advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মরুসিংহ ওমর মুখতারের মৃত্যু

আমাদের সময় ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৪৫
advertisement

ওমর মুখতার (১৮৫৮-১৯৩১) লিবিয়ার জাতীয় বীর। পশ্চিমে তিনি মরুসিংহ নামে খ্যাত। ওমর মুখতার লিবিয়ায় ইতালীয় ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেন। ১৯৩১ সালে এক গেরিলাযুদ্ধে তিনি ইতালীয় সৈন্যদের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্য করা হয়।

ওমর মুখতার লিবিয়ার সিরেনিকায় জানজুর গ্রামে ১৮৫৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। সেনুসি আন্দোলনের মূলকেন্দ্র জাগবুবের সেনুসি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। ১৮৯৯ সালে ফরাসিদের প্রতিহত করার জন্য সেনুসিদের সঙ্গে যুদ্ধে যান তিনি।

১৯১১ সালে ইতালি-তুর্কি যুদ্ধের সময় ইতালীয় নৌবাহিনীর একটি দল লিবিয়ার উপকূলে পৌঁছে এবং তিন দিন পর্যন্ত শহরে গোলাবর্ষণ করে। এর পর অধিকৃত অঞ্চলকে ইতালীর অধীন বলে ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনা ইতালীয় ঔপনিবেশিক সেনাবাহিনী এবং ওমর মুখতারের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের সূচনা করে।

পেশাগত দিক থেকে শিক্ষক হলেও মুখতার মরুভূমির যুদ্ধকৌশল বিষয়ে ছিলেন অতিদক্ষ। স্থানীয় ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা ছিল। তার এ জ্ঞানকে তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে ইতালীয়দের বিরুদ্ধে কাজে লাগান। ইতালীয়রা মরু অঞ্চলে যুদ্ধের সঙ্গে পরিচিত ছিল না। মুখতার তার ছোট সৈন্য দল নিয়ে সফল গেরিলা আক্রমণে সক্ষম হন। আক্রমণের পর তার বাহিনী মরুভূমিতে আত্মগোপন করত। তার গেরিলা লড়াইয়ে ইতালীয় সৈনিকরা পর্যুদস্ত হয়ে পড়েন। ইতালির তৎকালীন গভর্নর জেনারেল আটিলিয়ো তেরুজ্জি ওমরকে ‘ব্যতিক্রমী স্থিরচিত্ত ও অটল ইচ্ছাশক্তিসম্পন্ন’ বলে উল্লেখ করেন।

ইতালীয় ঔপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে মুখতারের প্রায় ২০ বছরব্যাপী লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটে ১৯৩১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। তিনি আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হন। তাকে গ্রেপ্তারে সাহায্য করায় স্থানীয় নেতাদের পুরষ্কৃত করা হয়। তার দৃঢ়তা জেলারের ওপর প্রভাব ফেলে। মুখতারের জিজ্ঞাসাবাদকারীদের মতে, তিনি কোরআনের শান্তিসূচক আয়াত তিলাওয়াত করতেন। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই মুখতারের বিচার সম্পন্ন হয়। বিচারে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের আদেশ দেওয়া হয়। তবে ঐতিহাসিকদের মতে, এই বিচার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ছিল না। শেষ কথা জানতে চাওয়া হলে মুখতার কোরআনের আয়াত- ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করেন। ১৯৩১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সুলুকের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে তার অনুসারীদের সামনে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। তার বয়স ছিল ৭০ বছর। তাকে নিয়ে হলিউডে ১৯৮১ সালে ‘লায়ন অফ দ্য ডেসার্ট’ নামে মুভি নির্মিত হয়। -

advertisement
Evaly
advertisement