advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুপ্রিমকোর্টের রায় মানা হয়নি আড়াই বছরেও

কবির হোসেন
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৪৫
advertisement

রাজধানীর আজিমপুরে সলিমুল্লাহ এতিমখানার জমিতে অবৈধভাবে ১৮তলা ভবন করেছিল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কনকর্ড। সুপ্রিমকোর্ট ভবনটি বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে ৩০ দিনের মধ্যে এতিমখানা কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দেন। এর পর পেরিয়ে গেছে আড়াই বছরেরও বেশি সময়। কিন্তু ভবনটি আজও এতিমখানার অনুকূলে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। দুই বিঘা জমির ওপর নির্মিত বিশাল ভবনটি পড়ে রয়েছে অযত্ন-অবহেলায়। ফলে প্রতি মাসে বড় অঙ্কের টাকার আর্থিক অপচয় হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা থাকলে তা দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্টরা।

রিটকারী সংগঠনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ জানান, কনকর্ডের ওই ভবন এতিমখানার অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ আপিল বিভাগ বহাল রাখেন ২০১৮ সালে। কিন্তু আজও ভবনটি এতিমখানার অনুকূলে দেওয়া হয়নি। এতে আদালত অবমাননা হয়েছে। আমরা শিগগিরই আদালত অবমাননার মামলা করব। অন্যদিকে কনকর্ডের আইনজীবী আবদুল হান্নান বলেন, আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আবেদনটি এখন বিচারাধীন। এ কারণে ভবনটি এখনো হস্তান্তর করা হয়নি।

তবে মনজিল মোরসেদ জানান, রিভিউ আবেদন করার অর্থ রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত নয়। রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত না থাকায় ওই ভবন হস্তান্তর করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তা না করায় রায় লঙ্ঘিত হয়েছে।

১৯০৯ সালে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহ রাজধানীর আজিমপুরে ওই এতিমখানা স্থাপন করেন। পরে সরকারের কাছ থেকে আজিমপুর সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন সময় জমি ইজারা নিয়ে এতিমখানা পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০০৩ সালের ২২ জুলাই এতিমখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুন্নাহার আহসানউল্লাহ এবং সেক্রেটারি জিএ খান এতিমখানার দুই বিঘা জমি ডেভেলপার কোম্পানি কনকর্ডকে হস্তান্তর করেন। সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর এতিমখানার চার শিক্ষার্থীর পক্ষে ২০১৩ সালে হাইকোর্টে রিট করা হয়। এতে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ পক্ষভুক্ত হয়।

রিটে যুক্তি ছিল এতিমখানার সম্পত্তি সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া হয়েছে। ইজারা চুক্তির শর্ত ছিল, প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো কাজে জমি ব্যবহার করা যাবে না। তবে চুক্তির শর্ত ও গঠনতন্ত্র ভঙ্গ করে ওই সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়। এ সম্পত্তি সরকারের নামে রেকর্ড আছে, তার পরও বেআইনিভাবে এতিমখানার সম্পত্তি কনকর্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আবেদনটির প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণকাজে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। এতিমখানার সম্পত্তি হস্তান্তর-সম্পর্কিত ওই দলিল এবং ২০০৪ সালের ১৩ এপ্রিলের আমমোক্তারনামা দলিল বাতিল ঘোষণা করে রায়ে বলা হয়, এগুলো শুরু থেকেই অকার্যকর ও বাতিল। রায়ে এতিমখানার জায়গায় কনকর্ডের বানানো ১৮তলা ভবন এতিমখানার পক্ষে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়। কনকর্ডকে ৩০ দিনের মধ্যে স্থাপনা ও সম্পত্তি এতিমখানাকে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। ব্যর্থতায় সরকারকে সম্পত্তি বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং এতিমখানার প্রয়োজনে ডেভেলপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ রায়ের বিরুদ্ধে কনকর্ড কর্তৃপক্ষ আবেদন করলে ২০১৮ সালের ১২ মার্চ আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়টি বহাল রাখেন। রায় অনুযায়ী অনুলিপি গ্রহণের ৩০ দিনের মধ্যে সমাজকল্যাণ সচিবের মাধ্যমে কনকর্ডকে ওই বহুতল ভবন এতিমখানাকে বুঝিয়ে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পর পার হয়েছে আড়াই বছরেরও বেশি সময়। কিন্তু ভবনটি এতিমখানার অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়নি।

advertisement
Evaly
advertisement