advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তিন শিক্ষক চালাবেন হাটহাজারী মাদ্রাসা

হেফাজতকে এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিলেন বাবুনগরী

হাটহাজারী প্রতিনিধি
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০৩
advertisement

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর রেখে যাওয়া বিভিন্ন দাবি দাওয়া এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী। গতকাল শনিবার জানাজার নামাজের আগে আল্লামা শফীর মরদেহ আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাঠে আনা হয়। জানাজার আগে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সেখানে বক্তব্য দেন। শেষ বক্তা ছিলেন জুনায়েদ বাবুনগরী।

এদিকে তিন জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের নির্দেশনা অনুসারে হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা পরিচালিত হবে। গতকাল শনিবার রাতে মাদ্রাসার মজলিসে শূরার এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ তিন শিক্ষক হলেন-মুফতি আবদুস সালাম, মাওলানা শেখ আহম্মদ ও মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহিয়া। এ ছাড়া মাদ্রাসার সাবেক সহকারি পরিচালক হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরীকে মাদ্রাসার প্রধান শায়খুল হাদিস করা হয়েছে। সে সঙ্গে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা সচিবের। ইতিপূর্বে আবদুস সালাম এই পদে ছিলেন। আর সহকারি শিক্ষা সচিব ছিলেন শফীপুত্র আনাস মাদানী। গতকাল রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও মজলিসে শূরার বৈঠক অব্যাহত ছিল।

মজলিসে শূরার বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সদস্য জানান, এ মুহূর্তে মাদ্রাসটি সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যাপারে কিছু জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পুত্র আনাস মাদানীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। গত বৃহস্পতিবার আনাস মাদানীকে বহিষ্কার করা হয় মাদ্রাসা থেকে।

জোহরের নামাজের আগে আল্লামা শফী স্মরণে সংক্ষিপ্তভাবে বক্তব্য রাখার ব্যবস্থা করা হয়। মাদ্রাসার দ্বিতীয় তলায় নিজ কক্ষের বাইরে এসে বাবুনগরী বলেন, আমার শিক্ষক ও সকলের মুরব্বি আল্লামা শাহ আহমদ শফী চলে যাওয়াতে আমাদের কওমি অঙ্গনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তবে অচিরেই হুজুরের রেখে যাওয়া হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে সামনে রেখে হেফাজত ও হাটহাজারী মাদ্রাসাকে আমরা সকলে এগিয়ে নিয়ে যাব। এ জন্য আপানাদের সকলের সহযোগিতা ও ত্যাগ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

নিজ অনুসারী বেষ্টিত হয়েই বাবুনগরী নিজ কক্ষের বাইরে আসেন। আবার বক্তৃতা শেষে অনুসারীরাই তাকে কক্ষে নিয়ে যান। এর বাইরে তিনি কারো সঙ্গে কথা বলেননি।

বাবুনগরী ছাড়াও হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক মওলানা শেখ আহম্মদ ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আশরাফ আলী নিজামপুরী বক্তব্য দেন। কয়েক মাস আগে মজলিসে শূরার বৈঠক ডেকে এ মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক পদ থেকে জুনায়েদ বাবুনগরীকে অপসারণ করা হয়। ওই পদে আনা হয় মাদ্রাসার অন্যতম জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শেখ আহম্মদকে। এ ঘটনার পর থেকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় আল্লামা শফী ও বাবুনগরীর অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। গত বুধবার তা সহিংস আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে বাবুনগরীর অনুসারীরা রাতে হাটহাজারী আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলামের (হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা) কর্তৃত্ব নিয়ে নেয়। তারা আল্লামা শফীর কক্ষ ভাঙচুর করে। বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করে ও কিতাব ছিঁড়ে ফেলে। বৃহস্পতিবারও এ তা-ব অব্যাহত থাকলে ওইদিন রাতে মজলিসে শূরার জরুরি বৈঠক ডেকে শফীপুত্র আনাস মাদানীকে মাদ্রাসার সব ধরনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাতেও পরিস্থিতি শান্ত না হলে আল্লামা শাহ আহমদ শফী নিজেই মহাপরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এর পরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী মাদ্রাসার ভেতরে অবস্থান করে জানাজার নামাজে শরীক হন। তিনি মাদ্রাসার বাইরে আসেননি। তার মতো অনেকেই মাদ্রাসার ভেতরে থেকে জানাজায় অংশ নেন।

১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর হেফাজতে ইসলাম রাজধানীর শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী। দলে তিনি সরকারবিরোধী হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে নমনীয় স্বভাবের আচরণের কারণে শাপলা চত্বর কর্মসূচি পরবর্তী সময়ে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সঙ্গে সরকারের সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। তবে বরাবরই দূরে থেকে যান বাবুনগরী।

advertisement
Evaly
advertisement