advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পুলিশ কর্মকর্তা হতে হবে, মানসিক চাপে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

অনলাইন ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১১:৪৭ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৩:৪৪
এই আবাসনের নিচে মিলেছে অদ্রিজা মণ্ডলের মরদেহ। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

বাবা নিচুতলার পুলিশকর্মী। তাই চেয়েছিলেন মেয়ে আইপিএস অফিসার হবে। কিন্তু বাবার সেই ইচ্ছে মেয়ের মানসিক চাপের কারণ হয়ে উঠেছিল। অবশেষে চাপ নিতে না পেরে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ১৩ বছরের এক কিশোরী। কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটের পুলিশ আবাসনে ঘটেছে এই ঘটনা। অদ্রিজা মণ্ডল নামে ওই কিশোরী কলকাতার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত।

অদ্রিজার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। কিশোরীর সুইসাইড নোটেও একই ইঙ্গিত মিলেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অদ্রিজার বাবা কলকাতা পুলিশের অ্যাসিস্টেন্ট সাব ইনস্পেক্টর। তিনি লালবাজারের কম্পিউটার সেলে কর্মরত।

আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা চত্ত্বরের পুলিশ আবাসনের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার দুপুরে তারা উপর থেকে ভারী কিছু পড়ার আওয়াজ শুনতে পান। বাইরে বেরিয়ে দেখা যায় ১০তলা আবাসনের নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ওই আবাসনেরই বাসিন্দা অদ্রিজা মণ্ডল। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, ঘটনার পর তদন্তে নেমেছে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অদ্রিজা মানসিক অবসাদে ভুগছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তকারীরা সাদা কাগজে কালো কালিতে হাতে লেখা একটি চিরকুট পেয়েছেন। তলায় অদ্রিজার স্বাক্ষর। ইংরেজিতে লেখা ওই চিরকুটকে সুইসাইড নোট বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেখানে ওই কিশোরী অবসাদে মৃত্যুর কথা লিখেছে।

‘হাই এভরিওয়ান’ সম্বোধনে শুরু সেই চিরকুটে লেখা, ‘এই চিঠি যখন তোমাদের কাছে পৌঁছাবে তখন আমি মৃত। আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি। আমার মৃত্যুর কারণ অবসাদ। খুব চেষ্টা করেও আমার পরীক্ষার ফল ভালো হয়নি। আমার খুব আনন্দ হচ্ছে এটা ভেবে যে, আমি মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। মানে আমি মৃত। তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, আমি আইপিএস হতে পারব না। আমি আমার সিদ্ধান্তের জন্য দুঃখিত। সকলকে ধন্যবাদ। বিদায়।’

চিঠির তথ্য থেকে পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষার ফল আশানুরূপ না হওয়া এবং কিশোরীর ওপর আইপিএস হওয়ার চাপই তার মানসিক অবসাদের কারণ ছিল বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। তারপরও কিশোরীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্টসহ সব দিক খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান তারা।

এ ঘটনা প্রসঙ্গে মনোবিদ অনুত্তমা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যে বয়সের মেয়েটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার কাছে আইপিএস কী সেটা ভালো করে জানারও কথা নয়। কিন্তু হয়তো ওর মনের মধ্যে এই ভাবনা তৈরি হয়ে গিয়েছিল যে, এই স্বপ্ন পূরণ না হলে ও বাবাকে খুশি করতে পারবে না। হয়তো ভেবেছিল, আমি যদি আইপিএস না হতে পারি তবে হয়তো বাবা-মায়ের সুযোগ্য সন্তান হওয়া হবে না। আমার জন্যই ওদের সারা জীবন খারাপ থাকতে হবে। এমন চিন্তা আসতেই পারে ওই মেয়েটির মনে। সেখান থেকেই নিজেকে আগাম দায়ী করার প্রবণতা আসতে পারে। এক ধরনের অপরাধবোধও আসতে পারে।’

advertisement
Evaly
advertisement