advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ছাত্রদের আন্দোলনে বন্ধ হাটহাজারী মাদ্রাসা

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ ২১:৫৭ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৮:৫৩
হাটহাজারী মাদ্রাসার মূল ফটকে ভাংচুর। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে স্বপদে পুনর্বহালের চেষ্টা ও মাদ্রাসা বন্ধের খবরে ফের বিক্ষোভ করছে ওই মাদ্রাসার বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা।  বিক্ষোভের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়টির জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে হাটহাজারী মাদ্রাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বেলা ১১টার পর মাদ্রাসা মাঠে জমায়েত হয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করে। এ ছাড়া বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার আনাসপন্থী কয়েকজন শিক্ষকের কক্ষে ভাংচুর চালায়। আজ সকাল থেকে পুরো মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মাদ্রাসার সব গেট তালাবদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি সহযোগী পরিচালক মাওলানা শেখ আহমদ, মুফতি জসিম ও মাওলানা ওমরের কক্ষে ভাংচুর চালানো হয়।

অন্যদিকে, হেফাজত আমির আহমদ শফীর পক্ষে তার একান্ত ব্যক্তিগত সচিব (খাদেম) শফিউল আলম ফেসবুক লাইভে এসে দেশবাসীর উদ্দেশে সর্বশেষ অবস্থা জানান। এ সময় আল্লামা আহমদ শফী তার খাদেমের পাশে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় শফিউল আলম ভিডিও লাইভে বলেন, ‘আল্লামা শফি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত আছেন। তিনি তার কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তথা তাদের দাবির প্রতি সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।’ 

শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, আগামী শনিবারের মধ্যে মাদ্রাসার শুরা কমিটির যে বৈঠকের সিদ্ধান্ত ছিল, তা আজ (বৃহস্পতিবার) মাগরিবের নামাজের পর মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক মাওলানা শেখ আহম্মদ আহ্বান করেছেন। এ জন্য মাদ্রাসার শুরা সদস্যরা বৈঠকে অংশ নিতে ইতিমধ্যে রওনা হয়েছেন বলে আল্লামা শফীর একান্ত ব্যক্তিগত সচিব তার ফেসবুক লাইভে নিশ্চিত করেন। 

এদিকে, হাটহাজারী মাদ্রাসায় ছাত্রদের চলমান আন্দোলনে বহিরাগতদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করে দেশের ১০১ জন শীর্ষস্থানীয় আলেম ও ইমাম-খতিব এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘মাদ্রাসার ভেতরগত বিষয়ে মুরুব্বিরা বিশেষ করে শূরা সদস্যরা বিচার-বিবেচনা করবেন এটাই দেশবাসী প্রত্যাশা করে।’

তারা আরও দাবি করে বলেন, ‘উম্মুল মাদারিসের শত বছরের ঐতিহ্য বিনষ্ট করার জন্য যে বা যারাই উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবে, তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট সবার ওপরেই বর্তাবে। আমরা মাদ্রাসার হিতাকাঙ্খী ছাত্রদের উদ্দেশে বলব, আপনারা শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী দামাত বারকাতুহুমের ইজ্জত-সম্মানের ওপর আঘাত আসে-এ জাতীয় অপকর্ম থেকে নিজেরা বিরত থাকুন, অন্য ছাত্রদেরকেও বিরত রাখুন।’

বিবৃতি প্রদানকারী শীর্ষ আলেম ও ইমাম-খতীবরা হলেন-মুফতি আহমদুল হক, মুফতি ইনামুল হক, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা শামসুদ্দিন আহমদ, মুফতি রেজাউল করিম, মাওলানা সালেহ আহমদ, মাওলানা হাবিবুল্লাহ, মাওলানা আহমদ আলী, মাওলানা মুফতি খলিলুর রহমান প্রমুখ।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার রশিদুল হক, র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর সার্কেল) মশিউদ্দৌলা রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল, হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ আলমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিপুল পরিমাণ সদস্য মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নিয়েছেন।

মাদ্রাসার ভেতরে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরাও তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। কিছু সময় পরপর শিক্ষার্থীরা তাদের ৬ দফা দাবির বিষয়টি শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার বড় মসজিদের মাইক থেকে এলাকাবাসী ও প্রশাসনের উদ্দেশে মাইকিং করতে থাকে। তা ছাড়া প্রশাসন যাতে মাদ্রাসার ভেতরে ঢুকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার জন্য শিক্ষার্থীরা মসজিদের মাইকে বারবার মাইকিং করছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব সৈয়দ আসগর আলী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট কওমি মাদ্রাসাসমূহের কিতাব বিভাগের কার্যক্রম শুরু ও পরীক্ষা গ্রহণের জন্য কতিপয় শর্তসাপেক্ষে অনুমতি প্রদান করা হয়। কিন্তু আরোপিত শর্তসমূহ যথাযথভাবে প্রতিপালিত না হওয়ায় হাটহাজারী মাদ্রাসাটি পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নির্দেশক্রমে বন্ধ করা হলো।

প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার মাদ্রাসার বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষা সচিব মাওলানা আনাস মাদানীকে অব্যাহতি দেওয়ার খবরে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়ে যায়। আনাস মাদানীকে তার পদে পুনর্বহালের গুঞ্জনে ফের আন্দোলন শুরু হয়।

advertisement
Evaly
advertisement