘাটতি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে খাতুনগঞ্জের পাইকারী বাজারে পেঁয়াজের আড়তগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভারতীয় নাসিকা জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০-৭২ টাকা, যা একদিন আগেও ছিল ৩৭-৩৮ টাকা। মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৪ টাকা। যা একদিন আগেও ছিল ৪২ টাকা দরে? পেঁয়াজের আড়তদার রনি বিশ্বাস বলেন, এ দেশের মানুষ হুজুগি। না হলে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার এক ঘণ্টা যেতে না যেতেই যেভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ করছে তা ভাবা যায় না। অথচ পেঁয়াজের দাম যখন স্বাভাবিক থাকে তখন পেঁয়াজ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা থাকে না।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম আমাদের সময়কে বলেন, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের আড়ত রয়েছে ২০০টির মতো। এসব আড়তে এখন যেসব পেঁয়াজ রয়েছে সেগুলো দিয়ে অনায়াসে তিন দিন ব্যবসা চলমান রাখা যাবে। তিনি বলেন, আমাদের দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে পেঁয়াজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত গত বছর সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছিল ভারত। সে সময় রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫০-২৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

advertisement
Evaly
advertisement