advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও বোরো সংগ্রহ হয়নি

ইউসুফ আরেফিন
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৩১
advertisement

চলতি বছর বোরো মৌসুমে সাড়ে ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তার অর্ধেকও সংগ্রহ হয়নি। এমনকি ৩১ আগস্ট নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর আরও ১৫ দিন বাড়িয়েও লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি সরকার। গত সোমবার পর্যন্ত ২ লাখ ১৭ হাজার ১৮ টন ধান, ৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৬ টন চাল, ৯৪ হাজার ৩৪৭ টন বোরো আতপ চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে সরকার; যা চালের আকারে সর্বমোট ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯৪৫ টন। বোরো মৌসুমের খাদ্য সংগ্রহের সময়সীমা শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। নতুন করে আর এ সময় বাড়ানো হচ্ছে না। তবে লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারলেও এ নিয়ে কোনো দুচিন্তা নেই বলে জানিয়েছেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) সারোয়ার মাহমুদ।

এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এ বছর যেসব চালকল মালিক চাল সরবরাহ করেনি তাদের লাইসেন্স স্থগিতের চিন্তা চলছে। আর যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও চাল সরবরাহ করেছেন তাদের বিষয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন হবে। পাশাপাশি যেসব মিলার ব্যর্থ হয়েছেন কিংবা চাল সংগ্রহের লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা করেননি তাদের বিরুদ্ধে চুক্তিপত্র ও চালকল লাইসেন্স ইস্যু সংক্রান্ত বিধিবিধানসহ প্রাসঙ্গিক আইনি ব্যবস্থা নেবে সরকার।

খাদ্য অধিদপ্তরের ডিজি সারোয়ার মাহমুদ আমাদের সময়কে বলেন, ‘খাদ্যশস্য সংগ্রহের সময়সীমা আর বাড়ানো হচ্ছে না। আমরা যেটুকু সংগ্রহ করেছি, তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। সামনে আমনের মৌসুম। এখন থেকেই সেই ধান-চাল সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তবে যেসব মিলার সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেও চাল সরবরাহ করেনি তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় চালের কোনো সংকট হবে কিনা- এমন প্রশ্নে খাদ্যের ডিজি বলেন, ‘না কখনই সংকট হবে না। দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বেশি দাম পেয়ে বাজারেই কৃষকরা ধান বিক্রি করেছেন। ফলে মিলাররা সরকারকে চাল দিতে পারেননি। এতে প্রকৃতপক্ষে কৃষকই লাভবান হয়েছেন। তারা খুবই খুশি।’ তা ছাড়া করোনা

মহামারীর কারণে এবার বোরো অভিযান পুরোপুরি সফল হয়নি বলেই মন্তব্য করেন ডিজি মাহমুদ, ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ। করোনার মতো একটা মহামারীর মধ্যেও খাবারের কোনো সংকট হয়নি। আগামীতেও কোনো ধরনের সংকটে পড়বে না। খাদ্যশস্যের মজুদ বেশ সন্তোষজনক। বর্তমানে সরকারের গুদামে প্রায় ১৫ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে। এর মধ্যে ১১ লাখ ৬৬ হাজার টন চাল এবং ২ লাখ ৮২ হাজার টন গম।’

জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে গত বছরের তুলনায় চলতি বোরো মৌসুমে ২ লাখ টন বেশি খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রেখে সাড়ে ২০ লাখ টন নির্ধারণ হয়েছিল। এর মধ্যে ২৬ টাকা কেজি দরে ৮ লাখ টন ধান, ৩৬ টাকা কেজিতে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ৩৫ টাকা কেজি দামে দেড় লাখ টন আতপ চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। গত ২৬ এপ্রিল থেকে ধান এবং ৭ মে থেকে শুরু হওয়া বোরো চাল সংগ্রহের সময়সীমা ছিল ৩১ আগস্ট। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে লক্ষ্যপূরণ না হওয়ায় আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়। এ সময়ের মধ্যেও কাক্সিক্ষত সাড়া মেলেনি।

খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, বোরো মৌসুমে পুরোপুরি সফলতা না পাওয়ায় সামনে আমন মৌসুমে যেন ব্যর্থ না হয় সেদিকে জোর দেবে সরকার। ওই মৌসুমে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা পূরণেই নজর দিচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তর। সুতরাং সামনের দিনগুলোতে সরকারি খাদ্যশস্য নিয়ে খুব একটা সমস্যা হবে না।

advertisement
Evaly
advertisement