advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সীমানা বিরোধে ৪ মাস ধরে একঘরে ঢাবিছাত্রের পরিবার

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৫:২১ | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ ১৫:২৩
পরিবারের সঙ্গে জুয়েল। ছবি : আমাদের সময়
advertisement

বাড়ির সীমানা বিরোধে চার মাস ধরে জুয়েল খান নামের এক মেধাবী ছাত্রের পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ওই পরিবারের কেউ সমাজের অন্য কোন লোকের সঙ্গে মেলামেশার চেষ্টা করলে তাদের বাড়িঘরও ভেঙে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তারফপুর পাথালিয়াপাড়া গ্রামে।

জুয়েল খান উপজেলার তরফপুর পাথালিয়াপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে। তিনি নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর ৪০তম বিসিএস-এ লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, বাড়ির সীমানা নিয়ে জুয়েল খানের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী আবদুর রশিদ খানের ছেলে শরিফুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে গত ১ মে শরিফুল ইসলামের লোকজন লাঠিসোটা ও লোহার রড নিয়ে জুয়েলদের বাড়িতে এসে পরিবারের সদস্যদের মারপিট করে। এ ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন- শরিফুল ইসলাম, আবদুল বাছেদ মিয়া, রমজান আলী, আবদুল লতিফ, তারিকুল ইসলাম ও লিটু আনাম।

এ সময় জুয়েলকে উদ্দেশ্য করে একই গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মাসুদ বলেন, তুই খ্রিস্টান কলেজে (ঢাকার নটরডেম কলেজ) লেখাপড়া করেছিস। এ ছাড়া তুই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় লেখাপড়া করেছিস। নটরডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা বাংলায় লেখাপড়া করে তারা নাস্তিক। তুইও নাস্তিক। নাস্তিকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। এ সময় জুয়েলের পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেন তারা।

জুয়েল ও তার ভাই মারুফ খান এসব কথার প্রতিবাদ করলে রফিকুল ইসলাম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা জুয়েল ও তার বৃদ্ধ বাবা মফিজুল ইসলাম, মা আমেনা বেগম, নানী ইয়ারন বেগম, ভাই মারুফ খান এলোপাতাড়ি মারপিট করে আহত করে। এ সময় তাদের লাঠির আঘাতে জুয়েলের বৃদ্ধা নানী ইয়ারন বেগমের ডান হাতের পাখনার হাড় ভেঙে যায়। তাদের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলাস্থ জামুর্কী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এই ঘটনার পর থেকে ওই পরিবারটিকে সমাজচ্যুত করে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ঈদুল আজহায় পরিবারটিকে সামাজিকভাবে পশু কুরবানিতেও অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ওই পরিবারের কেউ সমাজের অন্য কোন লোকের সঙ্গে মেলামেশা করার চেষ্টা করলে তাদের বাড়িঘরও ভেঙে এলাকা ছাড়া করা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পরও জুয়েলের পরিবারের বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে জুয়েলের মা আমেনা বেগম জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষই থানায় ও কোর্টে মামলা করেছেন বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে তরফপুর পাথালিয়া পাড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে একাধিক লোকজনের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে গ্রামের মাতব্বর তরফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আবদুল বাসেদ মিয়া বলেন, ‘দুই পরিবারের বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে আমরা মামলার আসামি হয়েছি।’

এ ব্যাপারে মিজাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, গ্রামের কয়েকজন মাতব্বর মিলে জুয়েলের পরিবারকে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেয়। বিষয়টি খুবই অমানবিক। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

advertisement
Evaly
advertisement