advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এনআইডি জালিয়াতি
সাত বছরে আউটসোর্সিংয়ের ৩৯ জন চাকরিচ্যুত

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৪৫
advertisement

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির অভিযোগে গত ৭ বছরে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ৩৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা সবাই জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের অধীন ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং এক্সেস টু সার্ভিস’ (আইডিইএ) প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন।

আগামী ডিসেম্বরে আইডিইএ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এত বিতর্কের পরও আরও আউটসোর্সের কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রেখে এ প্রকল্পের মেয়াদ ফের

বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এনআইডি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ২০১৩ সালে প্রথম আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া এক কর্র্মকর্তা চাকরিচ্যুত হন। সম্প্রতি দুজন সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। চাকরিচ্যুতদের মধ্যে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন জাকির হোসেন, মাহমুদুল হাসান, সাদেক হোসেন, ইয়াসির আরাফাত, রফিকুল ইসলাম, ইকবাল হোসাইন, মির্জা আসিফ বিন আশরাফ, সহকারী পরিচালক মোস্তফা হাসান ইমান, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সাবেদুল ইসলাম, জাকির হোসেন, বাবুল আহমেদ, মোস্তফা ফারুক, আবু বকর সিদ্দিক, মারজিয়া আক্তার লিজা, শেখ সেলিম শান্ত, সোলাইমান, সুতপা রানী, ইকবাল হোসেন, মাহমুদুল ইসলাম, রবিউল করিম, সুব্রত কুমার বিশ্বাস, আবদুল জলিল মিয়া, তারেক আজিজ, জামাল উদ্দিন, ইকবাল আহমেদ, ইউসুফ আলী চৌধুরী রাব্বী, সুমন দেব, রিয়াজ উদ্দিন, আল আমিন, হাফিজুর রহমান, তাহমিনা আক্তার তুহিন, জাহাঙ্গীর আলম, পাভেল বড়–য়া, জাহের হাসান, শাহীন, অবিনাশ চন্দ্র রায়, সিদ্ধার্থ শঙ্কর সুত্রধর, আনারুল ইসলাম এবং ম্যাসেঞ্জার আশিকুল ইসলাম পিন্টু।

বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় আইডিইএ প্রকল্পের আওতায় ২০১১ সালের জুলাইয়ে ৯ কোটি নাগরিককে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার চুক্তি হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালের জুনে। এর পর বেশ কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে আইডিইএ প্রকল্পের অধীনে সারাদেশের ৫১৮ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় ও এনআইডি কার্যালয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৩০০ ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয়। তারা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন, বিতরণ ও ভোটার রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়াও অন্যান্য দাপ্তরিক কাজ করে থাকেন।

গত শনিবার নির্বাচন কমিশনের দুই ডাটা এন্ট্রি অপারেটরসহ জাল এনআইডি তৈরির চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এনআইডি উইংয়ের ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি জালিয়াত চক্রের সঙ্গে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ পাওয়া অস্থায়ী কর্মী ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর বাইরে চক্রের অনেকে জড়িত থাকার তথ্য আসছে। বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মাঠপর্যায়ে অনিয়ম রোধে অভিযানের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বাইরের লোকবল দিয়ে এনআইডির মতো স্পর্শকাতর কাজ করানো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে ইসি কর্মকর্তাদের মধ্যেও। তারা বলছেন, এসব জনবলের কেউ কেউ ইসির কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় জালিয়াতি করে থাকে। কোনো জালিয়াতির বিষয় প্রকাশের পর সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও পেছন থেকে কাজ করা কর্মকর্তাদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায় না। এনআইডি সেবার জন্য নিজস্ব লোকবল নিয়োগ দিলে জালিয়াতির ঘটনা কমতে পারে।

advertisement
Evaly
advertisement