advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সিরাজগঞ্জে বর্বরতা
যৌতুকের জন্য পুত্রবধূর চুল কাটলেন শ্বশুর

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৪৫
advertisement

ভালোবেসে নিজের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করেন ছেলে। এ কারণে শুরু থেকেই ছেলে এবং পুত্রবধূর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন হাবিবুর রহমান। যৌতুকের জন্য মাঝেমধ্যেই পুত্রবধূকে নির্যাতন করতেন। ছেলে প্রতিবাদ করলে তাকেও রেহাই দেননি। এমনকি নিজের ছেলের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা করেছিলেন তিনি। সর্বশেষ পুত্রবধূকে মারধর করে মাথার চুল কেটে দিয়েছেন শ্বশুর ও তার পরিবারের লোকজন। বর্বরচিত এ ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মহেষপুর গ্রামে। শ্বশুরকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, গত রবিবার রাতে

উল্লাপাড়ার উধুনিয়া ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামে যৌতুকের জন্য পুত্রবধূ নার্গিস বেগমকে মারধর করে তার মাথার চুল কেটে আহত অবস্থায় ফেলে রাখেন হাবিবুর রহমান ও তার পরিবারের লোকজন। পরে আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে তার স্বজনেরা। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাস জানান, এ ঘটনায় জড়িত শ্বশুর হাবিবুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। তবে পরিবারের অন্যরা এখনো পলাতক আছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

দুই সন্তানের জননী নার্গিস বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুক লোভী শ্বশুর তার ওপর নির্যাতন করতেন। এমনকি মাঝে মাঝে কুপ্রস্তাবও দিতেন।

নার্গিসের স্বামী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভালোবেসে নিজের পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করার কারণেই বাবা আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ। এ কারণে আমাদের ওপর প্রায়ই বাবাসহ পরিবারের অন্যরা নির্যাতন চালান।

নার্গিসের বাবা ইব্রাহিম বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। গ্রামের লোকজন বিষয়টি জানে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন সময় সালিশ হয়েছে। কিন্তু সালিশ না মেনে নিজের ছেলের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলাও দায়ের করেছিলেন হাবিবুর।

উধুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, নার্গিসের শ্বশুরবাড়ির লোকেরা যৌতুকের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চাপ দিয়ে আসছিল এবং বিভিন্ন সময় নার্গিস ও তার স্বামী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমনকি নিজের ছেলের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলাও করেছিলেন হাবিবুর। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠকও হয়। কিন্তু হাবিবুর কোনো বিচার মানেন না।

সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামীমুল ইসলাম বলেন, নির্যাতিতার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত।

advertisement
Evaly
advertisement