advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢুকছে ট্রাক, কমছে পেঁয়াজের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০৯:১৬
ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা শুরু করায় দা, কমতে শুরু করেছে। ছবি : সংগৃহীত
advertisement

পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর সাতক্ষীরার ভোমরা, দিনাজপুরের হিলি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা-মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজভর্তি ট্রাকগুলো গতকাল দেশে ঢুকতে শুরু করেছে। এমন সংবাদে একদিনের ব্যবধানে আরেক দফা পেঁয়াজের দাম কমেছে। গতকাল রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোয় পেঁয়াজের কেজিতে দাম কমেছে ৫ টাকা পর্যন্ত।

পেঁয়াজের সব থেকে বড় পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের কেজি গতকাল ৭০ থেকে ৭২ টাকায় বিক্রি হয়। একদিন আগে যা ছিল ৭৫ টাকা এবং তিন দিন আগে ছিল ৮৫ টাকা। অন্যদিকে এলসি পেঁয়াজ গতকাল মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজিতে। শুক্রবার এই দর ছিল ৫৫ টাকা এবং এর আগে ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

এদিকে দুদিন ধরে পাইকারিতে দফায় দফায় পেঁয়াজের দাম কমলেও রাজধানীর খুচরা দোকানগুলোয় শুক্রবার পর্যন্ত তার প্রভাব চোখে পড়েনি। তবে গতকাল খুচরা বাজারেও পেঁয়াজের দাম কমেছে। একদিনের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত কমে। অন্যদিকে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ছে। আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে পৌঁছলে দাম আরও কমবে।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে। যদিও এখনো বাছাই করা পাবনার দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। শুক্রবারও দেশি পেঁয়াজের খুচরা দাম ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। আগে যা ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

বাজারে পেঁয়াজের বিক্রি অনেক কমে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, গত সপ্তাহে মঙ্গল, বুধবার পেঁয়াজ কেনার হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন ক্রেতাই নেই। যারাও আসছেন, তারাও পরিমাণে অনেক কম করে কিনছেন।

অন্যদিকে দাম কমলেও তা নাগালের বাইরে থাকায় এখনো ক্ষুব্ধ সীমিত আয়ের ক্রেতারা। তাদের মতে, যে পরিমাণ দাম কমেছে, সেটাকে কমা বলে না। সবই ব্যবসায়ীদের মর্জিমতো চলছে বলে অভিযোগ তাদের।

এদিকে পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল তিনটি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরা থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ভারতের ঘোজাডাঙ্গা বন্দরে আটকে থাকা ২৫৫টি ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, আগের এলসি করা এসব পেঁয়াজ ভারতীয় সীমান্তে আটকে ছিল। ভারত তিনটি বন্দর দিয়ে ২৫ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাংলাদেশকে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণার পর গতকাল শনিবার দুপুরে পেঁয়াজ আসতে শুরু করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ভারতের মহদিপুর বন্দরে এলসির টেন্ডার করা আটকেপড়া পেঁয়াজের মধ্যে গতকাল বেলা ১১টায় ৭টি ট্রাক সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রবেশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনামসজিদ শুল্কস্টেশনের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, টেন্ডার করা আটকেপড়া সব পেঁয়াজ দু-একদিনের মধ্যে প্রবেশ করবে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতা আব্দুল আওয়াল জানান, আগের এলসির টেন্ডার করা পেঁয়াজ বাংলাদেশে দেওয়ার জন্য শনিবার মহদিপুর বন্দরে আটকেপড়া ভারতীয় পেঁয়াজের অনেক ট্রাক সিরিয়াল করা হয়েছে।

হিলি প্রতিনিধি জানান, শনিবার বিকাল থেকে হিলি চেকপোস্ট দিয়ে প্রবেশ করেছে ভারতীয় পেঁয়াজভর্তি ট্রাক। হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর-রশিদ জানান, আগের এলসি করা প্রায় ৩শ ট্রাকে ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আটকা পড়ে সীমান্তের ওপারে। ভারতীয় রপ্তানিকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সে দেশের সরকার আটকে থাকা পেঁয়াজগুলো রপ্তানির অনুমতি দেয়। ফলে শনিবার বিকাল থেকে হিলি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজবোঝাই ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ শুরু করেছে।

 

advertisement
Evaly
advertisement