advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রিমান্ডে তিতাসের আট কর্মকর্তা-কর্মচারী

নারায়ণগঞ্জে বিস্ফোরণ : আরও ২ মুসল্লির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০৩
নারায়ণগঞ্জের বাইতুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত আব্দুল আজিজের স্ত্রী ও কন্যার কান্না - আমাদের সময়
advertisement

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণ ও হতাহতের ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে তিতাসের বরখাস্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- তিতাসের ফতুল্লা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক মাহমুদুর রহমান রাব্বি, সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মো. মুনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী মো. আইউব আলী, হেলপার মো. হানিফ মিয়া, কর্মচারী মো. ইসমাইল প্রধান।

গতকাল শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির ডিআইজি মাইনুল হাসান। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ৮ জন মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে মসজিদে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্র্রেপ্তার তিতাসের ওই ৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার আলমের আদালত এই রিমান্ড আদেশ দেন। এর আগে ৮ আসামিকে আদালতে হাজির করে তাদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন জানানো হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে জানান কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান।

গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে এশার নামাজ চলাকালে বাইতুস সালাত মসজিদে বিস্ফোরণ হয়। মসজিদের নিচে গ্যাসের লাইনে লিকেজ থেকে গ্যাস বের হয়ে এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে তিতাসের তদন্ত কমিটি। পরে এ ঘটনায় তিতাসের এই আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে দগ্ধ আরও দুই মসুল্লির মৃত্যু হয়েছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন শনিবার ভোরে মারা যান অগ্নিদগ্ধ আব্দুল আজিজ (৪০)। এরপর বেলা পৌনে ২টার দিকে মারা যান মো. ফরিদ (৫৫) নামে অন্যজন। তারা দুজনই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। গত ৪ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের ঘটনায় এই নিয়ে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও শিশুসহ মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হলো। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আরও ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন একজন।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শঙ্কর পাল জানান, মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় শনিবার চিকিৎসাধীন দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে শরীয়তপুরের নড়িয়া কেদারপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে আজিজ শরীরের ৪৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিলেন। আর ফরিদের দেহের ৫০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। দুজনের শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় তারা সংকটাপন্ন ছিলেন।

ফরিদের স্ত্রী রীনা জানান, ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার আসিয়ান ডাংগড়ি গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে ফরিদ পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন। মসজিদে বিস্ফোরণের আগের দিন দুই সন্তানের জনক ফরিদ ফতুল্লার তল্লায় মেয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। পরদিন এশারের নামাজ আদায় করতে গিয়ে দগ্ধ হন তিনি।

বিস্ফোরণের সময় নিহত আজিজ মসজিদের সামনেই তার লন্ড্রির দোকানে কাজ করছিলেন। বিস্ফোরণে দোকানের গ্লাস ভেঙে আগুনের স্ফুলিঙ্গ উড়ে এসে তার দোকানে ঢোকে।

advertisement
Evaly
advertisement