advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সীমান্তে হত্যা বন্ধে আবার আশ্বাস

১৪ বিষয়ে একমত বিজিবি-বিএসএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৯:৫২
advertisement

সীমান্তে হত্যা বন্ধে আবারও আশ্বাস দিয়েছে ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। এ ধরনের হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে বাহিনীটি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলেও জানিয়েছে। ঢাকায় তিন দিনের সীমান্ত সম্মেলনে তারা বরাবরের মতো একই প্রতিশ্রুতি শোনায়। এ ছাড়া সম্মেলনে ১৪টি বিষয়ে একমত হয় বিজিবি-বিএসএফ। এ সম্মেলন শেষে গতকাল শনিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন দুই বাহিনীর প্রধানরা।

সেখানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, সীমান্তে হত্যা বন্ধে বিএসএফের পক্ষ থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। তিনি সীমান্তে হত্যা বন্ধ এবং অপরাধ দমনে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। বিএসএফের প্রধান রাকেশ আস্থানা বলেন, আমাদের নীতি হচ্ছে, সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা। আমরা এটি করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই সম্মেলনে আমরা বিজিবিকে আশ্বস্ত করেছি যৌথ সমন্বিত টহলের মাধ্যমে এই কাজটি আমরা করব। সম্মেলনের শেষ দিনে গতকাল বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে মহাপরিচালকদের যৌথ দলিল সই হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাকেশ আস্থানা বলেন, বিএসএফ সদস্যরা সবসময়ই শেষ উপায় হিসেবে গুলি চালানোর বিষয়ে নির্দেশনা পেয়ে থাকে। একইসঙ্গে নন-লেথাল (প্রাণঘাতী নয় এমন) অস্ত্র ব্যবহারেরও নির্দেশনা রয়েছে। দুই দেশের সীমান্তে মাদক, পশু চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যুর ঘটনা অতীতে ঘটেছে। আমরা দুই বাহিনী সীমান্তে সংগঠিত অপরাধ বিষয়ে ‘রিয়েল টাইম ইনফরমেশন’ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে একমত হয়েছি। যারা এসব অপরাধের পেছনে কাজ করছে তাদের বিষয়েও তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।

নিজেদের কর্মকা-ের পক্ষে যুক্তি দিয়ে রাকেশ আস্থানা বলেন, অপরাধীরা সংঘবদ্ধ হয়ে টহল দলের ওপর হামলা করলে মারণাস্ত্র প্রয়োগ করা হয়। আমি কোনো হত্যার বৈধতা দিচ্ছি না। তারপরও আমাদের সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া আছে, যদি গুলি চালাতেই হয় তবে যেন শরীরের নিচের অংশে চালানো হয়। তবুও রাতে ভিজিবিলিটি (দৃশ্যমানতা) কম থাকায় অনেক সময় দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। ভবিষ্যতে আপনারা দেখতে পারবেন আমরা এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেব। সীমান্তে যেসব ঘটনা ঘটছে সেগুলোর বেশিরভাগই রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টার ভেতর। অপরাধীরা এই সময়ে তাদের কাজ চালায়। এসব অপরাধ দমন করতে গিয়ে এ বছর ৫২ জন বিএসএফ সদস্য আহত হয়েছেন।

সীমান্ত হত্যার বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, বেশিরভাগ ঘটনাই রাতে ঘটে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জন্য কেউ বর্ডার ক্রস করে ভারতে প্রবেশ করলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আমরা আবারও সীমান্তে যৌথ টহল শুরু করব। মাদক চোরাচালানের বিষয়ে তিনি বলেন, মাদকের বিষয়ে আমরা উভয়পক্ষ সচেতন। উভয়েই তথ্য আদান-প্রদান করে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছি।

গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই সম্মেলনে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক সাফিনুল ইসলাম। দলে ছিলেন অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও বিজিবি সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট স্টাফ অফিসার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যৌথ নদী কমিশন এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ছয় সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানা। তার দলে ছিলেন বিএসএফ সদর দপ্তর এবং ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সীমান্তে মৃত্যুর বিষয়ে বিজিবির উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় বিএসএফ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহারের নীতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং সব নিরস্ত্র, নিরপরাধ এবং মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিকে বিজিবি সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের আশ্বাস দেয়। বিএসএফ মহাপরিচালক সব ধরনের চোরাচালান বন্ধে গবাদি পশু চোরাচালানপ্রবণ অঞ্চলে যৌথ টহল শুরু করার প্রস্তাব করেন। বিজিবি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং উভয় বাহিনী একমত হয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো যে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করছে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চোরাচালানপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

সম্মেলনে মানব পাচার ও অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। উভয় মহাপরিচালক নিজ নিজ দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মানব পাচারে ক্ষতিগ্রস্তদের যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার ও পুনর্বাসনের সুবিধার্থে সহায়তা করতে সম্মত হয়েছেন।

সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ/পুশ-ইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই ব্যক্তিদের জাতীয়তা যাচাই করতে এবং একে অপরের সহযোগিতায় তাদের হস্তান্তর ত্বরান্বিত করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়। দুদেশেই পূর্ব অনুমোদন ছাড়া ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ না করা, যৌথ নদী কমিশনের অনুমোদন অনুযায়ী সীমান্ত নদীর তীর সংরক্ষণে সহায়তা এবং অননুমোদিত অভিন্ন নদীর তীর সংরক্ষণে কাজ না করতে সম্মত হয়েছে।

বিজিবি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বসবাসরতদের জন্য দৈনিক ভ্রমণ পাস দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে তারা ভারতে তাদের আত্মীয়দের দেখতে যেতে পারে। বিএসএফ এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে এবং উভয় বাহিনী এ জাতীয় সামাজিক ভ্রমণ সহজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা/মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে একটি প্রক্রিয়া তৈরির বিষয়ে সম্মত হয়েছে। আগামী নভেম্বরে ৫১তম সীমান্ত সম্মেলন ভারতের আসামের গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়।

advertisement
Evaly
advertisement