advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ওয়াহিদা জনপ্রশাসনে স্বামী স্বাস্থ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও দিনাজপুর প্রতিনিধি
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০৩
advertisement

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। আর তার স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জের ইউএনও মো. মেজবাউল হোসেনকে বদলি করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পদায়ন করে সরকার। গত বুধবার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

কর্মকর্তারা জানান, ওয়াহিদাকে আপাতত আর কোনো পদায়ন না করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি রাখা হয়েছে। তিনি পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত জনপ্রশাসনেই সংযুক্ত থাকবেন। এ ছাড়া তার চিকিৎসার বিষয়ে স্বামী যেন সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখতে পারেন, সে জন্য তাকেও সচিবালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের ওপর মূল হামলাকারী বরখাস্তকৃত মালি রবিউল ইসলামই। দুই সাক্ষী অলিউল্লাহ হক এবং সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এ জবানবন্দি দিয়েছে। গতকাল হত্যাচেষ্টা মামলায় দুই সাক্ষীকে বিচারকের কাছে হাজির করে কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এই নিয়ে বিচারকের কাছে ৫ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলো। দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন গতকাল শনিবার দুপুরে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জানান, এ চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের বরখাস্ত মালি রবিউল ইসলাম রিমান্ডে থাকা অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে দুজনের নাম বলেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই দুই সাক্ষীকে শনাক্ত করা হয়। শনাক্ত করা সাক্ষী ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর কওমি মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সের ছাত্র মো. অলিউল্লাহ হক এবং ঘোড়াঘাট উপজেলার কুচারপাড়া গ্রামের কবিরাজ মশিউর রহমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (২৩)। এ দুজনকে গতকাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিশির কুমার বসুর আদালতে নেওয়া হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক আবু ইমাম জাফর দুই সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য বিচারকের কাছে আবেদন করেন। বিচারক শিশির কুমার বসু তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

পুলিশের সূত্র জানায়, এর আগে আরও ৩ সাক্ষী মুরাদ হোসেন, আইনুল ইসলাম ও খোকন আলীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

আসামি রবিউল রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে তৃপ্তি পরিবহনের বাসযোগে ওই দিন বিকাল ৫টায় ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর টিএন্ডটি বাসস্ট্যান্ডে নামে। সেখান থেকে হেঁটে রবিউল ওসমানপুর বাজারে যায়। সেখানে কবিরাজ মশিউর রহমানের দোকানের সম্মুখে বেঞ্চে বসে। ওই সময় কবিরাজের দোকানে তার পুত্র সাক্ষী সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বসেছিল এবং সিরাজের সঙ্গে রবিউলের কথাবার্তা হয়। দোকান বন্ধ হয়ে গেলে রবিউল রাত ১২টায় কওমি মাদ্রাসার সম্মুখ দিয়ে উপজেলা পরিষদে প্রবেশ করার সময় মাদ্রাসার ছাত্র অলিউল্লাহ হকের সঙ্গে দেখা ও কথা হয়।

এর পর রবিউল পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তার ব্যাগে থাকা পিপিই পরিধান করে উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে মই দিয়ে দ্বিতীয় তলার ভেন্টিলেটার দিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে ঘুম থেকে জাগিয়ে হাতুড়ি দিয়ে তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতে গুরুতর জখম করে। ইউএনওর চিৎকারে বাসায় থাকা তার বাবা ওমর আলী শেখ ঘটনাস্থলে এলে তাকেও রবিউল হাতুড়ি দিয়ে আঘাতে গুরুতর জখম করে। এর পর ইউএনওর বাসার চাবি নিয়ে রবিউল কিছু টাকা নিয়ে ওই বাসা থেকে নিরাপদে বের হয়। এর পর ভোররাত ৪টায় ওসমানপুর বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী হানিফ নৈশকোচযোগে বিরামপুরে আসে। বিরামপুরে তার গায়ের জামা, গেঞ্জি ও মাথার ক্যাপ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। এর পর বাসযোগে ২ সেপ্টেম্বর সকালে দিনাজপুরে আসে। দিনাজপুর শহর থেকে তার নিজের বাসা বিরল উপজেলা ধামারহাট ভীমপুরে যায়।

রবিউলের বক্তব্য তাকে অন্যায়ভাবে চুরির অভিযোগ চাপিয়ে ইউএনও ওয়াহিদা খানম গত জানুয়ারি মাসে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে ১ আগস্ট দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম রবিউলকে মালির চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন। এই ক্ষোভ ও অভিমানে রবিউল পরিকল্পনা করে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা চালায়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক আবু ইমাম জাফর জানান, আগামীকাল (আজ) রবিবার রবিউলকে বিচারকের কাছে সোপর্দ করে কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য হাজির করা হবে।

উল্লেখ্য যে, গত ২ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে তার বাসভবনে দুষ্কৃতকারী হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

advertisement
Evaly
advertisement