advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আশুলিয়ায় মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক সাভার
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২২:৪৫
advertisement

সাভারের আশুলিয়ায় একটি মাদ্রাসায় দুই শিশু শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে হাত-পা বেঁধে নিষ্ঠুর কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক হাফেজ ইব্রাহিম মিয়া ও হাফেজ ওবায়দুল্লাহসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে আশুলিয়ার শ্রীপুরের নতুননগর মদনেরটেক এলাকা থেকে আটক করা হয় তাদের। গত সোমবার একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় শিক্ষার্থী নির্যাতনের এ সংবাদ প্রচারের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রশাসন নড়েচড়ে বসলে গাঢাকা দেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষকরা।

পুলিশ সূত্র জানায়, ১১ সেপ্টেম্বর ওই এলাকার জাবালে নূর মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ওই নির্যাতনের ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার পর অভিযানে নামে পুলিশ।

ভিডিওতে দেখা গেছে, মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীদের সামনেই শিক্ষক ইব্রাহিম মিয়া শিক্ষার্থী রাকিব হোসেনকে (৯) হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করছেন। এ সময় পাশেই দেখা যায়

হাত-পা বাঁধা আতঙ্কিত আরেক শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানকে।

নির্যাতনে দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে খবর দেওয়া হয় তাদের পরিবারকে। তাদের মধ্যে শিশু রাকিব হোসেনকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তার পরিবার গ্রামের বাড়ি নিয়ে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করায়। নির্মম শারীরিক নির্যাতনে ওই শিশু এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

এদিকে সোমবার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ক্যামেরায় ধারণ করা ওই দুই শিশু শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। তার পর সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে শিক্ষক হাফেজ ইব্রাহিম মিয়া ও হাফেজ ওবায়দুল্লাহসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, দুই বছর আগে আশুলিয়ায় শ্রীপুরের নতুননগর মদনেরটেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা জাবালে নূর মাদ্রাসা চালু করেন আবদুল জব্বার। ওই মাদ্রাসায় আগে ২০০ শিক্ষার্থী থাকলেও নির্যাতনের কারণে একে একে মাদ্রাসা ছেড়ে যায় শিক্ষার্থীরা। মাত্র ২ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শেষ পর্যন্ত ছিল ১৪ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার দুই শিশুকেও ওই মাদ্রাসা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন অভিভাবকরা।

শিশু শিক্ষার্থী নির্যাতনে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন স্থানীয় ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মহিউদ্দিন জানান, শিশু শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে এলাকার জনগণ। রাতেই তারা ওই দুই শিক্ষককে ধরে উত্তমমধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।

আশুলিয়া থানার ওসি এসএম কামরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

advertisement
Evaly
advertisement