advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সীমান্তের ওপারে আটকা কয়েকশ ট্রাক

আমাদের সময় ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২৩:৫৬
সীমান্তে অপেক্ষায় আছে বহু পেঁয়াজবাহী ট্রাক। পুরোনো ছবি
advertisement

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ফলে দেশের প্রধান তিন স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল, সাতক্ষীরার ভোমরা ও দিনাজপুরের হিলি সীমান্তে আটকা পড়েছে কয়েকশ পেঁয়াজবাহী ট্রাক। গতকাল মঙ্গলবার ভারতীয় এই ট্রাকগুলো বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু ভারত সরকারের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার কারণে ট্রাকগুলো এখন পেঁয়াজ খালাসে বাংলাদেশে আসতে পারছে না। এতে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ পচনশীল হওয়ায় তারা মোটা অংকের আর্থিক লোকসানেরও আশঙ্কা করছেন। নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা, বেনাপোল ও হিলি প্রতিনিধির পাঠানো খবর।

বেনাপোল : গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা শতাধিক পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক সীমান্তের ওপারে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আটকা পড়েছে। ফলে পচনশীল এই পণ্য নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন আমদানিকারকরা। খুলনার পেঁয়াজ আমদানিকারক হামিদ এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি জনি ইসলাম বলেন, পূজার সময় আমরা ভারতকে ইলিশ দিচ্ছি অথচ তারা হঠাৎ করে এভাবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ না করে সময় দিতে পারত। এখন সীমান্তে আটকেপড়া পেঁয়াজে মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।

সাতক্ষীরা : গত সোম ও মঙ্গলবার ভারত থেকে কোনো পেঁয়াজের ট্রাক প্রবেশ করেনি ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে। ফলে ওপারে ভারতের ঘোজাডাঙ্গায় ১৬৫টি পেঁয়াজভর্তি ট্রাক আটকা পড়েছে। এ ছাড়া ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পেঁয়াজ নিয়ে ৩৫০টির মতো ট্রাক পথে রয়েছে। নাসিক থেকে ভোমরা বন্দরের দূরত্ব ২৩০০ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ পথ পাড়ির সময়ই অনেক ট্রাক খবর পেয়েছে রপ্তানি বন্ধের। ফলে তারা এখন কী করবে সেটা নিয়ে ভাবনায় পড়েছে।

ভোমরা কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আরাফাত বলেন, পেঁয়াজের বিষয়ে ভারতীয় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। জেনেছি ভারতীয় কৃষিপণ্য মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা (ন্যাপেড) পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি করায় পরনো এলসিতে তারা পেঁয়াজ দিতে পারছে না।

হিলি : পূর্ব ঘোষণা না দিয়ে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরাও। সোমবার থেকেই পেঁয়াজের কোনো ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি। ফলে সীমান্তের ওপারে আটকা পড়েছে ২৫০-৩০০ পেঁয়াজবোঝাই ভারতীয় ট্রাক। এ ছাড়া আমদানির জন্য এলসি করা প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে আসা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমদানিকারকরা।

স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, শুধু এখানকার আমদানিকারকরাই ১০ হাজার টনের মতো পেঁয়াজ আমদানির জন্য ভারতে এলসি করেছেন। যার বিপরীতে ২৫০-৩০০ ট্রাক পেঁয়াজ ভারতে আটকা পড়েছে। এসব ট্রাক দেশে প্রবেশ করতে না পারলে পেঁয়াজে পচন ধরে নষ্ট হবে। তাই আমরা মারাত্মক লোকসানের আশঙ্কা করছি। আমরা চাই আমাদের এলসি করা পেঁয়াজগুলো যেন দেশে ঢুকতে দেওয়া হয়।

এদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবরে হিলিতে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়।

advertisement
Evaly
advertisement