advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা
অস্থির সময়ে স্বস্তির সিদ্ধান্ত কাম্য

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২৩:১৩
advertisement

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। গত বছরও সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমে পেঁয়াজের দর বাড়ানো হয়েছিল এবং পরে রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভুগেছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা আনুমানিক ২৫ লাখ টন। বছরে এর চেয়ে কিছু বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। তবে সংরক্ষণ ও পরিবহনের সংকটে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টন ঘাটতি তৈরি হয়। এ বছরও অন্তত কয়েক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে। সাধারণত আমদানিকৃত পেঁয়াজের নব্বই শতাংশ আনা হয় ভারত থেকে। পেঁয়াজ আসে স্থলপথে। ভারত স্থলপথে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো বাংলাদেশের আমদানি বন্ধ হওয়া। গত বছরও এই অবস্থায় বাংলাদেশকে পেঁয়াজের অস্থিতিশীল বাজার নিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছিল। ৩০ টাকা কেজির পেঁয়াজের দাম তখন ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। গতকালই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। আজ থেকে বাজারে ক্রেতারা এর আঁচ বুঝতে পারবেন।

যেহেতু বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের মতো পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় তাই এ নিয়ে সংকট ঘনীভূত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাজারে এখনো দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ভালোই আছে। সরকারের গুদামেও মজুদ রয়েছে সোয়া ৫ লাখ টন পেঁয়াজ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন কয়েক লাখ টন আমদানি করলেই এই সমস্যা মেটানো যাবে। গত বছরের সংকটকালেই দেশের আমদানিকারকরা ভারত ছাড়া পেঁয়াজের বিকল্প উৎস খুঁজে নিয়েছিলেন। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে- মিয়ানমার, মিসর, তুরস্ক, চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া। সেবার কেউ কেউ সুদূর নেদারল্যান্ডস এবং আফগানিস্তানেও পেঁয়াজ আমদানির জন্য যোগাযোগ করেছিলেন। আমাদের মনে হয় পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দ্রুত পেঁয়াজের বিকল্প উৎসগুলোকে কাজে লাগানো উচিত। তা ছাড়া সংরক্ষণ ও পরিবহনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। এভাবেও আমদানিনির্ভরতা কমানো যাবে। তাতে পেঁয়াজের বাজার নিয়ে ভারতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকার প্রয়োজন পড়বে না।

আমরা জানি না আকস্মিক এই ব্যবস্থা গ্রহণের পেছনে ভারত সরকারের কী চিন্তা বা নীতি কাজ করেছে। তবে গত বছর সেপ্টেম্বর নাগাদ যে ব্যবস্থা তারা নিয়েছিল তাতে স্থানীয় বাজারের সংকটকেই কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। এবার এখনো কোনো কারণ দর্শানো হয়নি। এর পেছনে অন্য কোনো সুদূরপ্রসারী ইঙ্গিত মেলে কিনা তা কূটনীতিকরাই ভালো বলতে পারবেন। অনেকের ধারণা, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রচারণা, বাংলাদেশে সম্প্রতি ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের সফরের অভিজ্ঞতা ইত্যাদির কোনো ভূমিকা থাকতেও পারে। ভারত-চীন সম্পর্কের উৎপাতের আঁচ থেকে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ রেহাই পাবে না এ কথা সবাই বোঝেন। তবে বাংলাদেশও দ্রুত পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ মাছ রপ্তানি কূটনীতির মাধ্যমে সমঝোতার মনোভাব প্রকাশ করেছে। আঞ্চলিক কূটনীতি টানাপড়েনের মধ্যে দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের অগ্রগতি বজায় রাখতে হবে। বর্তমান বিশ্বে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে দারুণ অস্থিরতা চলছে। এ সময় উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে পথ চলতে হবে।

advertisement
Evaly
advertisement