advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

২২৭ কোটি টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেছেন সম্রাট

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ ০১:৩৩
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। পুরোনো ছবি
advertisement

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে ২২৭ কোটি টাকা পাচারের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রবিবার দুদক থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের সূত্র জানায়, গত বছরের ১২ নভেম্বর দুদক ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলা করে। এজাহারে বলা হয়, সম্রাট অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে এ টাকা অর্জন করেছেন। সে সময় মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। তদন্ত পর্যায়ে তিনি সম্রাটের সম্পদ ও বিদেশে পাচারকৃত অর্থের খোঁজে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, সম্রাট ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে প্রায় ২২৭ কোটি টাকার পাচার করেছেন। এসব অর্থ তিনি পাঠিয়েছিলেন নন ব্যাংকিং চ্যানেলে।

অভিযোগ রয়েছে, সম্রাট মতিঝিল ও ফকিরাপুল এলাকায় ৮টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং এসব ক্লাব থেকে নিয়মিত অর্থ নিতেন। এ অর্থ দিয়ে ঢাকার গুলশান, ধানমন্ডি ও উত্তরাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও বাড়ি নির্মাণ করেন। এ ছাড়া তার সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রে নামে-বেনামে ১ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

এদিকে সিআইডিও সম্রাটের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় ১৯৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় মামলা করে। সিআইডির এসআই রাশেদুর রহমান বাদী হয়ে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এ মামলা করেন। মামলায় বলা হয়েছে, সম্রাট কাকরাইলের মেসার্স হিস মুভিজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বসতেন। সেখান থেকে মতিঝিল, ফকিরাপুল, পল্টন, কাকরাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ কর্মকা- চালাতেন। ২০১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সম্রাট অন্তত ৩৫ বার সিঙ্গাপুরে, তিনবার মালয়েশিয়ায়, দুবার দুবাইয়ে, একবার হংকংয়ে গেছেন। তিনি ২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উপার্জন করেন। এসব অর্থের উৎস গোপন রেখে তার সহযোগী এনামুল হক আরমানের মাধ্যমে সম্রাট সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ায় আনুমানিক ১৯৫ কোটি টাকা পাচার করেছেন।

সম্রাটের সহযোগী আরমানের বিরুদ্ধেও দুদক ২ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি মামলা করে। এজাহারে বলা হয়, আরমান ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৮ মে পর্যন্ত সময়ে ২৩ বার সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করেছেন।

গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় র‌্যাবের অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সম্রাট আত্মগোপনে চলে যান। এর পর ৭ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও আরমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ওইদিন বিকালে সম্রাটকে সঙ্গে নিয়ে তার কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারের অফিসে অভিযান চালিয়ে গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, ১ হাজার ১৬০টি ইয়াবা, ১৯ বোতল বিদেশি মদ, দুটি ক্যাঙ্গারুর চামড়া এবং নির্যাতন করার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। ক্যাঙ্গারুর চামড়া রাখার কারণে সম্রাটকে তাৎক্ষণিকভাবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ৬ মাসের কারাদ- দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া রমনা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে আরও দুটি মামলা হয়। এর পর থেকেই সম্রাট কারাগারে আছেন।

advertisement
Evaly
advertisement