advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দুই সহোদর হত্যা
ওসি প্রদীপসহ ৫ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত

চন্দনাইশ প্রতিনিধি
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৪৫
advertisement

কথিত ক্রসফায়ারের নামে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ এলাকার দুই সহোদর আজাদ ও ফারুককে হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। গত শনিবার থেকে অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মফিজউদ্দিন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এ সময় চার সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন তিনি। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবেন কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে মফিজউদ্দিন বলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর তা বলতে পারব। তবে অদ্যাবধি তদন্ত অব্যাহত আছে। এ মামলার আসামি টেকনাফ থানার সদ্য সাময়িক বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং অজ্ঞাতনামা ৫ জন।

পরিবারের অভিযোগ, আজাদ ও ফারুককে টেকনাফ থানায় ধরে নিয়ে গিয়ে ফোন করে ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। সেই টাকা দিতে না পারায় ১৬ জুলাই টেকনাফের জালিয়াপাড়া এলাকায় কথিত ক্রসফায়ারে তাদের হত্যা করা হয় মর্মে নিহতদের বোন রিনাত সুলতানা শাহীন গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমির আদালতে মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় টেকনাফ থানার সদ্য সাময়িক বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং

অজ্ঞাতনামা পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছিল। বিজ্ঞ আদালত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মো. মফিজউদ্দিনকে সুষ্ঠু তদন্ত করে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী বলেন, তার ভাই আজাদ দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। গত ৬ রমজান দেশে আসেন। বড়ভাই ফারুক দেশে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের কাজ করতেন। পাশাপাশি তারা স্থানীয়ভাবে পেয়ারা বাগান করতেন। বাদী ও পরিবারের দাবি, নিহত ফারুক ও আজাদ ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে কখনো জড়িত ছিল না। গত ১৩ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আজাদ নিখোঁজ হন। ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে আজাদের মোবাইল ফোন থেকে মায়ের মোবাইলে একটি মেসেজ আসে। তাতে লেখা ছিল- মা আমি শেষ। এর পর পরই তার পরিবারের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পর দিন ১৫ জুলাই চন্দনাইশ থানায় এ বিষয়ে জিডি করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুপুর ২টার দিকে ফারুকের বাসায় পুলিশ আসে। তারা বাসায় তল্লাশি চালিয়ে কিছু না পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা বলে ফারুককে নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায় পুলিশ। কিন্তু রাত ৮টার দিকে জানতে পারি- গত ১৪ জুলাই ফারুকের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা হয়েছে। পরে টেকনাফ ও উখিয়া থানায় খবর নিয়ে জানা যায়, ফারুক ও আজাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। ওই দিন রাত ১০টায় অজ্ঞাত নাম্বার থেকে কল দিয়ে বলা হয়, দাবিকৃত টাকা না দিলে তাদেরকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা করা হবে। গত ১৬ জুলাই সকাল ৭টার দিকে টেকনাফ থানা থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে গিয়ে ফারুক ও আজাদের লাশ শনাক্ত করে নিয়ে যেতে বলা হয়। গত ১৮ জুলাই দুই সহোদরের লাশ নিয়ে এসে চন্দনাইশের কাঞ্চননগরস্থ ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

advertisement
Evaly
advertisement